আমি হব সকাল বেলার পাখি সদ্য বিদায় নেওয়া আগস্ট মাসে ১১ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা প্রায় ১২ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা এবারও অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর কারণে এ প্রবাহ বেড়েছে বলে ধারণা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, এবার আগস্টে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১০৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা দেশে ৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত জুলাইয়ে ১০১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে।
জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে রেমিট্যান্স বেশি এসেছে ছয় কোটি ২৬ লাখ ডলার। এ ছাড়া গত অর্থবছরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি মাসেও রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। এতে চলতি অর্থবছরের এ গতি ঠিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম উৎস মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনশক্তি রপ্তানি কমার ফলে চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈধপথে দেশে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের নতুন করে এঙ্চেঞ্জ হাউস খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে অবস্থানরত স্বজনদের কাছে যথাসময়ে অর্থ পেঁৗছে দিতে ই-পেমেন্ট, পোস্ট অফিস ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে রেমিট্যান্স আয় উত্তরোত্তর বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থবছর দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এর আগের বছর এসেছিল প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলার।
সে হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর ৬ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অস্থিরতার মধ্যেও ওই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। যদিও আগের বেশ কয়েক বছরের তুলনায় গত বছরের প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ কম। রেমিট্যান্স বাড়াতে মধ্যপ্রচ্যসহ অন্য দেশগুলোয় জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো, রপ্তানিকৃতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাইরে পাঠানো এবং বৈশ্বিক মন্দা-পরবর্তী সময়ে যেসব দেশের শ্রমিকরা চাকরি হারান, তাঁদের চাকরি ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। গত কয়েক মাস রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারা ঠিক থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স আয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরাবরের মতো গত আগস্ট মাসেও সব চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এ সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। বিদেশি খাতের ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮০ লাখ ডলার। আর বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।