আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সংসদ সদস্য যখন ইয়াবার বড় চালানদাতা

কক্সবাজারে সরকারদলীয় একজন এমপির পৃষ্ঠপোষকতায় তারই স্বজন-পরিজনরা ইয়াবার বাণিজ্য পরিচালনা করায় 'ইয়াবা সিন্ডিকেটের' কাছেই উল্টো জিম্মি থাকে স্থানীয় প্রশাসন। বহুল বিতর্কিত ওই এমপির সহোদর শুক্কুর মিয়া ওরফে বার্মাইয়া শুক্কুর, মৌলভী মুজিবুর রহমান ও আবদুল আমিনের তত্ত্বাবধানে ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে ৪২ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার, চকোরিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ইয়াবাসহ সমগ্র মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয় চোরাকারবারিদের কাছে এই সিন্ডিকেটটি 'এমপি সিন্ডিকেট' হিসেবেই পরিচিত। কক্সবাজারে রয়েছে আরও ২০ জনের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ।

চকোরিয়া এলাকার আরেকজন প্রভাবশালী নেতার তত্ত্বাবধানে এ গ্রুপটি পারিচালিত হয়। মিয়ানমারের সীমান্ত গলিয়ে আসা ইয়াবা তারাই সারা দেশে পাইকারিভাবে সরবরাহ দেয়। বহুল আলোচিত ওই এমপির ঘনিষ্ঠতার সুবাদে টেকনাফের মৌলভীপাড়া ও নাজিরপাড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ইয়াবা বাণিজ্যের একচেটিয়া সুবিধা লাভ করে। শুধু ইয়াবা পাচার ও সরবরাহের মাধ্যমে এ দুটি গ্রামের অনেকেই এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিন বছর আগেও তারা একেকজন ছিলেন বেকার-ভবঘুরে, কেউবা হাটবাজারে গরু-ছাগল বেচাকেনার দালালি করে সংসার নির্বাহ করতেন।

কেউ কেউ দিনমজুরি খেটে কোনোমতে জীবন চালাতেন- তারাই এখন লেটেস্ট মডেলের গাড়ি হাঁকান। আলিশান তাদের বাড়িঘর। টেকনাফসহ কঙ্বাজার এলাকায় গত তিন বছরে শুধু ইয়াবা বাণিজ্যের সম্পৃক্ততায় শতাধিক ব্যক্তি কোটিপতি হয়েছেন। হোয়াইক্যং রোডে চলাচলকারী লক্কর-ঝক্কর মার্কা চান্দের গাড়ির হেলপার জাফর আর গরু হাটের দালাল 'ছাগলা হাসু'ও এখন ইয়াবার কল্যাণে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন, চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই জমা রাখেন দেড়-দুই কোটি টাকা। অথচ বৈধ উপার্জনের কোনো পথ নেই তাদের।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ইয়াবা ব্যবসায় যারা নব্য কোটিপতি হয়েছেন তারা হলেন, লেদা এলাকার নুরুল হুদা, মৌলভীপাড়ার আবদুর রহমান, আমির আহমদ ওরফে লেইট্যা আমির, মোহাম্মদ আলী, আবদুল গনি, নূর মোহাম্মদ, আবু তাহের। এ ছাড়া টেকনাফ বড় হাবিবপাড়ার ছিদ্দিক, হাসান এবং আমিন, আবুল কালাম ওরফে কালা, মোহাম্মদ আলম, নাজিরপাড়ার জিয়াউর রহমান, পোয়া চান মিয়া, মৌলভী বোরহান, সিরাজ মিয়া, সামসুন্নাহার ওরফে জ্যোতি, আবদুল্লাহ হাসান, নুরুল আমিন, সৈয়দ আলম, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জহির, তৈয়ব মিয়া, কবির আহমেদ ওরফে ইয়াবা কবির, ইব্রাহিম, আলম, নূর মোহাম্মদ, জামাল, ছোটন, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল্লাহ, জাকির হোসেন ও রমজান ওরফে একটেল রমজান। তারা সবাই কঙ্বাজার জেলার বাসিন্দা। এর আগে তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘুরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পেঁৗছে। কিন্তু গত এক বছরেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বরং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব কোটিপতিদের বাড়িঘরে মাঝে মধ্যেই আমন্ত্রিত হন, তাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানাদিতেও দাওয়াত খেতে যান।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।