জানতে ভালোবাসি,...তাই প্রশ্ন করি... এ কি কম কথা? উইকিলিকসে কি যার তার নাম আসে? উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ডিপ্লম্যাটিক কেবল ফাঁস করেছে সেখানে আছে চীন, জাপান, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের কথা, সৌদি বাদশাহর কথা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সিআইএ প্রধানদের কথোপকথন, সাক্ষাতকার বা সংশ্লিষ্ট রিপোর্টের কথা।
তো সেই তালিকায় আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রীও জুড়ে গেলেন। তিনি এখন যে বাজ (উপপদটির আগে ক্রিয়াপদ বসানোর ক্ষেত্রে পাঠকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হল)-ই হোন না কেন, তিনি এখন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানুষ।
বাংলাদেশে বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সম্পর্কে এত অল্প সময়ে যত প্রতিবেদন, মন্তব্য, কলাম ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে, এত কম সময়ে কোন জীবিত ব্যাক্তির এমন সৌভাগ্য হওয়ার নজির এ দেশে নেই। দেশের অনেক বাঘা বাঘা মানুষই এর আগে মিশুক মুনীর নামটি শোনেন নি।
কিন্তু এখন দেখুন, মিশুক মুনীর দিব্যি দেশব্যাপী পরিচিত পেয়ে গেছেন। পেয়েছেন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলেই।
সেক্ষেত্রে আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যাতিক্রম। তাঁকে নিয়ে কবিতা লেখা হল। কার্টুনিস্টরা আবুল হোসেনের কার্টুন আঁকতে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা পর্যন্ত করতে পারলেন না।
অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ক্যানাডা, সাউথ আফ্রিকা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, কোথা থেকে আবুল হোসেনকে নিয়ে লেখা আসেনি? অ্যামেরিকা আর ইংল্যান্ডের কথা বাদই দিলাম। যেখানে বাংলাদেশিরা আছেন সেখান থেকেই মন্তব্য উড়ে এসেছে।
কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি।
তিনি বলেছেন রাস্তাঘাটের অবস্থা এত ভালো কোন দিন ছিল না।
অন্য দেশেও মন্ত্রীদের এমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার নজির রয়েছে।
কিন্তু সভ্য দেশগুলোতে সেই আলোচনাগুলোর অবসান হয় সেই মন্ত্রীর পদত্যাগ বা পদচ্যুতি দিয়ে। পদত্যাগের পর মিডিয়া অ্যাটেনশানের ইতি ঘটে। তার বহুদিন পর সেই মন্ত্রীর একটি ছবি ছাপা হয়, হয় তিনি কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, নয়তো কোন ছোট পরিসরের সামাজিক অনুষ্ঠনানে অংশ নিয়েছেন, নয়তো শুধুই পথে ঘাটে চড়ছেন। প্রতিবেদন ছাপা হয় কীভাবে তিনি অবসর কাটাচ্ছে তার উপর।
আমাদের মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি।
তিনি বলেছেন এবারের আওয়ামী লীগ সরকার রাস্তার যত কাজ করেছে তত কাজ কোন কালে হয়নি।
এর আগে রাজনীতিবিদদের হাসির কোন প্রতিযোগীতা হয়নি। তবে বাজি ধরে বলা যায়, তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর আহত ঢালী আল মামুনকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরুবার সময়ে আবুল হোসেনের দেয়া হাসিটি মন্ত্রীদের দীর্ঘতম হাসির তালিকায় সমালোচক পুরষ্কার পাবে। ঐ হাসপাতালের চত্বরেই উপস্থিত ব্যাক্তিবর্গ যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে শ্লোগান দেন।
কিন্তু আমাদের মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি।
তিনি বলেছেন রাস্তার কারণে দুর্ঘটনা হয় না। তারেক মাসুদরা সিটবেল্ট পরলে তারাও মরতেন না।
আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে বলেনি কে? ডান, অতিডান, বাম, অতিবাম, সাম্প্রদায়িক বা অসাম্প্রদায়িক, সব দলের সব চিন্তার আর সব বিশ্বাসের কর্মী, সমর্থক, বুদ্ধিজীবি, সবাই বলেছেন। তারা শহীদ মিনারে গিয়েছেন, পত্রিকায় লিখেছেন। এসব যারা করেননি তারা বাস-ট্রেন গরম করেছেন, চায়ের দোকান আর বাড়ির ডাইনিং টেবিল বাজিয়েছেন।
কিন্তু আবুল পদত্যাগ করেননি।
তিনি বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না।
তো কী লাভ হল ওসব করে? বাড়ির লোকজনের সাথে ঈদ করলেন না। দিন গেল রাত গেল কিছু খেলেন না। কড়া রোদে শহীদ মিনারে বসে চেহারা ধ্বসে গেল, ঘামে জামা ভিজে দুর্গন্ধ হয়ে গেল।
সংসদে আওয়ামী লীগের এমপিরা চেঁচালেন, এক এমপি আমরণ অনশনে যাবার কথা বললেন, কিন্তু লাভ হল? নামাতে পারলেন আবুলকে?
পারেন নি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।