মিলে মিশে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ!
..................
.........
এক সন্ধ্যায় শোবার ঘরের খাটে বসে আছি আমরা চারজন। বাচ্চারা সামনের দিকে বসে টিভি দেখছে। আমি আর তাদের বাবা পিছনের দিকে বসে গল্প করছি আর পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছি।
আমার কোন এক কথায় তাদের বাবা পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো, “শাব্বাশ!!” আমি একটু বেঁকে উঠে কিছু বলতে যাবো, তার আগেই দেখি বাচ্চারা পিছনে ফিরে শশব্যস্ত হয়ে চিৎকার শুরু করলো, এই আব্বু, আমাদের আম্মুকে মেরো না! তুমি আম্মুকে মারছো কেন?
আমি আর ওদের বাবা দুজনেই বোকা হয়ে গেলাম।
আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম, না না, আমাকে মারেনি তো!
তাদের বাবাও কৈফিয়ত দেয়া শুরু করলো, না না, এটা তো মার না।
তোমাদের আম্মুকে মারিনি তো। ওটা তো গুড বলছি।
কিছুক্ষণ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেয়ার পর বাচ্চাদের বোঝানো গেল ওটা মাইর না, প্রশংসা করার একটা উপায়। তার বাবা আবারো আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বাচ্চাদের নিশ্চিন্ত করলো। এইবার ঠিক আছে।
পরে বাচ্চাদের আড়ালে পাট নিলাম, বুইঝো কিন্তু। বাচ্চারা আমার দলে, কোন তেরিবেরি করবা, খবর আছে।
-- তাই তো দেখছি! ওরে বাবা! মায়ের সৈনিকেরা!
-----------------------------------------------------
আমার এক কলিগও বলতেন, বাচ্চারা হলো মায়েদের জন্য বল, শক্তি।
বাচ্চা হলে পরে মায়েদের উপর দাপট কমে শ্বশুরবাড়ির। কি জানি, এটা হয়তো সত্যি, হয়তো না।
-----------------------------------------------------
আজকের পত্রিকায় দেখলাম তেমনই বিপ্লবী দুই সন্তানকে। মায়ের অপমানে দেয়াল ভরে লিখে রেখেছে তাদের প্রতিবাদী কথন।
"আমরা মায়ের অপমান চাই না ... ... ..."
"মাথা নিচু করে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল ... ... ..."
নাহ্, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা বা বিষপানে খুন যাই হোক না কেন, অমন মৃত্যুকে আমি সমর্থন করছি না, কিন্তু বাচ্চাদের মায়ের অধিকারের প্রতি অমন সচেতনতা, মায়ের অপমানের বিরুদ্ধে এমন সশব্দ প্রতিবাদ কে কবে দেখেছি বলুন?
বাংলা মায়ের বিপ্লবী সন্তানেরা, এমনি করে তোমরা মায়ের অপমানের প্রতিবাদ করো, তবে অকালে হারিয়ে যেও না এ অনুরোধ করি।
এটা তো হেরে যাওয়া হলো!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।