আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডানাভাঙ্গা নৈশ প্রহরী ঘুম ভাঙ্গালো

যারা উত্তম কে উচ্চকন্ঠে উত্তম বলতে পারে না তারা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে শুকরকেও শুকর বলতে পারে না। এবং প্রায়শই আর একটি শুকরে রুপান্তরিত হয়।
আলোটা জ্বালানোই ছিল। সতর্কতাবশত। গত দু সপ্তাহে রোগে ভোগা শরীরটাকে নজরদারির বাইরে রাখতে চাননি মা।

প্রিয় বন্ধুরা হাসপাতালেও হাতছাড়া করেনি। তাই বারবার ফিরে আসা, রক্ত মাংসের শরীর নিয়ে। তাই ঘুম থেকে উঠে পড়া গভীর রাতে। অ সুখের স্মৃতিগুলোও কেমন যেন ফিকে হয়ে আসছে। মস্তিষ্ক নির্বিকারে মুছে দিয়েছে যন্ত্রণা আর কষ্টের সমস্ত অনুভূতি।

কি অমানবিক ডিফেন্স ম্যাকানিজম। চোখের সাদা অংশে রক্তপাত হওয়ায়, দৃষ্টি পরিচ্ছন্ন নয় এখনো। চোখের বিভৎসতা রোগের ভয়াবহতার জানান দিচ্ছে বেশ। কিছুটা অপরাধীও করছে অন্য পরিচিতজনেদের, যারা ঘটনাটি মিস করে গেছেন কোনভাবে। এখন চোখ দেখে অনুমান করতে পারছেন কেমন মারাত্মকি ছিল রোগের আক্রমণ।

কি গভীর আত্মপ্রেম মানুষের। খারাপ লাগেনা বিষয়টা, রোগচিহ্ন ভয়ংকর হওয়া ভালৈ। বেশ একটু প্রমাণ আর একটু বেশি মনোযোগ পাওয়া যায় সহজেই। ছয়তালার ওপরে নৈশ প্রহরীও একটু বেশি মনোযোগ পেতে চেয়েছিল আজ। ক্ষুধাকেই প্রধান কারণ হিসেবে ধরে নেয়া ভালো।

মশারীর ফাঁকফোকড় গলে বেশ একটা জোড়ালো আক্রমণ। ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই রক্তাক্ত প্রতিরোধ। আবরো ডিফেন্স মেকানিজম। আমার রক্তবিন্দু বনাম তার বা তাদের ডানাভাঙ্গা অস্তিত্ব। রোগ যেমন মানুষকে শেখায় তার একান্ত অস্তিত্ববাদ।

নিকটজনের প্রকৃত নৈকট্য, দূর জনের দূরত্ব, নির্ভরতার পরীক্ষা এমনি আরো অনেককিছু। আমি বিন্দুর খুব প্রান্তসীমায় পৌছানো না গেলে যেমন বোঝা যায় না তুমি বিন্দুর অস্তিত্ব। অনেকটা তেমন। ফেরত আসা নিজের কাছেই, এরপর জানান দেয়া অপরাপরদের, স্টিল এলাইভ এন্ড কিকিং। দুই অন্ধকারের মাঝখানের ঝলকানীতে ডানাভাঙ্গা নৈশ প্রহরীর ডানা ঝাপটানী আবারো মনে করিয়ে দিল আমি বিন্দু বনাম তুমি বিন্দুর কথা।

মশারী ঘেরা জীবনে মৃত্যুর প্রবল ডিফেন্স মেকানিজম।
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।