চট্টগ্রাম শহরে খুলসীর বিশ্ব কলোনিতে রোববার ধসে পড়া পাহাড়টি প্রশাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের তালিকায় ছিলো না। এ জন্য পাহাড়টির মালিক গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে দুষছে সংশ্লিষ্টরা।
এ বালুর পাহাড়টির একটি অংশ খাড়াভাবে কেটে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধভাবে জমি বিক্রি করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক।
খুলশী থানার বিশ্ব কলোনি জি ব্লকের পাশের অংশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা এ ধরনের একটি অবৈধ বসতিতেই ধসে নেমে নিহত হন মামাতো-ফুফাতো দুই ভাই। আহত হন আরেক ভাই ও তার স্ত্রী।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইসমাইল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই পাহাড়ের মালিক গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ বা এর পাদদেশে বসতি থাকার বিষয়টি তারা আমাদের না জানানোয় এটি তালিকার মধ্যে ছিলো না। "
তিনি জানান, ওই পাহাড় কেটে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে জায়গা দখল করে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেছে। এসব দখল বিক্রি হলেও বসবাসকারীদের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।
পাহাড় ধসে বেঁচে যাওয়া ফখরুল রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তাদের পরিবার ছয় বছর আগে জমির আহমদ ও জামাল নামে দুজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন।
ওই এলাকায় ১০০ এর উপর এরকম দখল কিনে অবৈধ বসতি রয়েছে বলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়।
এর আগে গত ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকায় বাটালি হিলের রিটেইনিং দেয়াল ধসে মারা যায় পাঁচ পরিবারের শিশু ও মহিলাসহ ১৭ জন। এ ঘটনার পর ৭ জুলাই চট্টগ্রামের শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি নগরীর ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের তালিকা করার নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি পাহাড় মালিককে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি তিন সপ্তাহেও
নগরীর ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের তালিকা জমা দিতে বলা হলেও গত তিন সপ্তাহেও তা হয়নি।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরোনোর ২২ দিন পর শুধু একে খান শিল্প গ্রুপ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট তাদের তালিকা জমা দিয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের মালিকানার পাহাড়ের বসতির তালিকা তৈরি করলেও জমা দেয়নি বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেন।
অন্যান্য পাহাড় মালিকরা এখনো তাদের তালিকা জমা দেয়নি বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে ছাড়া অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছে ওয়াসা, পুলিশ, সিডিএ ও গণপূর্ত বিভাগের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানও।
যেভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা
বিশ্ব কলোনির ওই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা রোববার সকাল ৬টার দিকে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মাটি চাপা পড়েন।
এতে একটি বাড়ির তিনটি কক্ষ ধসে পড়ে।
পাহাড়ের সঙ্গে লাগোয়া কক্ষে একই খাটে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটি চাপা পড়েন দুই ভাই মোশাররফ ও জামাল।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া তাদের ভাই ফখরুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ওপর থেকে বিকট শব্দে বিশাল বিশাল চারটি পাঁচটি মাটির খণ্ড বাড়ির টিনের ছাউনির ওপর পড়ে। এতে তিনটি কক্ষ মিশে যায়।
ফখরুল ও তার স্ত্রী সুমি আক্তার সকালে সেহরির পর আর ঘুমাননি। সকালে কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে মাটির কয়েকটি ছোট খণ্ড পড়ার শব্দে পিছিয়ে এলেও কোমর পর্যন্ত মাটিচাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মাটিচাপা পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন তাদের।
পেশায় ট্রাকের হেলপার ফখরুলের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে ছয় জন তাদের পরিবার নিয়ে ছয় কক্ষ বিশিষ্ট ওই টিনের বাড়িতে থাকতেন। তার ফুফাতো ভাই মোশাররফও মাঝে মাঝে ওই বাড়িতে এসে থাকতেন।
.......শিমুল ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।