আমার চাতক চোখে তুমি হবে দূরের আকাশ... সৌদিদের বর্বরতা ও অমানুষিকতা কারো নিকট গোপন নয়। ৮ জন বাংলাদেশীকে ফাঁসী দেয়ার ঘটনায় আমাদের অনেক বাঙাল সৌদি আরবকে বাহবা দিচ্ছে। তাদের ভাব-ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে যেন স্বয়ং মহানবী (স.)-ই ওদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো! আর তারা যে কাজটা করেছে তা এক্কেবারে শরিয়তের ভিত্তিতে হয়েছে।
একজন বড় মনীষীর কথা, জানি না হাদীসে আছে কিনা, তবে ঐ মনীষী বলেছিলেন : ‘পাপীকে নয় পাপকে ঘৃনা কর’।
আমি একজন নগন্য মুসলমান, কুরআন হাদীস সম্পর্কে মদিনা ইউনিভার্সিটি ফেরতদের মত অত মহাজ্ঞান আমার নেই, তবে যতটুকু ধর্মীয় পড়াশুনা আমার আছে তার ভিত্তিতে আমার জানা মতে একজন চোরের শাস্তি –তার চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর- হচ্ছে তার আঙ্গুল কেটে নেয়া, তবে শর্ত হচ্ছে যে, এ বিষয়টি দেখতে হবে যে, ঐ চোর পেটের দায়ে চুরী করেছে নাকি অভ্যাসের বসে এবং তার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সে ঐ কর্মটি করেছে।
যদি তার অভাব প্রমাণিত হয় তবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
সৌদি আরবের মালিক গুষ্ঠি কর্তৃক তাদের গোলাম (বাংলাদেশী) দের (তাদের দৃষ্টিতে) প্রতি অত্যাচারের বিষয়টি কারো অজানা নয়। আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয় তবে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে যারা সৌদি আরবে কাজ করে তাদের কারো সাথে কথা বলার সুযোগ পেলে কথা বলে নিবেন, আপনার নিকট বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। এমন কিছু অসহায় লোকের সাথে কথা বলার দূর্ভাগ্য এ অধমের হয়েছে, আমি তাদের সাথে আমার কথোপকথনের সারাংশ তুলে ধরলাম :
১। আমার এক প্রতিবেশী চাচা, দীর্ঘ ৮ বছর যাবত সৌদি আরবে ছিলেন, হাতে একটা মুতো (সরি) নিয়ে বাড়ী আইছেন।
অথচ ঐ চাচাকে কোন আকাম-কুকাম বা ধর্ম বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হতে দেখিনি। তার মুখ থেকে শুনলাম, চাচা বললেন : দীর্ঘ ৩ বছর আমার মালিক অতি অনুগ্রহ করে ভিক্ষা দেয়ার মত করে আমাকে বেতন দিত প্রতি মাস হিসেব করে ৩০০০ হাজার টাকা। কিন্তু অধিকাংশ সময় মাস শেষে আমার টাকা দিতে সে টালবাহানা করতো। তার কাছে টাকা চাইলেই বলতো : ‘বুকরা’ কাইলকে আইসো। কিন্তু ওর কাইল কোনদিন আর আসতো না।
এদিকে আমার পরিবার আমার পাঠানো টাকার উপরই ডিপেন্ডেড। তাই তাদেরকে ফোন করলেই টাকার কথা বলত। এক সময় মনে করলাম তারা হয়তবা ভাবছে আমি টাকা বাজে কাজে নষ্ট করছি। কিন্তু আমার তো কোন বদ অভ্যাস নেই, ওদেরকে কোনভাবেই আমি বোঝাতে পারলাম না যে, আমার মালিক আজ ৬ মাস হয়ে গেল আমার কোন বেতন দেয়নি। আমি আমার মালিককে শেষে বলেছিলাম তোর শরীরে আবু জেহেলের রক্ত, জাহান্নামে সবার আগে তুই যাবি।
সারাদিন আমাকে দিয়ে গরমের রোদের তাপে খাটিয়ে নিস, কিন্তু বেতন দেয়ার বেলায় তুই দিস না।
*** হয়তবা ঐ অসহায় বাঙ্গালীরা পেটের দায়ে এমন কাজ করেছে, বা তাদের দেয়ালে পিট ঠেকে গেছে, যার পর তারা এমন কাজ করেছে, বা তারা মাসের পর মাস বাড়ীতে বেতন পাঠাতে না পেরে অবশেষে সংসার বাচাতে এমন একটি পথ বেছে নিয়েছে। অবশ্য এক শ্রেণীর অসাধু লোক যে, রয়েছে তা আমি অস্বীকার করবো না, হারামীগুলোর জন্য সারা বিশ্বে বাঙ্গালীদের বদনাম হয়, ওদের কল্লা কাটলে খুশী হইতাম।
(চলবে)
অপেক্ষায় থাকুন, পরবর্তী পোষ্টে ব্লগের কিছু বাঙাল কেন সৌদি আরবের পা চাটা ..রের মত ঘেও ঘেও করে তাও বলবো...
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।