আমি একজন সাধারণ মানুষ আমার বড় ভাই এর বাসায় বেড়াতে গেলাম একদিন। দুই বাচ্চাকে আমার দায়িত্তে রেখে ভাইয়া ভাবি একটু বাইরে গেল। মেয়েটার বয়স ৬ আর ছেলেটার ৩। ওরা বসার ঘরে বসে খেলছে আর আমি নজর রাখছি যেন বেশি দুষ্টামি না করে।
একটু পর জানালা দিয়ে দেখি পাশের বাসার একটা ছোট মেয়ে সামনের খোলা জায়গায় হেটে বেড়াচ্ছে।
তার সাথে তাদের কাজের মেয়ে। সমবয়সী বাচ্চা দেখে আমার ভাতিজীর গল্প করার ইচ্ছা হল। সে জানালার পাশে বসে গল্প শুরু করল।
তোমার নাম কি, কোন স্কুলে পড় এইসব কথাবার্তার পর শুরু হল আসল মজা। আমার ভাতিজী অন্য মেয়েটাকে জিগায় "তুমি মেয়েদের মত ড্রেস পড়েছ কেন?" জবাব আসল "আমি যে মেয়ে"।
আমার ভাতিজীর পাল্টা জবাব "কে বলেছে তুমি মেয়ে? তুমি তো ছেলে!!"
শুনে আমি টাসকি খেয়ে পড়ে গেলাম। আমার ভাতিজীকে কোন ভাবেই বোকা বলা যায় না। ওর বয়সী বাচ্চাদের তুলনায় বরং অনেক বেশি বুদ্ধি রাখে। ও একটা মেয়েকে ছেলে কেন বলছে কিছুই বুঝলাম না।
মেয়েটার চেহারা দেখে বুঝলাম সেও টাসকিত! সে একটু অবাক হয়ে বলল "আমি মেয়ে তো!"
তখন আমার ভাতিজীর ব্যাখ্যা শুরু হল।
"তুমি জানো না তুমি ছেলে? তোমার তো মাথার চুল ছোট। মেয়েদের চুল বড় হয় আর ছেলেদের চুল ছোট হয়। দেখ নাই আমার চুল বড় আর আমার আম্মুর চুল বড়? কারণ আমরা মেয়ে। আর আমার আব্বুর আর ছোট ভাই এর চুল ছোট। কারণ ওরা ছেলে।
তোমার চুল তো ছোট। তুমি অবশ্যই ছেলে!!" একই সাথে নিজের লম্বা চুল দুলিয়েও দেখিয়ে দিল!
এমন অকাট নির্ভুল যুক্তি শুনে তো মেয়েটা একদম হা। আত্মপরিচয় নিয়ে সন্দেহের দোলায় দুলতে দুলতে নিজের সংগীকে জিগ্যেস করল "আমি মেয়ে না?"। তার কাছে অভয়বাণী শুনেও নিশ্চিত হতে পারল না। দ্রুতবেগে বাসার দিকে হাঁটা দিল।
আর আমার ভাতিজী একটি "ছেলে"কে আত্মপলব্ধি করানোর তৃপ্তি নিয়ে আবার খেলায় মনোনিবেশ করল! `
এইদিকে কাহিনী দেখে আমার হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার দশা!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।