...... সৃষ্টিশীলতার সন্ধানে
হঠাৎ করে ছাত্রদল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে হরতালের আগে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে গত সোমবার ক্যাম্পাসে উস্কানি দিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, বিগত জোট সরকারের সময় দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখলদারি আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল ছাত্রদল। তারা কারণে-অকারণে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে।
এমনকি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলার পর পরই ছাত্রলীগকে মারধর করে ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। শুধু তাই নয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে স্লোগান দেয় পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। এভাবে শেখ হাসিনার গ্রেনেড হামলায় তাদের সমর্থন প্রকাশ করে। এভাবে নানান বিতর্কিত কর্মকা-ের মাধ্যমে ছাত্রদল সাধারণ শিৰার্থীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত হয়।
২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৰমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিৰাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিজেদের বিতর্কিত কর্মকা-ের ভয়ে বের হয়ে যায়। কিন্তু ছাত্রলীগের প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ফিরে আসে। বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকা- শুরম্ন করলেও সাধারণ শিৰার্থীদের কাছ থেকে তারা কোন সাড়া পায়নি। আবার গত বছরের জুন থেকেই নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে অনত্মর্কোন্দলের সৃষ্টি হয়। পদবঞ্চিতরা সংগঠনে বিদ্রোহ শুরম্ন করে।
এই বিদ্রোহ থামতে না থামতেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর নতুন করে বাদ পড়া নেতাকর্মীরা নতুন উদ্যমে বিদ্রোহ শুরম্ন করে। বিদ্রোহীরা ১৮ জানুয়ারি রক্তৰয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করে। ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীর মধ্যে অধিকাংশই সেদিন ক্যাম্পাসে ছিল না বলে জানা গেছে। এরপর সংগঠনের বিদ্রোহীদের কারণেই ছাত্রদল ছয় মাস ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি।
কিন্তু বিএনপি হরতাল ডাকার পর হঠাৎ করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ছয় মাস ক্যাম্পাসে বিদ্রোহী শিপন-খোকন গ্রম্নপকে পদ না দিয়ে কয়েক দিন আগে তাদের দাবি অনুযায়ী পদ দিতে রাজি হয়েছে সংগঠনের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন ঠুকু। ফলে বিনাবাধায় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। কিন্তু গত ১৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের কথা বলেন ছাত্রলীগের কয়েক নেতা। তারা ছাত্রদলকে এর জন্য দু'দিনের সময় দেয়।
কিন্তু মামলা প্রত্যাহার নিয়ে ছাত্রদল গড়িমসি শুরম্ন করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলকে মামলা প্রত্যাহার না করে মধুর ক্যান্টিনে না আসার আল্টিমেটাম দেয় ছাত্রলীগ। কিন্তু তারা ছাত্রলীগকে উস্কানি দিয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ক্যাম্পাসে আসে। বরং আল্টিমেটামের পরদিন গত সোমবার বেশি সংখ্যক কর্মী নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। যাদের অধিকাংশেরই ছাত্রত্ব নেই।
এই অবস্থায় ছাত্রলীগের কয়েক নেতা তাদের মামলা প্রত্যাহারের অগ্রগতি জানতে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল মতিনকে জিজ্ঞেস করলে কয়েকজন উস্কানিমূলক কথা বলায় মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই বিষয়টিকে ইসু্য বানিয়ে ছাত্রদল মাঠ গরম করতে কর্মসূচীর ঘোষণা করে। আবার বিৰোভ সমাবেশে হরতাল সফল করার আহ্বান জানায়।
জানা গেছে, ছাত্রদল ছাত্রলীগকে উস্কানির জন্যই মামলা প্রত্যাহার করেনি। হরতালের আগে উস্কানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি ঘটানোর পূর্বপরিকল্পনা ছিল তাদের।
তাদের এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, প্রক্টরকে দায়ী করে তাদের পদত্যাগসহ ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের দাবি তুলেছে। এসব দাবি পূরণ না হলে ১ জুলাই থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন বলেন, ছাত্রদল শিবির, নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেশের শিৰাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অরাজকতার সৃষ্টি করার পাঁয়তারার অংশ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগকে উস্কানি দিয়েছে। তারা শানত্ম ক্যাম্পাসগুলোকে অশানত্ম করে তুলতে চায়।
এসব ব্যাপারে ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ছাত্রদল ধারাবাহিকভাবেই শিৰাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে।
মধুর ক্যান্টিনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মারামারির ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে মধুর ক্যান্টিনে মারামারি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। নিয়ন্ত্রণহীন ছাত্রলীগ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।