h
পারমানবিক অস্ত্র কিভাবে কাজ করে? - ১
পারমানবিক অস্ত্র কিভাবে কাজ করে? - ২
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জার্মান ভি-২ রকেটের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন (সুত্রঃ উইকি)
সত্যি কথা বলতে কি, ক্ষেপনাস্ত্র বা মিসাইল নামটি ভয়ঙ্কর শোনালেও বস্তুত মিসাইল আর রকেটের মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্যই। রকেট কি কাজে লাগে তা আমরা মোটামুটি ভাবে অনেকেই জানি, রকেটকে বলা যায় মিসাইলের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাশুন্যে মানুষ, যন্ত্রাংশ বা কৃত্তিম উপগ্রহ পাঠাতে রকেট ব্যবহৃত হয়। তবে এবার মিসাইল বা ক্ষেপনাস্ত্র সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
মিসাইল হলো, স্ব-জ্বালানী নির্ভর নিক্ষেপিত রকেট যাতে নিউক্লিয়ার বা প্রচলিত ওয়ারহেড থাকে। হাউই-বাজির সাথে আমরা পরিচিত (বানান ঠিক আছে কিনা জানিনা, ইংরেজিতে বলি ফায়ার ওয়র্কস), সেগুলোর একটি পরিমার্জিত ও আধুনিক রূপ হলো মিসাইল।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই মিসাইল টেকনলজি সর্বপ্রথম আমাদের উপমহাদেশেই প্রথম যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যাবহৃত হয়, মহিসুরের টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম ব্যাবহার করেন। এরপর কালের বিবর্তনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা ভি-২ নামের মিসাইল উদ্ভব করে যা কিনা প্রথম আধুনিক মিসাইল হিসেবে স্বীকৃত। আধুনিক বলতে বুঝানো হচ্ছে মিসাইলের যথাযথ ও নির্ভূল ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের কৌশল। তাই এ ক্ষেত্রে এ্যারোডিনামিক্স বা বায়ুবিদ্যা ও কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং বা নিয়ন্ত্রন কৌশল অত্যন্ত জরুরী। তার সাথে আবার জুড়ি আছে মিসাইলের লক্ষ্যভেদের সীমানা বা রেঞ্জ ও ভারবাহন ক্ষমতা বা পে-লোড এর ব্যপার-স্যপার।
এই আলোচনাকে আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি যেমন, মিসাইল গাইডেন্স বা পরিচালনা, বায়ুবিদ্যা, মিসাইলের ইঞ্জিন ও ওয়ারহেড নিয়ে।
প্রথমেই আসি গাইডেন্স বলতে কি বুঝি, খুব সহজ ভাবে চিন্তা করি, গুলতি দিয়ে পাখি শিকারে আমরা প্রথমে লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করে নেই। এরপর ঢিল ছুড়ি, ঠিক সেরকম-ই হলো গাইডেন্স, অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুকে স্থির করা। আগে পদার্থবিদ্যার পরাবৃত্তের জটিল সমীকরন দিয়ে মিসাইল গাইড করা হতো, কিন্তু এখন মূল ভিত্তি ঠিক রেখে আরও নির্ভূল ভাবে মিসাইল গাইডের জন্য স্বল্প পাল্লার মিসাইল লেসার বা হিট সিকিং ডিভাইস দিয়ে ও দূর পাল্লার মিসাইল স্যাটেলাইট ও জিপিএস দিয়ে গাইড করা হয়। মূলত, হিট সিকিং গাইডেন্স বিমান থেকে বিমানে (Air-to-Air) নিক্ষিপ্ত মিসাইলে ব্যাবহার করা হয়।
এরপর আসি বায়ুবিদ্যায়, একটি মিসাইলকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বায়ুবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। মিসাইলের আকার, আকৃতি, রেঞ্জ অনেক কিছুই নির্ভর করে এই অ্যা্রোডিনামিক্সের ওপর। বার্নলির সুত্রের ওপর ভিত্তি করে মিসাইল বা বিমান আকাশে এগিয়ে চলে। ভূপৃষ্ঠের নিম্নাংশের বায়ুর ঘনত্বে তুলনায় ওপরের পৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব কম আর তাই টার্বুলেন্স বা উত্তাল বেশি। আর তাই ক্ষেপনাস্ত্রের নির্দিষ্ট গতিপথ থেকে বিচ্যুতির সম্ভাবনাও তত-ই প্রবল।
এসব দিক বিবেচনা করে মিসাইল ডিজাইন করা হয়।
মিসাইলের ইঞ্জিনের সাথে রকেট ইঞ্জিনের তেমন কোন পার্থক্য নেই। রকেট ইঞ্জিনে সলিড ফুয়েল বা লিকুইড ফুয়েল ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানী বহু আগে থেকেই চায়নিজ ও আরবরা ব্যাবহার করে আসছে, এতে বারুদ, জিংক-সালফার ও এমোনিয়াম নাইট্রেটের মিশ্রন থাকে যা কিনা নিয়ন্ত্রন করে তরল জ্বালানী থেকে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক। রকেটের তরল জ্বালানীতে তরল হাইড্রোজেন, হাইড্রাজিন, ইথানল বা পারঅক্সাইডের সাথে তরল অক্সিজেন মিশ্রন ঘটিয়ে দাহ্য পদার্থে পরিনত করে ইঞ্জিন ইগনাইট করা হয়।
ওয়ারহেড হলো মিসাইলের এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। ওয়ারহেড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন, প্রচলিত কনভেনশনাল ওয়ারহেড বা বারুদে ঠাসা, ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড যাতে ধাতদ টুকরা থাকে, কেমিক্যাল ওয়ারহেড যাতে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ – বিষাক্ত গ্যাস বা তরল থাকতে পারে যেমন মাস্টার্ড গ্যাস, বায়োলজিক্যাল ওয়ারহেড যাতে কিনা বায়োলজিক্যাল বিষাক্ত পদার্থ থাকে যেমন অ্যান্থ্রাক্স, আর বহুল আলোচিতো নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডে কি থাকে সেটা তো আন্দাজ-ই করা যায়।
(চলবে...)
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।