আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ ঘুরে এলাম

তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহার, বিপুল যাহার আশা, অটল যাহার সাধনা দেশে এসেছি দশদিন পার হয়ে গেল। ব্যস্ততাঢ কেটে যাচ্ছে সময়। ২১শে জুন রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ ঘুরে এলাম সাতজন মিলে। ঢাকা থেকে দুপুরের ট্রেনে চড়ে রাজশাহী নেমেছি রাত সাড়ে দশটায়। মোটেও অবাক হইনি পৌনে তিনটার ট্রেন চারটায় ছাড়তে দেখে।

সিল্কসিটি নামের এ ট্রেনটিতে আমি আগেও একবার চড়েছিলাম এর উদ্বোধনের বেশ কিছুদিন পর। তখনো এর বিভিন্ন বগিতে ফুলের মালা ঝুলছিল এবং ভেতর বাইরের রং বাহার চকচক করছিল, এবার এ কয়েকবছরে ট্রেনটি তার জৌলুস হারিয়েছে অনেকখানি। রং চিটচিটে আর ময়লায় ভরা। গতিতে নেই দ্রুততা ও মানুষের গাদাগাদিতে ট্রেনটির অবস্থা ঠেকেছে দূরাবস্থায় গিয়ে। পেপার পড়ে আর মাঝে মাঝে ক্যামেরায় ছবি তুলে সময় পার করছিলাম।

সন্ধ্যার পর একটু ফাঁকা হয়ে এলে গল্প জমেছিল আমাদের এবং এভাবেই ট্রেন গিয়ে ঠেকেছে রাজশাহী স্টেশনে। রাতে নেমে খেয়ে দেয়ে হোটেল খুঁজতে গিয়ে বেশ পাকামী করলো আমাদের দলনেতারা। সাতশ থেকে হোটেল ভাড়া করতে করতে আরও কম পাওয়ার আশায় রাত বারটায় যে হোটেলে উঠতে বাধ্য হলাম তাতে ভাড়া গুণতে হল সাড়ে এগারশ টাকা। ময়লা চাদর, মশার উৎপাত আর বিদ্যুতের খেলায় রাতটা মোটেও্র স্বস্তিতে কাটেনি মিষ্টি আমের দেশে। পরদিন সকালে শাহ মখদুমের মাজার যিয়ারতের পর ছুটলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে।

বেশভালো রাস্তাঘাট পেরিয়ে কানসাট গিয়ে নামি দুপুর তখন দুইটা। আম কিনবো আম, বাজার ঘুরে নিজের জন্য কিনে ফেললাম তিন মণ আম। কিন্তু রাতে ঢাকায় ফেরার টিকেট নেই কোথাও, আম পাঠানোর জন্য নেই কোনো অভিজ্ঞতা, বিপদের তালিকা ততক্ষণে দীর্ঘায়িত হচ্ছে অসহ্য বিরক্তি বাড়িয়ে। মিষ্টি আমের আগড়তদার ও ব্যবসায়ীদের ব্যবহার মোটেও মিষ্টি নয়, এখানে একটু অবাক হলাম। ঘন্টাখানেক ঘর্মাক্ত হয়ে কর্দমাক্ত জামা গায়েই অবশেষে হানিফ বাসের মাধ্যমে আমগুলো পাঠানোর দায়িত্ব দিয়ে নিজেরা ছুটলাম রাজশাহীর দিকে, টিকেট পাবো কিনা, কেউ জানে না।

ভাগ্য ভালো ছিল বলে বাসের টিকেট মিলল তাও একদম পেছনের সারিতে। বাস ছাড়ল রাত সাড়ে বারটায় এবং রাজশাহীকে বিদায় জানিয়ে ঢলে পড়লাম ঘুমের কোলে। সারদিনের ক্লান্ত শরীর এবার শিকার হলো বাসের ঝাকাঝাকির। প্রতি মিনিটে পেছনের সিট দুলছে গতির সাথে পাল্লা দিয়ে আর সিটের যাত্রী অসহায় আমি যেন জামভর্তা হচ্ছি সেই বাসকৌটায় বসে। এত দুলুনীর মধ্যেও ঘুমিয়ে পড়লাম বাধ্য হয়ে কারণ পরদিন সকালে যেতে হবে এঢারপোর্টে কার্গো মালামাল খালাসে।

সেখানে কোন বিপদ আর টাকার কুমীর অপেক্ষা করছে তা হয়তো স্রষ্টা মাবুদ ভালো জানেন। ঘুম ভাঙ্গলো দলবলের ডাকাডাকিতে এবং সাড়ে ছয়টায় নামতে হলো গাবতলীতে আমের ঝুড়ি নিয়ে যেতে। যে বাস আম নিয়ে পৌঁছার কথা ভোর পাঁচটায় তা এসে থামল সকাল নয়টায়। অসহায় ব্যাপারীর মতো তিনঘন্টা বসে থাকলাম গাবতলীতে বিরক্তমনে ক্লান্ত দেহে। সস্তা দরে আম কিনে চাঁপাই থেকে ফেরার বাহাদুরী ততক্ষণে মাফ চেয়ে বিদায় নিয়েছে আমার তনুমন থেকে।

কোন রকমে তিনমণ আম সিএনজিতে গাদাগাদি করে সারা রাস্তা ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে পাড়ি দিয়ে বাসায় এলাম যখন আমার ঘড়িতে কাটা গিয়ে পৌঁছেছে সাড়ে দশটার ঘরে। মায়ের হাসিমুখ আর পড়শীদের আম বায়না দেখে ধীরে ধীরে ক্লান্তি ভুলে একটু বীরজয়ী চাঙ্গা ভাব অনুভূত হচ্ছে আমরা মন মেজাজে। অনুভূতির বৈচিত্রময় পালাবদলে খানিক বিস্মিত হলাম এবং নতুন বিপদকে স্বাগত জানাতে এবার চললাম বিমানবন্দরের দিকে, কাস্টম অফিসাররা হয়তো নিজেদের হিসাব নিকাশ আর বখশিশের হিসাব সেরে বসে আছে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।