আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বোধনের ডায়েরী থেকে - রোগ

mail.aronno@gmail.com

দুটো জিনিস আমার নেই। এক. যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি, দুই. দারুন কোনো রোগ। যেহেতু আমি যুদ্ধের আগে জন্মাইনি, তাই তেমন কোনো ভয়াবহ স্মৃতি আমার নেই, অনুরূপভাবে চরম অসুস্থ কোনো সময়ে বেড়ে উঠিনি বলেই নেই তেমন কোনো রোগ। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় পড়তে পড়তে এইসব মনে হলো, অথচ আমার সুস্থ প্রাণ এতদিনে খুব বেশি করেই প্যান্টের পেছনের তালিহীনতা বার বার নিশ্চিত করে তার যাবতীয় সরল-লজ্জা হতে অনেক আগেই পেয়েছে মুক্তি। আর এই অনাকাঙ্খিত মুক্তিই আমাকে সুস্থ-সবল রেখেছে বছরের পর বছর, আর কখনও-সখনও ভুল করেও কোনো রোগের আভাস শরীরে প্রকট হলে জন্মদাত্রী যেন স্বস্তি পায়।

একধরনের বহুপ্রতিক্ষীত শান্তির মাঝে তিনি নিজ এবং আমাকে খুব বিশ্বাসের সাথেই বোঝাতে চেষ্টা করেন, বছরের পর বছর এতটা নিরোগ থাকা আমার কখনোই উচিত নয়, আর অবশেষে নিতান্তই থাকতে না পেরে যখন জোর করে ডাক্তারের সামনে আমিসহ হাজির হন, তখন তাঁর মুখে সবসময়ই ফুটে থাকতে দেখেছি সেই প্রশান্তির আভাস যা তিনি সবসময়ই কামনা করতেন, আর বেশ গর্ব সহকারেই ডাক্তারকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতেন, ‘ডাক্তার সাহেব, আমার এই ছেলেটার অসুখ করে না সহজে! সাতবছর পর ওকে নিয়ে এলাম আপনাদের কাছে, একটু দেখুন তো?’ কথাগুলো শুনে আমার খুব হাসি পায়, যেনবা রোগমুক্তি নয়, বরং এত দীর্ঘসময় রোগ না হবার গোপন ও অমীমাংসিত কারণটা জানতেই তাঁর এই সপুত্রক আগমন। আর যখন ডাক্তার সাহেব কোনো এক কাল্পনিক মনগড়া সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে যাচ্ছেতাই হাতের লেখায় একের পর এক লিখতে থাকেন নিরাময়, তখন আমি টানটান হয়ে থাকি, এ আশায়, হয়ত সেখানে বাস্তবিক খুঁজে পাবো বহু আগে হারিয়ে ফেলা অক্সিকোনের সেই মায়াবী বোতল, অথবা কমলার ছবি আঁকা পাতা ভর্তি লোলুপতা। নিদানপক্ষে গোটা কয়েক রঙ-বেরঙের প্যালপেলে ক্যাপসুল, যা জল ছাড়াই গিলে ফেলা যায়, নতুবা মধুর চেয়েও গাঢ় ও সুস্বাদু কাশির সিরাপ। অথচ তিনি যা যা লেখেন তা মা পড়তে না পারলেও যথেষ্ট খুশি হন, যেনবা তাঁর বিশ্বাস নতুন করে এইমাত্রা পেলো, অন্তত এবার আমি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে অসুস্থ হবো, আর তিনি তাঁর একটানা দুঃশ্চিন্তা ও মনোকষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পেতে খানিকটা শান্তি ও আরামে মরতে পারার সমূহ আশা নিয়ে আরও কিছু বছর পারবেন বাঁচতে। অথচ ডাক্তারের লেখা নিরাময়গুলোর মধ্যে প্রকৃত কোনো পথ্য না পেয়ে বাস্তবিক আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি, যা মা অথবা ডাক্তারের কেউই টের পায় না, আর সুস্থতার যাবতীয় সীমারেখা ভেঙে নিজের অলক্ষ্যেই বেরিয়ে পড়ি অসুস্থতার সেই বর্ণিল পৃথিবীতে, যেখানে রোগমুক্তির জন্য দেয়া হয় সাগুদানার মত অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধবধবে সাদা নিরাময়, আর ছোট্ট কাচের শিশিতে তাদের একে অপরের সাথে ঠাসাঠাসি, লাগালাগি করে শান্তিপ্রিয় বসবাস খুব শীঘ্রই আমাকে করে তোলে লোভী, আর একসময় শিশির পুরোটাই কন্ঠনালী বরাবর উবুড় করে যখন মুখ ও চোখ বন্ধ করি, তখন মুখের ভেতরের সবগুলো দেয়াল, জিভের অদ্যেপান্ত, দাঁতের ফাঁক-ফোকরে তার সুস্বাদু পরশ বুলিয়ে ধীরে ধীরে কন্ঠনালীর গাত্র বেয়ে নিচের দিকে নেমে যেতে থাকলে, নতুন রোগের জন্য আমার আকুল আকুতি পুনরায় প্রকট হয়, আর দাদীর আশেপাশে ঘুর ঘুর করতে থাকি দিনভর, এই আশায়, কখন তিনি বার করবেন আমার প্রাণপ্রিয় বোতলটি, আর আমি লোলুপের মত চেয়ে থাকতে থাকতে বুক থেকে নিঃসরিত করব সেই সমস্ত দীর্ঘশ্বাস, যারা কাঙ্খিত রোগপ্রাপ্তির আশায় নিরাশই হয়েছে কেবল বার বার।

অসুখের জন্য চরম ঈর্ষা নিয়েই কেটে গেছে বছরের পর বছর, আর দাদীর অক্সিকোনের বোতল বার বার আমার দীর্ঘশ্বাস তার দিকে টেনে নিতে নিতে বোঝাতে চেয়েছে, তোমার এ রোগ কখনও সারবার নয়। আর কমলা রঙয়ের সেই ট্যাবলেট, যার কণামাত্রও কখনও-সখনও ভেঙে দাদী মুখে ঠেসে দিলে, আমি নিশ্চিত হতাম, অসুখের চেয়ে কাম্য আর কিছুই নেই আমার, কেননা অবিশ্বাসের পৃথিবী থেকে আমি তখনও শত শত আলোকবর্ষ দূরে, আর যে আকাশযানটা আমাকে নিয়ে দিনরাত উড়ে-বেড়াত তেপান্তর, তার পাখাগুলো ছিল এতটাই একমুখো যে, বার বার দাদীর রোগাক্রান্ত পৃথিবীতে গিয়েই থামত, যেখানে আমি মাথা ছাড়িয়ে আলমারির উঁচুতে দেখতে পেতাম চাঁদের চেয়েও লোলুপ ও অপার্থিব অক্সিকোনের বোতল, যার মধ্যে শান্তি ও আশাপ্রদানকারী অস্তিত্ব নিয়ে পড়ে আছে থকথকে সাদা কাদার-ক্বাথ। কেন আমার রোগ নেই, কেন আমাকে ফিরে আসতে হবে চুপিসারে এই আলমারির সামনে বার বার, এই প্রশ্ন ও ক্ষোভ নিয়েই পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে হাত উপরের দিকে বাড়াই, এবং একসময় বহুকষ্টে তা নাগালে এলে, কিছুমাত্র দেরি না করেই মুখের মধ্যে উবুড় করি। হয়ত সামান্যই ছিল, কিংবা একদম নতুন, যা অনভিজ্ঞতা হেতু লক্ষ্য না করেই হয় পুরোটা শেষ নতুবা অর্ধেক করেই ক্ষান্ত হতাম, যা কিনা কোনরূপ কষ্টছাড়াই মা অথবা দাদী, যে কোনো পক্ষকেই এই ধারণা দিত, সুস্থতা চুরি গেছে, আর সেই দায়ভার আমার উপর ছুঁড়ে দিয়ে তারা যখন আমাকে মারত অথবা করত ভর্ৎসনা, তখন তাদের বোঝাতে পারিনি, ওষুধ নয়, আমি তোমাদের এই সুস্থ-স্বাভাবিক পৃথিবী থেকে আমার জরুরী রোগগুলো চুরি করছি দিনের পর দিন, যা গোটা একটা জীবন বেঁচে থাকার জন্য আমার ভীষণ দরকার। আমার দরকার সাদা কাদার-ক্বাথ, অথবা কমলার মোহময়ী স্বাদ, নয়তবা শুভ্র সাগুদানা।

আমার সত্যি সত্যিই এমন কিছু রোগ চাই, যা কখনোই, কোনোদিন, কোনোভাবেই সারে না, আর নিরাময়ের গোপন, গভীর হাহাকার সবার অলক্ষ্যে দারুন সহনীয় করে তুলবে আমার যাবতীয় বেঁচে থাকা, অসহ্য রোগাচার। হয়ত মায়ের হাত সচল হয়, কিংবা দাদীর বিরাগ ও রোষ আমার উপর বর্ষিত হতে থাকে আরও ক’ঘন্টা, বড়জোর একদিন। কিন্তু পরদিন সকালে যখন দু’হাতে গোবর গড়াতে গড়াতে একেকটা নোন্দা খাড়া করে আড়ে রাখতে রাখতে, অথবা ঘুটের রাজ্যে বসে তার পানের নেশা চরমে উঠলে, তখন এই আমিই আবির্ভূত হই চরম পরিত্রাতা হিসবে, আর পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল পানওয়ালা খেতাব নিতে নিতে তাঁর মুখে কচি হাতের বানানো পৃথিবীর সুস্বাদু পানটি গুঁজে দিতে দিতে আশ্বস্ত হতাম, দাদী আবারও অসুস্থ হবে, এবং আমাকে ডাকবে, আর পান চিবোতে চিবোতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে আমার সেই বিশ্বাসকেই পোক্ত করে কখনও কখনও ভুল করে তুলে দেবেন আলমারির চাবি, যখন আমি ততদিনে জেনে গেছি রোগ চুরি করে করে কীভাবে সুস্থ থাকতে হয়। চাবি ফিরে যায় দাদীর আঁচলে, ফিরে যায় হয়ত সেইসবও যা তিনি আনতে বলেছিলেন, যেমন সুপোরি, আওলা পাতার টুকরো, এক চিমটি খয়ের বা জর্দা, অথবা বোটায় লাগানো চুন; শুধু ফিরে যেত না তাঁর সেই বিশ্বাস যা পান মুখে পুরে তাঁর চোখে ঝিলিক দিয়ে উঠেছিল, আর তিনি নিশ্চিন্তমনেই আমার হাতে তুলে দিতেন তাঁর বিশ্বাসের গোছা। আর আমি তাঁর সেই বিশ্বাসের মাঝে ঢুকে খুব নির্বিকারভাবেই অক্সিকোনের বোতল মুখে উবুড় করে ঢকঢক করে গিলে নিতাম সাদা কাদার-ক্বাথ, নিঃসঙ্কোচে, এবং পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল ও নির্বোধ মানুষটি সেজে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসতাম সেই সুরক্ষিত গোছা অন্যান্য সামগ্রী ও বিশ্বাস সমেত, যখন কিনা আমার পাকস্থলির পাচকরসের সাথে চরমমিতালীতে ব্যস্ত থকথকে সাদা তরল, আর হাফপ্যান্টের পকেটে জিভের লালায়িত স্পর্শের জন্য অপেক্ষা করছে কমলার ছাপওয়ালা সিভিটের দু’দুটো স্বর্গীয় গোলাকার অস্তিত্ব, যারা বাতাসার শক্ত চাকতি অথবা সন্দেশের নরম মাটির চেয়েও লোভনীয় ও সুস্বাদু, এবং তারাই কেবল পারে আমাকে প্রকৃত অর্থেই রোগাক্রান্ত করে তুলতে, আর আমি ডাক্তারের সামনে বসে থেকে কল্পনায় বিভোর হতে পারি বাস্তবিক আরোগ্যতা ও সুস্থ-সুন্দর জীবনের।

অথচ প্রতিবারই তারা আমাকে এমন কিছু পথ্য দিতে থাকবেন যখন আমি এগিয়ে চলেছি বাড়ির পশ্চিম দিকের বাগানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের আসন্যা আমগাছের নির্জনতায়, আর সুবিধামত ডালে শুয়ে নিচের দিকে পা ঝোলাতে ঝোলাতে বের করে আনি কমলার ছাপওয়ালা সেই পাতা, যার একটা মুখে পুরতে গিয়েও তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবার আশংকায় শংকিত হই, আর অর্ধেক মুখে পুরে বাকি অর্ধেক পাতাতে মুড়িয়ে পকেটে রেখে পা দোলাতে দোলাতেই ঘুমিয়ে পড়ি একসময়। আমার সেইঘুমে তখন একসাথে জড়ো হতে থাকে রাজ্যের যত রোগ, আর পৃথিবীর যততত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুস্বাদু, লোভনীয় পথ্য। স্বপ্নের মধ্যেই আমি আনন্দিত হয়ে উঠি, আর এতসব রোগ ও পথ্যের মধ্যে ঠিক করতে পারি না কোন অসুখটা আমার দরকার, আর কোন ওষুধ আমাকে দেবে কাঙ্খিত পরম নিরাময়। এই চরম দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব থেকে বেরুতে না বেরুতেই ঘুম ভেঙে যায়, আর নিজেকে পাই গাছের ডালে কমলার স্বাদ মুখে সমস্ত রোগ ও নিরাময়ের অনন্ত প্রতীক্ষায়। হয়ত ততদিনে মায়ের অপ্রতিরোধ্য প্রহার অথবা দাদীর ভৎর্সনা আমাকে সরিয়ে রাখতে শুরু করেছিল সন্ধ্যার নিজস্ব একাকীত্বে, যেখানে রূপকথার বিশ্বস্ত সওয়ারী আমার জন্য অপেক্ষা করত আমাকে সেই চিরকাঙ্খিত রোগরাজ্যে নিয়ে যেতে, যেখানে যততত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হরেক রকম, রঙ-বেঙয়ের যাবতীয় পথ্য, আর আমি আমার ছোট্ট প্যান্টের ক্ষুদ্র পরিসর কুড়িয়ে কুড়িয়ে ভরিয়ে ফেলব নাটাইয়ের ফল, জাম অথবা কাচা-পাকা খেজুরের অস্তিত্বে।

মাঝে মাঝে হয়ত ধুতুরার কাঁটাযুক্ত ত্বক শংকিত করে তুলবে, কিন্তু পরক্ষণেই কচুরীপানার বেগুনী ও নীলের মেলা অথবা ধোলকলমীর শুভ্র নমনীয় পাপড়ি ছুঁয়ে হয়ে উঠব বিশ্বাসী ও আশ্বান্বিত। অথচ আমার অসুখের বিলাসবহুল সমারোহে কোথা থেকে এসে পড়বে সেই অভিজ্ঞ ডাক্তার, যে আমার সবগুলো পথ্য মহূর্তেই বাতিল ঘোষনা করে জানাবে আমি সুস্থ, যখন কিনা আমি নিজে নিজেই জেনেছি, দাদীর গ্যাস্ট্রিকের বোতল মনের আনন্দে খালি করে পুনরায় জল ভরে কীভাবে করে তোলা যায় পূর্ণ। এভাবে রোগমুক্তি আমার কখনোই কাম্য ছিল না, যখন কিনা এক বা একাধিক অথবা অজস্র রোগের জন্যই আমি নিশ্চিন্ত মনে ঢলে পড়তাম অপার্থিব ঘুমে, যখন দাদী কাচের ছোট্ট গ্লাস আর অক্সিকোনের বোতলটা নিয়ে বসত আমার সামনে, আর বোতল ঈষৎ কাত করে তাতে ঢেলে নিত গাঢ় কাদার ক্বাথ, আর তাতে বেশি করে জল মিশিয়ে স্টীলের চামচ দিয়ে একটানা নাড়তে থাকত অনেকক্ষণ, ফলে কাচ ও স্টীলের লাগাতার সংঘর্ষ উৎপন্ন করত এমন এক যাদুময় শব্দ যে, গাঢ় ঘুম নেমে আসত সেই সাদা কাদার-ক্বাথের মতই, আর আমিও আমার সামগ্রিক বোতল থেকে বেরিয়ে আসতাম কোন এক উন্মুক্ত, সীমাহীন প্রান্তরে, যেখানে কেউ কখনোই আমাকে এই বোধে আশ্বস্ত করতে পারেনি, আমি সুস্থ। হয়ত তখনও জিভ লেগে থাকত বোতলের মুখের টিনের শরীরে লেপ্টে থাকা সাদায়, অথবা জাদুময় ছন্দ তোলা স্টিলের চামচটি মুখ ছাড়িয়ে কন্ঠনালীর গভীরে, আর ঢুলুঢুলু আমি ঘুম রাজ্যের রোগাক্রান্ত শহরে প্রবেশ করে দেখি, পৃথিবীর সমস্ত ডাক্তার সার বেঁধে ঢুকে পড়ছে হোমিওপ্যাথির দোকানে, আর আমার মতই লোলুপ, নেশাতুর ও রোগাক্রান্ত অপলক চেয়ে আছে সাগুদানার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শুভ্র লোভনীয় অস্তিত্বে নিরাময়ের আশায়। অরণ্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১০


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।