আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

টিভির টকশো নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা



ভিন্নমতের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের টেলিভিশন টকশোতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করে নির্দেশনা দিয়েছে, ভিন্নমতের কাউকে আপাতত টকশোতে আনা যাবে না। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘টকশোগুলো অপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রচারিত হওয়ায় দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এজন্য চ্যানেলগুলোকে নির্দেশনাদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে গাইড লাইন মেনেই টকশো চালানোর অঙ্গীকার করতে হবে। ’ খসড়া গাইড লাইনে কোনো ধরনের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য, অন্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট মতামত এবং বাংলাদেশের আইনসিদ্ধ ও নির্বাচিত সরকারের প্রতি অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, এমন কোনো বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়াও যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে : টকশোর আলোচনায় বক্তাকে নির্ধারিত লক্ষ্যে ধাবিত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন পরিহার করতে হবে, আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে অভ্যাগত অতিথিদের বেশি কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। টকশোতে সব ধরনের উন্নয়নমূলক, গঠনমূলক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষামূলক বিষয় প্রাধান্য দিতে হবে, অতিথি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, একই অতিথিকে বারবার আমন্ত্রণ জানানো নিরুত্সাহিত করতে হবে, টকশো অবশ্যই সংকলিত হতে হবে, একটি টেলিভিশন চ্যানেল একদিনে সর্বোচ্চ একটি টকশো আয়োজন করতে পারবে এবং টকশোগুলোয় কোনো ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা অথবা লাইভ এসএমএস/টেলিফোন কল সংযোজন করা যাবে না। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও বিভিন্ন সংস্থা টকশো নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। যারা তত্কালীন সরকারের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের সমালোচনা করত তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে টিভি চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যেন সংশ্লিষ্ট আলোচকদের টকশোতে ডাকা না হয়। এবার নীতিমালা করে সরকারের সমালোচনা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

বিগত তদারকি সরকারের সময় সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ কর্মীদের ওপর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক নীতিনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ব্যাপারে যেসব বিধিনিষেধ জারি ছিল, বর্তমান সরকারের সময়ও তা বহাল রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার চোখরাঙানির পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের নির্মম নিপীড়ন ও মামলা দিয়ে হয়রানি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের মতো এখনও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বাক্ষরিত নির্দেশমালা ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কীভাবে টকশো চালাতে হবে, কী ধরনের কথাবার্তা সেখানে বলা হবে, কী পদ্ধতিতে টকশো রেকর্ড হবে—সবই বলে দেয়া হচ্ছে নির্দেশনামালায়। Click This Link


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।