h
ক্ষেপনাস্ত্রের সাতকাহন - ১
এবারের আলোচনায় মিসাইল বিষয়ে একটু গভীরে যাব। কিছু প্রযুক্তিগত শব্দ ব্যবহার করা হবে যার সহজ-সরল বাংলা করা নেই, তাই ক্ষমা করবেন নিজগুনে।
মিসাইলের বায়ুবিদ্যার ওপর কথা বলেছিলাম গত পর্বে। মূলত বায়ুবিদ্যার ওপর ভর করে মিসাইলের আকার আকৃতি নির্ধারণ করা হয়। কিছু ভ্যারিয়েবল বা চলকের হিসাব থেকে আমরা মিসাইলের এ্যারোডিনামিক্স কনফিগারেশন নির্ধারন করতে পারি।
সেগুলো হল, ফ্লাইট কন্ডিশন [ক্ষেপন কোন(৪৫০ তে সর্বোচ্চ), ম্যাক সংখ্যা(শব্দেরবেগ ও ক্ষেপনাস্ত্রের বেগের অনুপাত), উচ্চতা (সর্বোচ্চ কতটুকু উচ্চতায় ওঠার পর ক্ষেপনাস্ত্রটি আনুভূমিক ভাবে বিচরন করবে)], মিসাইলের নাক (চোখা নাকি ভোঁতা), মিসাইলের দৈর্ঘ্য ও পরিধি, জ্বালানীর ধরন-ভর ও নিশঃশেষ হবার হার, ডানার আকৃতি ও প্রাথমিক ঘাতবেগ। মিসাইলটি সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশী বেগে) নাকি সাবসনিক (শব্দের চেয়ে কম বেগে) যাবে তার ওপর ভর করে নাকের ডিজাইন করা হয়। আর আকাশের ওপর মিসাইলের স্থায়িত্ব বা স্ট্যাবিলিটি নির্ভর করে মিসাইলের ডানার আকার-আকৃতির ওপর।
মিসাইলের বিভিন্ন অংশের তুলনামূলক পরিমাপন।
এবার আমরা দেখব আকার, আকৃতি, ভর, ম্যানুভ্যারাবিলিটি (ধরুন মিসাইলটি একটি জঙ্গিবিমানকে ধাওয়া করছে, কতদ্রুত মিসাইলটি তার পজিশন পরিবর্তন করে সর্বনিম্ন পথ বাছাই করে বিমানটিকে ধরাশায়ী করতে পারে তা – বিস্তারিতঃ চারিদিকে শত্রু, মাসুদ রানা হাহাহা), বেগ, ত্বরন ইত্যাদির পরিবর্তনের সাথে সাথে মিসাইলের স্টেট-অফ-আর্ট ও কার্জপরিধি কিভাবে পরিবর্তন হয় তাঃ
যেমনঃ বিমাম-থেকে-বিমান (Air to Air) মিসাইল ডিজাইনের সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে মূলত ভর, ম্যানুভ্যারাবিলিটি ও রেঞ্জের ওপর।
আবার আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপন যোগ্য মিসাইলের ক্ষেত্রে লক্ষবস্তুতে নির্ভুল আঘাত করার ক্ষমতা, বহুমুখিতা (ভার্সেটাইলিটি), রেঞ্জ-স্পিড এগুলোর ওপর লক্ষ্য রাখতে হয় আবার ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপন যোগ্য মিসাইলের ক্ষেত্রে চিন্তা করতে হবে এটা কি ধরনের মিসাইল। যদি দুরপাল্লার মিসাইল হয় তবে ভর বা ম্যানুভ্যারাবিলিটির চেয়ে রেঞ্জ বা পরিধি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি মনুষ্যবাহী হয় (আর-পি-জি বা জ্যাভেলিনের মতন) তবে ভর অন্যতম বড় নিয়ামক।
একটি সহজ ফ্লো-চার্টের সাহায্যে মিসাইল ডিজাইনের কর্মপন্থা নির্ধারন করা যায়, প্রথমে একটা বেইসলাইন দাড় করাতে হবে অর্থাৎ আমরা কোন ধরনের মিসাইল চাই (ভূমি থেকে ভূমি, নাকি আকাশ-থেকে আকাশ). এরপর তার বায়ুবিদ্যা সম্পর্কিত কাজগুলো সম্পাদন করতে হবে (পাখার ডিজাইন, সাইজ কত বড় হবে, কত বেগে যাবে এইসব)। অতঃপর জ্বালানী বিষয়ে আলোকপাত করতে হবে (সলিড নাকি লিক্যুইড ফুয়েল, প্রাথমিক ধাক্কার জন্য বুস্টিং কতটুকু এসব), এরপরে মিসাইলের ভর ও গাইডেন্স নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
যদি সফল হয় তো কেল্লা ফতে, তা না হলে পুনরায় আবার ডিজাইন পর্যাবেক্ষন-পরীক্ষন ও যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরীক্ষন।
কিন্তু, মিসাইল টা যদি এমন হয়, তবে...
[সূত্রঃ ট্যাকটিক্যাল মিসাইল ডিজাইন- ইউজিন এল ফ্লিম্যান (১ম এডিশান)]
(চলবে...)
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।