zahidmedia@gmail.com
ফেনীর বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন হাজারী বলেছেন, ফেব্র“য়ারি মাস থেকে আমি পূর্ণ শক্তি নিয়ে রাজনীতির ময়দানে নামছি। ফেনীর টেন্ডার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি রুখতে কাজ করে যাবো। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত শক্তি দিয়ে ফেনীর অপরাজনীতি বন্ধ করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করতে এখন থেকে আপ্রাণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। বুধবার জয়নাল হাজারী তার রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় বাসায় ফোকাস বাংলা নিউজের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুর রহমানের সঙ্গে একান্ত সাাৎকারে এসব কথা বলেছেন।
প্রবাসে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাসন জীবন প্রথম প্রথম খুবই খারাপ লেগেছে। তবে কিছুদিন পরই নিজেকে ওই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। হাজারিকা বিডি ডট কম নামে ওয়েব সাইড নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। এতে আমি আমার লেখা গুলো নিজেই আপডেট দিতাম। তবে নির্বাসন জীবনে পৃথিবীর চিন্তা ছিল না।
দেশে ফিরে এসে দেখলাম প্রবাসে থাকা ৭ বছর যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। এখন মুক্ত জীবনে আছি। মুক্ত জীবন ভালোই লাগছে। ’
তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে এসে দেখছি আমার ঘরের মধ্যেই অনেক শত্র“ সৃষ্টি হয়েছে। যারা এক সময় আমার শীর্ষ ছিল তারা এখন আমার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে।
তবে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখন আমার বিরোধ নেই। ফেনীর কিছু উপজেলা চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। ’
দল থেকে তাকে বহিস্কারের ব্যাপারে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমাকে কখনই দল থেকে বহিস্কার করা হয়নি। আমাকে বহিস্কারের কোন প্রমান দলের হাই কামন্ডের কাছে নেই। দলের কোন সভাতে আমার বহিস্কারের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়নি, কার্যবিবরীনিতেও বহিস্কারের কথা নেই।
আমি আওয়ামী লীগে আছি, আমরণ থাকবো। আমি এখনো ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। ’
তিনি বলেন, আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে মিডিয়ায় প্রচার করেছে। জলিল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। আমাকে নিয়ে যে অনিয়ম করেছে সে নিজেও ওই ফাঁদে পড়েছে।
আল্লাহ তাকে পাপের শাস্তি দিয়েছে।
দেশ ত্যাগের ব্যাপারে হাজারী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আমার উপস্থিতি ছিল খালেদা জিয়ার জন্য বড় হুমকি। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিন্তা করেছে হাজারী থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারবে না। এ জন্য তিনি আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্লিন কিন্টনের কাছে নালিশ করেছেন। এর পর থেকে খালেদার প্ররোচনায় ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগ এনে প্রশাসনিক সন্ত্রাস দিয়ে আমাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
কিন্তু জনগণ থেকে আমাকে আলাদা করতে পারেনি।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে না থাকলেও ফেনীতে আমি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে বিএনপির ক্যাডাররা প্রতিটি ভোট কেন্দ্র দখল করে আমাকে নির্বাচনে পরাজিত করেছে। ’
বিতর্কিত কাস কমিটি সম্পর্কে হাজারী বলেন, যুব সমাজের কল্যাণে আমার হাতে গড়া কাস কমিটি আমি বন্ধ করে দিয়েছি। এ কাস কমিটির নাম বিক্রি করে অনেকেই নানা অপকর্ম করেছে।
এখন কাস কমিটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ।
হাজারী বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে ফেনীতে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বেড়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। দলের নেতাকর্মীরা এখন দলকে শক্তিশালী করার চেয়ে নিজের উন্নয়নের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফেনীর রাজনীতিতে এখন আওয়ামী লীগ নিস্তেজ হয়ে আছে।
এখন ফেনীতে কেউ কাউকে মান্য করে না। আমার আমলে ফেনীর সর্বত্র চেইন অব কমান্ড ছিল।
তিনি বর্তমান সরকারকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে এ সরকারকে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের দেশে ক্রিড়াঙ্গনে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। এখানে অনুশীলনে গুরুত্ব দেয়া হয় না।
সুন্দর পলিকল্পনা করে দেশের ক্রীড়া জগতকে এগিয়ে নিতে হবে। ’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে হাজারী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত। তবে এ প্রক্রিয়ায় যেন কোন নিরপরাধী ধরা না পড়ে। দেশেতো এখন যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা তেমন বেশি নেই। অনেকেই মারা গেছে, যারা জীবিত আছে তারা বয়সের ভারে অসুস্থ।
যে কয়’জন বেঁচে আছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা দরকার।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে কি শেখ হাসিনার জীবন হুমকির মুখে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে হাজারী ফোকাস বাংলা নিউজকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলেই যে শেখ হাসিনা ও মুজিব পরিবারের জন্য হুমকি কমে যাবে সেটা আমি মনে করি না। বিপদ আগে থেকে বলে আসে না। বিডিআর হত্যাকন্ডের ঘটনাওতো আগে কেউ জানতো না। আরেকটি রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট এর ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
আওয়ামী লীগের কিছু সিনিয়র নেতা সভানেত্রীর ওপর ুদ্ধ আছে। তবে আমি মনে করি না আওয়ামী লীগে ১৫ আগস্টের ঘাতকদের মতো কেউ আছে।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতি প্রত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে হাজারী বলেন, জয় অবলা একটা ছেলে। তাকে আমি শিশুকাল থেকেইে দেখেছি। জয় খুব ভালো প্রকৃতির একটা ছেলে।
তার দ্বারা অসৎ কাজ করা বিশ্বাস যোগ্য নয়।
চলচিত্রে অভিনয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই ভীষন সিনেমা পাগল ছিলাম। স্কুলে থাকা অবস্থায় মনের মাঝে স্বপ্ন জেগেছে সিনেমায় অভিনয় করার। কিন্তু সে সুযোগ ও সময় পায়নি। অবশেষে ছোট বেলার শখ ও স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি ‘ডন’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করছি।
‘ডন’ ছবির মাধ্যমেই আমার ছোটকালের স্বপ্ন পূরণ হবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।