আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সুন্দরবনের পথে পথে - ভাল লাগা পরতে পরতে

shamseerbd@yahoo.com
একদিন টানটান করে আমি মেলে ধরলুম আমার চোখের পাতা তখনতো ভোর , তাই পুব দিকে , মানে তোমার মুখে তখন কী যে জটিলতাহীন অরুনাভা কী যে অরুনা কী অরুন। সুন্দরবনের সূর্য উঠার সময়টুকুকে বর্ণনা করার জন্য আবারও আমার জয়গোস্বামীর কাছেই যেতে হল। স্নিগ্ধ সকালটুকু বড় মায়াকাড়া, মন ভাল করার জন্য আর কিছুরই আসলে দরকার নেই তখন। ইঞ্জিন বোটে করে আমরা ঢুকে পড়ি অগনিত খালের জাল বিছানো সুন্দরবনেরই একটি খালে। আমাদের উদ্দেশ্য সকাল বেলার পাখি দেখা, পাখি দেখার জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল সময়।

এত দ্রুত তারা উড়ে যায় যে, ক্যামেরার চোখে দেখব না খালি চোখে দেখব সে সময়টুকুও পাওয়া যায়না। সারারাত মাছ ধরে ক্লান্ত ভয়ডরহীন জেলেরা তখন নৌকার বুকেই ঘুমিয়ে পড়েছে অনেকেই। লুমিক্স ক্লিক টু ফেমের প্রতিযোগীরা তখন ব্যস্ত ছবি তোলায়। পাখি দেখতে যাবার শর্ত হচ্ছে কোন শব্দ করা যাবেনা, ইঞ্জিন ও বন্ধ করে দিতে হবে। জলে কুমীর ডাঙ্গায় বাঘ- এক কথায় এটাই সুন্দরবনের পরিচয়।

বাঘের দেখা না পেলেও আমরা কুমীরের দেখা পেয়ে গেলাম। নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে জলদানব, আশে পাশে কি হচ্ছে তা নিয়ে ওর যে কোন মাথা ব্যাথাই নেই। আমাদেরকে বিশেষ একটা পাত্তাও দিলনা। পাখি দর্শন শেষে আবারও জাহাজে প্রত্যাবর্তন। ঘন্টা দুয়েক পথ চলে আবারও আমরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি- এইবারের টার্গেট উদ্দেশ্য বিহীনভাবে খালে খালে ঘুরে বেড়ানো।

দুতিন জন নেমে নৌকায় বসতে না বসতেই এক দেড়শ ফিট দূরে একটা কুমীর একটু মাথা তুলল। যারা নৌকায় ছিলো তারাও এক লাফে আবার জাহাজে উঠে গেল। প্রতিযোগীরা প্রতিযোগীতার কথা ভুলে নিজের জীবন নিয়ে আলোচনা করছে যাবে কি যাবেনা। সবাই দ্বিধান্বিত- জানের মায়া কার না আছে। মাঝি সাহস দিলেও কারও নড়াচড়া দেখা যাচ্ছেনা।

দুঃসাহসী মুডে এগিয়ে এলেন ডেইলী স্টারের কমার্শিয়াল ম্যানেজার শের আলী ভাই, ঘোষনা দিলেন " আরে জলে কুমীর তো কি হইছে , নৌকায় আছি আমি শের আলী, লরাই হবে সমানে সমান "। সবাই হো হো করে হেসে উঠলেও কোন ভরসা পেল বলে মনে হয়না। তবুও সুন্দরবনের গহীনে যাবার লোভ বলে কথা- এক সময় সবাই নৌকায় উঠে এলাম। শের আলী ভাইর ভয়েই হউক আর নিজের অত ক্ষুধা না থাকার কারনেই হউক কুমীর আর দেখা দিলনা। তবুও ধন্যবাদ কুমীর দ্বয়কে , মিঠা পানির এই প্রায়ই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির দু সদস্যকে অবলোকন করার সুযোগ দানের জন্য।

সেখান থেকে ফিরে আমরা বনবিভাগের একটি রিজার্ভ ফরেস্টে গেলাম ট্রেকিং এর জন্য। সুন্দরী, পশুর, সিংড়া গাছের সাথে পরিচয় হল সবার, গোলপাতাত আছেই সবখানে। জাহাজে ফিরে আসার পর আরেকটি মজার অভিজ্ঞতা হল আমার। ইভেন্টের পুরোটা তত্বাবধানে থাকা জাবেদ ভাই বললেন রেডীও টুডের হয়ে প্রতিযোগীদের একটা সাক্ষাৎকার নিতে হবে। আমি অবাক হয়ে বললাম- আমি !!! জাবেদ ভাই সাহস দিয়ে বললেন আপনি পারবেন, আমিও সাহসী হই, কিন্তু বুকের মাঝে হালকা চাপ ঠিকি টের পেলাম।

মনে মনে একটা রিহার্সেল দিলাম- বারবার আঁটকে যাচ্ছি। আমাদের জাহাজ চলছে, বাইরে ঝুম বৃস্টি । নদীর বুকে জলের পতন উপভোগ করছি, আর মনে মনে রিহার্সেল দিচ্ছি। সবাই বৃস্টিতে ভিজতেছে আর আমি মোবাইল হাতে বসে আছি। লুমিক্স এর আয়োজক টীম আর প্রতিযোগীরা সবাই বৃস্টি স্নানে দেখে আমার ও ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমার উপাই নেই।

একসময় এল ফোন রেডীও টুডে থেকে। ঢাকা থেকে উপস্হাপক তার কথা শেষ করে বললেন আমরা এখন চলে যাচ্ছি সুন্দর বনে, সেখানে কথা বলব শামসীরের সাথে । আর জে দের বাংলীশকে উঠতে বসতে ঝাড়ি দিলেও আমিও শুরু করলাম তাদেরই মত করে। হ্যালোও লিসেনার, শামসীর বলছি সুন্দরবন থেকে, লুমিক্স ক্লীক টু ফেমের প্রতিযোগীদের নিয়ে .................বৃস্টি হচ্ছে ,ঝুম বৃস্টি, অসাধারন মোমেন্ট, ............সব বাংলাদেশীদেরই উচিৎ লাইফে একবার সুন্দরবন ট্যুর এ যাওয়া..........আমি এখন কথা বলব আমাদের প্রতিযোগী....... মজা পেলাম দারুন । ফেসবুকে যখন দিলাম বন্ধুরা বলল আগে বলি নাই কেন।

কি করে বলি , আমিত ভাবছিলাম অর্ধেক পথে গিয়ে আঁটকাইয়া যাব ঝুম বৃস্টি উপভোগ করার জন্য এগিয়ে গেলাম। বৃস্টি স্নান শেষে ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম ডেকে । সামু থেকে পাওয়া লিংকে থেকে ডাউনলোড করা বৃস্টির গান গুলো ছেড়ে দিলাম- ওগো বৃস্টি আমার চোখে পাতা ছুয়োনা- আমার এত সাধের কান্নার দাগ ধুয়োনা- সে যেন এসে দেখে কেমন করে কেঁদেছি.......। বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলে বেলার গান- বৃস্টি পড়ে টুপুর টুপুর নদে এল বান- এসো হাত ধর, চল ভিজি আজ বৃস্টিতে অঝোর ধারায় শ্রাবন, উদাসীনতায় ভরে মন, নীলিমায় মেঘ জড়ো হয়, সে তবু এলনা অকারন........ আমি বৃস্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, আমায় কান্নার ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই আমি বৃষ্টি দেখেছি বৃষ্টির ছবি একেছি আমি রোদে পুরে ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার খেলা থামেনি .....। আমাদের জাহাজ ও ফিরতি পথ ধরেছে।

আমিও হারিয়ে যায় স্মৃতির মায়ায়.......নিজের মাঝে। গুন গুনিয়ে নিজেই গাইটে থাকি- বহুদূর যেতে হবে -এখনও পথের অনেক রয়েছে বাকী তুমি ভয় পেয়োনা-তুমি থেমে যেওনা ভালবাসায় বিশ্বাস রেখো........
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।