আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একবার চাই এক চিক্কুর দিবার....দিমু তয় জিগাই কিসের সুখে দু:খ নিয়া কর তুমি ঘর........



সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের মাঝে খোলা প্রান্তর। সাথে আছে কৃত্রিম লেক। আমি জলঝিড়ি বলি। তারই জলে স্বাচ্ছন্দে নগ্ন পা ডুবিয়ে চলে গেছ তুমি। ভালোলাগায় ভরে গেছে আমার মন।

তুমি হেসেছো। আকাশ থেকে তুলোর মতো খন্ড খন্ড উড়ে গেছে মেঘ। দুরের বেঞ্চে মগ্ন হয়েছে একদল স্বপ্নবাজ। গীটারে গান করছে ওরা । আমার পরিচিত গান," আমার এই প্রান বৃথা...উড়ে বেড়ায় তোমারই ছায়ায়..কি এক উৎকন্ঠা আমার....সাঝের মেঘ ভেসে ভেসে যায়.." আমি গুনগুন করে তাদের সাথে গেয়ে উঠেছি অজান্তেই ।

এতদিনে কর্মব্যস্ত মানুষের দম ফেলার একটি জায়গা হয়েছে। দলে দলে ফুলের পাপড়ির মতো করে যুবকেরা বসেছে আড্ডায়। তারা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েছে পরস্পরের গায়ে , তারা অভিমানে বুক ভার করছে, আবার কেঁদে বুক খালিও করেছে। শৈশবের কষ্ট আর উদ্দাম জীবনের গল্প শুনাচ্ছে প্রিয়তম বন্ধুকে , ভাসা পানিতে গা ভিজিয়ে জ্বর আর মায়ের বকুনীর গল্পে মুগ্ধ করেছে প্রিয়তমাকে। তারা জীবনের কষ্ট ভাগাভাগি করছে আরো এক দু:খী বন্ধুর সাথে।

দুটি পাতা ভালোবেসে চুম্বনে সিক্ত করেছে একটি কুড়ি। শহরের জঞ্জাল এড়িয়ে আরো নিবিড় হতে যুগলেরা এসেছে। বসেছে পাম আর দেশি গাছের অন্ধকার ছায়ায়। শিকড় খুঁজতে হারিয়ে গেছে দুজন দুজনার মাঝে। তারপর কাদা মাখামাখি হয়ে জলঝিড়ির জলে পা ডুবিয়ে দিয়েছে তারা।

চাঁদের আলোয় তাদের মুখ কেমন আবির রাঙা! সেই রঙের পরশ ছুটে গেছে ছুটা নক্ষত্রের হাত ধরে, সহদোরার মতো। সারাদিনের টুকরো টুকরো ব্যথা নিয়ে আমিও তাদের একজন। এখানে উন্মুক্ত মাঠের কাছে, জলের কিনারে রেখে যাবো আমার অভিমান। তারপর আরো একটি সুন্দর ভোরের অপেক্ষায় ফিরে যাবো ইটের গর্তে । ভালোবাসায় ভিজে উঠা যুবক যুবতিদের চোখে বিষন্নতার ছায়া ফেলে বেজে উঠলো বাঁশি।

হায় বাঁশি...বাঁশি তো আর আগের মতো বাজেনা। শুনেছি কোলকাতা শহরে ভিক্টোরিয়া নামের একটি পার্ক আছে যেখানে যুগলদের নিবিড়তার জন্য পুলিশ রয়েছে। কেউ নিবিড়তম যুগলদের যাতে বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা। অথচ এদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়েরা যাতে প্রাপ্তবয়স্ক আচরন করতে না পারে সেজন্য পুলিশ বাশি ফু দিয়ে তাদের উঠিয়ে দিলো। প্রশাসনের এইসব অবিচারের রেশ নিয়ে বাসায় ফিরবে অতৃপ্ত ছেলেমেয়েরা।

আমার মন আরো ভারী হবে। আড়ালে যেয়ে যুগলদের বিরক্ত করার প্রশাসনিক ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথায় আছে আমার জানা নেই। হ্যা কয়েকটি মুসলিম দেশ আছে যেখানে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া যায়না। সেসব দেশে গরীবদেশ থেকে কাজের মেয়ে রাখা হয়, শুনেছি বাবা ছেলে একসাথে নির্যাতন করে ওই কাজের মেয়ের উপর। উদাহরন, এদেশেই আছে.....।

লেখকের প্রশ্ন: আমি প্রাপ্ত বয়স্ক, আদর করবো আমার প্রিয়তমাকে, হাত ধরে থাকবো তার, অসুবিধাটা কোথায়? উদ্যান আর চাঁদের আলো ভালোবেসে শহরের কোথায় গিয়ে দাড়াবো আমরা ? অতৃপ্ত শরীর নিয়ে আমারা কোথায় যাবো? আমাদেরতো বিয়ের সঙ্গতি নেই। আমাদের শরীরতো জানেনা আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা.. কি করবো আমরা ? ছিনতাইয়ের ঘটনা কি যুগলেরা ঘটায় ? তবে কেন পার্কের ভেতর এই সুন্দর আয়োজন, কার জন্য?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.