* আমি খুজে বেড়াই নিজেকে *
নামি দামী রেষ্টুরেন্ট খাবারের দাম একটু বেশী আবার একটু না, অনেক বেশী। এসব অনেকেই মেনে নেয়, খাবারে কোয়ালিটি, ব্র্যান্ডের জন্য, এনভায়রনমেন্ট একটা উপলক্ষ থাকে। সাথে সার্ভিস চার্জ নেয়, ভ্যাটতো থাকবেই। কিন্তু বাজারে প্রচলিত পন্যের ক্ষেত্রে কোম্পানি বা পরিবেশক কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি হবে এটার কোন যৌক্তিকতা খুজে পাওয়া মুস্কিল। কোন সদুত্তর কেউ কখনো দেয়নি।
সাধারন পানীয়ের ক্ষেত্রেই বলা যায় যা সকলের জন্য লক্ষ্য করা সহজ।
অনেকদিন বাদে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে গেলাম, আমার স্ত্রীর বেশ কিছুদিন যাবত বলছে দই ফুসকা খেতে ইচ্ছে করছিলো। বসুন্ধরায় গিয়ে খাবে। কিন্তু মিরপুর থেকে বসুন্ধরা যেতে এবং বিশেষ করে ফিরার পথে যে বিড়ম্বনা তাতে এই সব ছোটখাট শখ আহ্লাদ আর থাকে না। গতকাল অনেক সাহস করে গেলাম।
অবশ্য আরেকটা কারন আছে, তার আগের দিন আমার ছেলে আহানের জন্মদিন ছিলো, উপহার স্বরুপ সে কিছু টাকাও পেয়েছে। ভাবলাম এই টাকা দিয়ে কিছু কিনে দিই। কারন নগদ টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে।
গতকাল অফিস থেকে বাসায় ফিরে বিকেলে রওয়ানা দিয়েছি, বাস থেকে বের হয় বিপত্তি, সিএনজি ট্যাক্সি খালি অবস্থায় বসে আছে। কেউ যেতে চায়নি ১০ মিনিট অপেক্ষা করে একটা কালো ট্যাক্সি পাওয়া গেলো, বসুন্ধরা শিপিং কমপ্লেক্সে সে যাবে।
কিন্তু ২০০টাকা ভাড়া দিতে হবে, একদাম। মিরপুর-২ থেকে বসুন্ধরা ২০০টাকা। বললাম মিটারে চলেন, জবাব মিটার নষ্ট, যাবেন কিনা বলুন। বলে ট্যাক্সি চলে যেতে উদ্যত। থামালাম, চলেন যাই, কি আর করা।
উঠে বসলাম ট্যাক্সির বর্ননা দেয়ার আসলে কিছু নাই, এমন নোংরা লক্কড় ঝক্কড় ট্যাক্সি দুনিয়ায় আর কোথায় ও থাকলেও থাকতে পারে। রাস্তায় অবিন্যস্ত গাড়ির চলাচলের কারনে শুক্রবারেও জ্যাম লেগে একাকার। প্রায় ৪৫মিনিট পরে বসুন্ধরায় পৌঁছলাম।
সামান্য কিছু কেনাকাটা করে গেলাম সাধের দই-ফুসকা খেতে। সাথে ড্রিংকস হিসেবে একটা মাম পানির বোতল ও এক লিটার কোমল পানীয়! সেভেনআপ অর্ডার করলাম।
এ্যাডভান্স বিল পে করে চোখ বুলালাম বিলে কোনটার মুল্য কত দেখি। মাম পানি আর স্প্রাইটের দাম দেখে মেজাজ ধরে গেছে। সেভেনআপ গায়ে দাম লিখা ৬০টাকার পরিবর্তে ৫৫টাকা। কিন্তু বিলে এটার দাম ধরা হয়েছে ৮০টাকা। আর মাম পানি মুল্য ২০টাকা, বিলে পানির মুল্য ৩০টাকা।
জানতে চাইলে সে যে কি বলল না বুঝে সিটে এসে খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি……..। আর ভাবতে থাকি এর নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে এটো বেশী মুল্য রাখার কি কারন হতে পারে। কোন হিসেব মেলাতে পারিনি। তবে সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি সহজেই সেটা হলো আমরা যারা গ্রাহক বা ভোক্তা তারা হলাম অসহায়, দুর্বল, এবং ভোদাই। যে যেভাবে চায় সেভাবেই ভোক্তাদের যেমন খুশি তেমন ভাবে জবাই করতে পারে।
ভোক্তাদের কোন অধিকার থাকতে নেই। দেশে বা দুনিয়ায় যত অপকর্ম হবে তা ভোক্তাদের উপর দিয়েই যাবে।
শুধু বসুন্ধরা ফুডকোর্ট নয়, সকল কথিত অভিজাত বা সেমি অভিজাত সকল রেস্টুরেন্টেই এই অবস্থা।
বসুন্ধরা কাজ শেষে ফেরার কথা আসতেই একরকম অস্বস্তিতে ভোগা শুরু করলাম। যাহোক সবাই মিলে নেমে রাস্তার পাশে সবাইকে দাঁড় করিয়ে সিএনজি বা ট্যাক্সি খুজতে লাগলাম।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি বা ট্যাক্সির অভাব নেই। কিন্তু সাধের মিরপুর কেউ যাবেনা। অনেক ড্রাইভার মিরপুরের কথা শুনে হ্যাঁ বা না এই কথাটিও বলতে অনাগ্রহ এবং বিরক্ত। আমার সদ্য ১ বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে ১ ঘন্টারও বেশী সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় রাত সাড়ে নয়টায় একটা সিএনজি পেলাম, ভাড়া দিতে হলো ২৫০ টাকা। সিএনজিতে উঠে স্ত্রীকে বললাম আর কখনই বসুন্ধরা আসার দরকার নেই।
সেও সায় দিলো, পরে আস্তে আস্তে বলল দরকার হলে সকাল বেলা আসব এসে দুপুরের মধ্যে বা বিকেলের আগে ফেরত যাবে, আমি আর না করতে পারিনি।
সর্বশেষ উপলব্ধি হলো ভোক্তাগন হলো গাধার মত। যতই ওজন উঠানো হোক গাধা ঠিকই ওজন নিয়ে রওয়ানা হবে, আর ভোক্তারা হলো অনেকটা এরকম, যেভাবেই হোক ভোক্তাদের চুষে নিতে হবে, ভোক্তাগন দুদিন বকবক করবে, তিন দিনের দিন নিজের বাজেটে পরিবর্তন আনবে আর নাহলে দুনিয়াতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নাই, থাকলেও ছারপোকা, তেলাপোকার মত।
এতো সব ঘটনা যে গতকালই প্রথম তা মোটেই নয়, হরহামেশাই এসব ঘটে। প্লাটফরম পাওয়া গেলো তাই দু’লাইন লিখার চেষ্টা করা আর কী! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।