কানাকে কানা, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না, ইহাতে উহারা কষ্ট পায়
পিলখানা বিদ্রোহের পর একের পর এক বিডিআর সদস্যের মৃত্যু নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো শুরু থেকেই সোচ্চার হলেও অস্বাভাবিক মৃত্যু কিন্তু থেমে নেই। তারা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নির্বাহী তদন্ত দাবি করে আসছে। এসব মৃত্যু নিয়ে বিডিআর সদস্যদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে নানা সন্দেহ ও অবিশ্বাস। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব মৃত্যু স্বাভাবিক। সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো অবকাশ নেই।
তবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বিডিআর জওয়ানের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছে বিডিআর কর্তৃপক্ষ।
বিডিআর জওয়ানদের পরিবারের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে জওয়ানরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। গ্রেফতার হওয়া বিডিআর সদস্যরা বিভিন্ন সময় আদালতে তাদের ওপর নির্যাতন করার অভিযোগ করেছেন। তারা আদালতকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিডিআর সদস্যদের নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
বিডিআর সদর দফতরের সূত্র মতে, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর মোট ৪৭ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকায় ২৭ জন। বাকিরা ঢাকার বাইরে। ঢাকার ২৭ জনের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১০, আত্মহত্যায় ৫, লিভার সমসায় ৪, কিডনি রোগে ৩, উচ্চ রক্তচাপে ও ক্যান্সারে ২ জন মারা যান।
ঢাকার বাইরে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে সাতজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, তিন জন আত্মহত্যা, দু'জন সড়ক দুর্ঘটনা, একজন ছুটিতে থাকা অবস্থায় আততায়ীর হাতে, একজন নিজের বিছানায় শোয়া অবস্থায়, একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে, একজন অ্যাজমা রোগে, একজন ম্যালেরিয়ায়, দু'জন বুকে ব্যথায় ও একজন মাথাব্যথার পর হাসপাতালে মারা যান।
গতকাল রাজশাহীতে মৃত নুরুল আমীনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর ভুরিয়া গ্রামে।
তিনি ৩৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নের নায়েক হিসেবে খানপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। গতকাল সকালে ফাঁড়ি থেকে নৌকাযোগে সরকারি কাজে সেক্টরে আসার সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গত রোববার মিটফোর্ড হাসপাতালে শওকত ওসমান নামে এক বিডিআর জওয়ান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ডাক্তাররা জানিয়েছেন, শওকত শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।
বিভিন্ন সময়ে বিডিআর সদর দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনের কারণে পিলখানায় কোনো বিডিআর সদস্যের মৃত্যু হয়নি। হৃদরোগ, আত্মহত্যাসহ নানা রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। যারা মারা গেছেন তাদের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিডিআর সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সেখানে সব ধরনের কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বিডিআর জওয়ানদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পিলখানায় কী ঘটছে, তা জনগণকে জানানো দরকার। জনগণ এসব তথ্য জানার অধিকার রাখে।
সূত্রঃ আজকের সমকাল
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।