ব-দ্বীপ মানে বদ্ দের দ্বীপ না কিন্তু। দয়া করে কেউ ভুল বুঝবেন না। যদিও বাংলাদেশের অবস্থা দেখে ভুল বোঝা স্বাভাবিক।
সামুতে অনেকে অনেক বিষয় নিয়ে লেখে। কবিতা, গল্প থেকে শুরু করে রাজনীতি, ধর্ম থেকে নাস্তিকতা পর্যন্ত।
যার মধ্যে হট টপিক্স হছে রাজনীতি ও ধর্ম। একেকজন তার শিক্ষা, ধর্মবোধ, আদর্শ থেকে এই সম্বন্ধে যৌক্তিক লেখা লিখবেন এটাই সবার আশা।
কিন্ত্ ইদানিং এমন সব ব্লগারদের ধর্ম নিয়ে লিখতে দেখা যাচ্ছে যারা নিজ আদর্শ থেকে লেখার চাইতে ভন্ডামিতে ব্যস্ত। তেমনি একটা লেখা পড়লাম ব্লগার সুমন মোহাম্মদের "যারা ঈশ্বরকে ভালোবেসেছে সবচেয়ে বেশি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাদের সবচেয়ে কম। " তার লেখা্র মুল বিষয় ছিল "কিভাবে একজন ধর্মপ্রান নামাযি মুসলমানের ৪ বৎসরের ছেলে রক্তাক্ত আহত হয়ে চিৎকার করার পরও তিনি নামায ভাঙ্গেননি।
পোস্টটি পরে প্রথমে যে কেও লেখককে একজন ধর্মপ্রান মুসলিম বলে মনে করবে।
কিন্তু পরক্ষনেই কিছুদুর পর একটু খটকা লাগে। যে নিজেকে নামাজি দাবী করে সে এভাবে কখনো লিখতে পারেনা।
অথচ তার বিভিন্ন কমেন্টে মুসলিম সুলভ আচরন প্রমান করেন তিনি মুসলমান শুধু নন ধর্মপ্রানও।
তার দুটো মন্তব্যের জন্য (যেমন "গত রবিবার সন্ধ্যায় কোরান হাদিসের আলোচনা শেষে এশার নামাজে দাড়াইছি, + ভাইরে আল্লাহর ভালবাসা বেশি হইলে এমনই হয়।
আমাদের বাংলা ভাই কিংবা শায়খ রহমানরা আল্লারেই বেশি ভালবাসত!) প্রশ্ন করেছিলাম "আপনি কি জন্য নামাযে দারাইছিলেন বলবেন কি?"
তার উত্তর ছিলঃ এইটা আমার কালচার, আমার সামাজিকতা। আমি এর মধ্যেই বড় হইছি। আমি এরই অংশ।
তখনি খটকাটা লাগে। আমরা যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করি তাদের অনেকেই আছেন যারা নিয়মিত নামায পরেন না অথবা অনেকেই জুম্মার নামায ছারা অন্য নামায কাজা করেন, যার জন্য তারা অনেক আফসোসও করেন।
কিন্ত এমন কাউকে পাইনি যিনি শুধু মাত্র সংস্কৃতি বা সামাজিকতার জন্য নামায পরেন ( তাও এশার নামায)। তখনি মনে প্রশ্ন যাগলো তিনি কি নাস্তিক না অন্য ধর্মালম্বি।
এর পরেই আরেকটা পোস্ট পেলাম এই শিরোনামে "আল্লাহর messenger অপেক্ষা ইয়াহু messenger উত্তম" যা শুধু মাত্র আল্লাহর নবীগনকে অপমান ও কটাক্ষ করার জন্য দেয়া।
এছারা তার পুর্বে দুটো পোস্ট "শান্তির ধর্ম ইসলাম, পর্ব-১,২ " যার শিরনাম দেখলে আপাতত ইসলামের সৌন্দর্য নিয়ে একটি পোস্ট মনে হলেও তা চরমভাবে ইসলামকে হেয় করার জন্য একটি পোস্ট। যেখানে তার একটি মন্তব্য ছিল আমরা প্রচলিত অর্থে যাকে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলি তারই অনেকটা আরবি নাম আল্লাহ।
তবে কোরান খুব মন দিয়ে পাঠ করলে দেখা যায়, কোরানে বর্নিত আল্লাহ আমাদের ধারনা করা প্রচলিত সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর এর সাথে মেলে না। কোরানের বানী গুলো পড়লে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এর আল্লাহ আসলে স্বয়ং মোহাম্মদ নিজেই। মোহাম্মদ তার নিজের কথাগুলোকেই আসলে আল্লার বলে চালিয়ে দিয়েছেন। " (১ম পর্বে)
এখন প্রশ্ন হল যে ব্লগার এরকম চরম ইসলাম বিদ্বেসী সে মসজিদে নামায পরতে যায় কি জন্য। কি তার ঊদ্দেশ্য? আমার কাছে মনে হয়েছে তার ঐ পোস্টটি ছিল সম্পুর্ন বানানো।
ইসলামকে ও মুসলিমদের হেয় করার জন্য এই পোস্ট দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু তিনি কি নাস্তিক না অন্যধর্মের অনুসারি। যদি নাস্তিক হন তাহলে নাস্তিকতা নিয়ে যৌক্তিক একটি পোস্ট দেক। অথবা অন্য ধর্মের হলে সেই ধর্ম নিয়ে পোস্ট দেক। সেই ধর্মের ফিলসফি,সৌন্দর্য ইত্যাদি নিয়ে পোস্ট দেক।
তা না করে ইসলামকে গালিগালাজ করে এরা নাস্তিকদের বা ভিন্য ধর্মালম্বিদের কি উপকার করছে। এগুলো পড়ে নাস্তিক্য সম্বন্ধে বা অন্যধর্ম সম্বন্ধে কতটুকু জানতে পারা যাবে?
আসলে মুল উদ্দেস্য হচ্ছে এধরনের পোস্ট দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নস্ট করা। এরা যখন এ ধরনের উস্কানিমুলক পোস্ট দেয় তখন অনেক ভিন্য ধর্মের ব্লগার হয়তো খুশি হয়ে যান, তেমনি অনেক মুসলিম ব্লগার ধৈর্য্য না রাখতে পেরে অমুসলিমদের গালি দেয়। তখনি অমুসলিমরাও পাল্টা গালি দিতে আরম্ভ করে। আর এটাই এদের মুল উদ্দেস্য।
আর এ ইচ্ছা পুরন করতে কখনো তারা "আরিফুর রহমান", কখনো "সুমন মোহাম্মদ" আবার কখনো "অমুক ভট্যাচার্য" নিক ব্যাবহার করে। আর তাদের এই পাকে পরে আমরা সাধারন ব্লগাররা নস্ট করা শুরু করি ব্লগের পরিবেশ ও সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
তাই অনুরোধ করব এ ধরনের ব্লগারদের সবাইমিলে (মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, সত্যিকারের নাস্তিক) বয়কট করি যাতে তারা আর যাই করুক ভন্ডামি না করতে পারে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।