আই লাভ দ্যা স্মোক, আই লাভ দ্যা স্মোকি লাইফ। সব ধোয়াটে থাকবে। ইচ এন্ড এভরিথিং।
২৭শে জানুয়ারী, ২০০৯। ভার্সিটি জীবনের অরিয়েন্টেশন ক্লাশ সকাল ১০টায়।
মহা আনন্দে ক্লাশ করলাম। দুপুর ২টায় পরবর্তী ক্লাশ। মাঝের সময়টায় নতুন ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর দুজন সিনিয়র বড়ভাই ডাক দিলেন। নাম-ধাম জিজ্ঞেস করলেন।
যে উত্তরই দেই না কেন, ফাঁপর খেতে হচ্ছে। তারপর কিছু সেন্সর বোর্ড টাইপের প্রশ্ন শুরু করলেন। বুঝে ফেললাম, যা হচ্ছে তাহাকে রেগিং বলে। এতক্ষণ নরমাল ছিলাম। কিন্তু যখনি বুঝলাম যে রেগ খাচ্ছি, ভয়ে পুরাই সিস্টেম হয়ে গেলাম।
২ ঘন্টা পর ক্লাশ আছে শুনে ছেড়ে দিলেন। আমি ভাবলাম বেচে গেলাম। কিন্তু, পিকচার আভি বাকী হ্যায়। ক্লাশ শেষে দেখি বড়ভাইরা ডিপার্টমেন্টের বাইরে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আবার ধরে নিয়ে চললেন টং এ ২য় রাউন্ডের জন্য।
আমিও বিমর্ষমুখে গেলাম। অনেক ধরণের প্রশ্নের উত্তর দিলাম(১৮+, ৪০-৫০+ ও হতে পারে)। এক পর্যায়ে একটা ছাগল দেখিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হল, এটা কি পুরুষ না মহিলা? আমি বললাম যে, মাদী ছাগল। প্রমাণ করতে বলা হল। আমি পুরুষ এবং নারীর বেসিক() পার্থক্যগুলো বললাম।
তারপর বলা হল, মিস ছাগীকে প্রপোজ করতে এবং ব্যর্থ হওয়া যাবেনা। এবং বাকী চার বছর আমাকে ছাগীর বয়ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে হবে। শুনে ১০,০০০(বা এর চেয়ে বেশী। কম হবে না) ভোল্টের শক খেলাম। তারপর চোখের পানি আটকে গেলাম ছাগীকে প্রপোজ করতে।
কিন্তু আমিওতো সিস্টেমবাজীতে কম যাইনা। একটু দুরে একটা রিকশা দেখলাম। ছাগীকে তাড়া করতে করতে রিকশা পর্যন্ত নিয়ে কুইক রিকশায় উঠে মামাকে বললাম দৌড় লাগাতে। মামার কঠিন দৌড় এবং আমি বাসায়। ব্যাপক বিনোদন পেলাম এবং রাত্রে খুব ভাল ঘুম হল এই ভেবে যে সিনিয়রদেরকে গাধা বানিয়েছি।
কিন্তু আভি ভি পিকচার বাকী হ্যায়। পরদিন ৮টায় ক্লাশ। ক্যাম্পাসে গেলাম এবং যাওয়ার সময়ই দেখি ভার্সিটির গেটে বড়ভাইরা দাড়িয়ে। আমাকে ধরে নেয়া হল এবং পালাবার শাস্তি হিসেবে ২টা ক্লাশ মিস এবং ৪-৫ ঘন্টা ভয়াবহ রেগ। আমি পুরাই শেষ।
খালি মনে হচ্ছিল, “নরকও বোধহয় এরচেয়ে ভাল। কখন শেষ হবে এই দুর্যোগ?এইগুলারে একবার হাতে পাই, পুরাই সাইজ কইরা দিমু। গররররররর....। “ একসময় শেষ হল। তখন দেখি ঘটনা পুরাই উল্টা।
আধঘন্টার মধ্যে বড়ভাইরা আমার মন ভাল করে দিলেন। এক চমতকার রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়ালেন। এবং এতক্ষন যা করা হলো, তা কেন করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন। এই পার্টটাকে বলা হয় রেগের ফিনিশিং। যে পর্যায়ে সব বড়ভাইকে আমার দেবতা মনে হল।
১/১এ ছোট বড় অনেক রেগ খেয়েছি। রেগের সময়টায় মনে হত নরকে আছি। ফিনিশিং এর সময় ভালই লাগত। খাওয়া দাওয়া হত। গল্প-গুজব হতো।
আমি ভাবতাম, শালার কি জায়গায় আসলাম? রেগ খাইতে খাইতে জীবন-যৌবন সব শেষ। সিনিয়ররা ফিনিশিং এর সময় বলতেন যে রেগিং সিনিয়র-জুনিয়র ইন্টিমেসী বাড়াতে হেল্প করে। আমি এতকিছু বুঝতাম না। আমি যা বুঝতাম তা হল, কোন সিনিয়রের কাছে রেগ খেলে পরবর্তী যে কোন সময় টংএ খাওয়ার পর ওই ভাইয়ের সাথে দেখা হলে বিলটা উনিই দেন। এ জিনিসটা ভালই লাগত।
কিন্তু তবুও জিনিসটা খারাপ। কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব এন্টি-রেগ কমিটি গঠন করলাম। আমার ক্যাম্পাসে সিনিয়র হলে রেগ দেবোনা। এমনিতেই জুনিয়রদের সাথে ইন্টিমেসী বাড়য়ে ফেলবো। সবাই বেশ দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ।
৬-৭ মাস কেটে গেল। ততদিনে রেগিং জিনিসটার প্রতি শ্রদ্ধা এসে গেল। কারণ, দেখলাম যে ক্যাম্পসে যে কোন ধরণের সমস্যায়ই হেল্প পাচ্ছি সিনিয়রদের কাছ থেকে। বই, নোট, পুরান প্রশ্ন থেকে শুরু করে যে কোন টাইপের সমস্যায়। ক্যাম্পাসটা অল্প কদিনেই বেশ আপন হয়ে গেল।
সিনিয়ররা দেখলেই বন্ধুর মত আচরণ করেন। খুব ভাল লাগে। ক্লাশ না থাকলেও ক্যাম্পাসে যাই। সিনিয়রদের সাথে আড্ডা মারি আর ব্যাচমেটদের সামনে ভাব দেখাই, “দেখ, কত সিনিয়র আমাকে চেনে। ” দিনগুলো বড় রঙিন মনে হয়।
তারপর তো দুবছর কেটে গেল ক্যাম্পাসে। কিছুদিন আগে ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসটা দিতে বাধ্য হয়েছিলাম্, “Basha chere sylhet eshe kichu pai ba na pai, kichu borovai er j okritrim valobasha peyechi eguloi jibon ta onek colorful kore diyeche.”। আসলেই এই সিনিয়রদের কারণেই জীবনটা অনেক ভাল কাটছে। ফ্যামিলি ছেড়ে এত দুরে এসেও কখনো নিজেকে একা মনে হয়না। যে কোন সমস্যায়ই কোন না কোন বড়ভাই আছেনই।
এতদিনে অনেক বড়ভাইই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। বড় মিস করি তাদের। উনাদের কথা মনে পড়ে সবসময়ই। এখন আমরাই ক্যাম্পাসে সিনিয়র। চেষ্টা করি, সিনিয়রদের কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি তা আমাদের জুনিয়রদেরকে দিতে।
জানিনা কতটা পারি, তবে মনে হয় জুনিয়রদের সাথেও আমাদের সম্পর্কটা ভালই।
ইদানীং পত্র-পত্রিকায় রেগিং নিয়ে বেশ লেখালেখি হচ্ছে। মেরিন একাডেমীতে রেগিং এর নামে যে অত্যাচারের বিবরণ পড়লাম তাতে বেশ খারাপ লাগল। জুনিয়র পেয়ে এভাবে অকথ্য নির্যাতনের মানে হয় না। টিভিতে সিনেময়ায় যে রেগিং দেখি তাতেও অনেক খারাপ লাগে।
নিরপেক্ষভাবে এগুলো দেখে মনে হয় রেগিং তুলে দেয়া দরকার এবং এর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু আমি যে অবস্থানে আছি সে অবস্থান থেকে দেখলে আমি আসলে রেগিং এর পক্ষে। তবে রেগিং এর নামে অত্যাচারের পক্ষে নই। পত্র-পত্রিকায়, সিনেমায় যা দেখি তা আসলে রেগিং না। এগুলো অত্যাচার।
আমি ক্যাম্পাসে অনেক রেগ খেয়েছি। কোনটাতেই শারীরীক অত্যাচার করা হয়নি। শুধু কথার মারপ্যাচেই বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এজন্যই সিনিয়রদের প্রতি সম্মান বেড়ে গেছে। তাই যারা রেগিং এর নামে অত্যাচার করেন, তাদের বলছি, “জুনিয়রদের কে আপন ভাইয়ের মত দেখুন।
ভালবাসা দিন। ভালবাসা, সম্মান দুটোই পাবেন। জুনিয়র মানে চাকর নয়। তার গায়ে হাত তোলার কোন অধিকারই আপনার নেই”।
বি.দ্র. রেগ বানানটা ঠিক মত লেখা সম্ভব হল না।
বাংলা ফনেটিকের সমস্যা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।