আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা বিতর্কঃ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই রাষ্ট্রের দাবিদার



মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বি এনপি'র মধ্যকার মতপার্থক্য বহু পুরনো। বি এনপি ক্ষমতায় আসলে তাদের মত করে এতিহাস সাজায় আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তাদের মত করে সাজায়। এ নিয়ে চলে নানা তর্ক-বিতর্ক। কোমল মতি ছেলে মেয়েদের একবার ক্লাস ত্রি'র বইতে পড়ানো হয় জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক। আবার পাঁচ বছর পর ক্ষমতার পালা বদলে এই শিক্ষার্থীরাই এইটে গিয়ে পড়ে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষক।

এতে কি তারা বিভ্রান্তিতে পড়ছে না? স্বধীনতা নিয়ে এবং এর মালিকানা নিয়ে শেখ মুজিব এবং জিয়ার মধ্যকার কখনো মতপার্থক্য হয়নি। তাহলে এরা কারা তাদের এই ইস্যু নিয়ে স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর নতুন বিতর্কে জড়াতে চায়? নিশ্চয়ই এরা সুবিধাবাদী, চাটুকারের দল। স্বাধীনতা কারো একার সম্পত্তি নয়। নয় জিয়া'র নয় শেখ মুজিবের। শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পাকিস্তান কারাগারে আর তার সাঙ্গপাঙ্গ তুফায়েল-আমু-মতিয়া-রাজ্জাকরা ছিল ভারতে বেশ আলিশানে ।

আর জিয়া সেক্টর কমান্ডার, তখন তো সে বাধ্য সেনাবাহিনীর লোক হিসেবে যুদ্ধ করতে। সাঙ্গপাঙ্গ'র প্রশ্নইতো আসে না। মুক্তিযুদ্ধ করেছে এদেশের লক্ষ ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবী জনতা। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। অথচ তারাই আজ উপেক্ষিত।

আমার এলাকার এক বীরবীক্রম না খেয়ে ধুকে ধুকে মারা গেছেন। ভদ্র লোকের এক মেয়ে আমাদের সাথে হাই স্কুলে পড়তো। কত কষ্ট কর্ই না চলত। ছেড়া জামা পড়ে স্কুলে আসত। সে প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতো আমার বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়াই করে শারিরীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সরকারী কোন অনুদান আজা পর্যন্ত পায়নি।

অনেক কথাই সে আমাদের সামনে লুকাতো। তারপরও জোরাজুরি করলে কিছু বলতো। সেই বীর সেনানী বীরবিক্রম গত বছর অর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আত্মাহুতির ঘোষণা দিলে প্রসাশন একটু সহায়তার আশ্বাশ দেয়। কিন্তু সেই সহায়তা গ্রহণ করার পূর্বে তিনি পরলোক গমন করেন। এই হচ্ছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের বাস্তব চিত্র।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ভারত যখন বাংলাদেশকে মরুভূীম বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত তখন সরকার জণগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বাদ দিয়ে এ ধরণের একটি বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে জণগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চায়। রাজনৈতিক লোকদের যে হারে বিচার বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তাতে আগামীতে শেখ মুজিব ও জিয়া বাংলাদেশের কেই নন বলেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আবার এ নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা যাব না। কারণ হাইকোর্টের রায়। সুতরাং জাতিকে এ সকল বলয় থেকে বের হতে হবে।

জাতির ঐক্যের স্বার্থে এ সকল বিতর্ক অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.