আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সখী ভালবাসা কারে কয়? (১ম খন্ড)... (এটি একটি repost front page access পাওয়ার পর)

জীবন অলীক স্বপ্ন নয়, ভাল ও মন্দ সুতোয় বোনা এক অপরূপ নকশী-কাঁথা। ... ভালবাসা আসে কল্লোলিত ঝরণাধারার মত, বিদায় নেয় ঝরা পাতার মর্মরে...

সব মানুষই কখনও না কখনও প্রেমে পড়েছে। আমার জীবনে এ প্রেম ৪ বার এসেছে। শূনে নিশ্চয়ই আপনার হাসি পাচ্ছে যে চার চার বার প্রেম!!! কিন্তু এটাই সত্যি। এর মধ্যে ১ বার ধোঁকা খেয়েছি, ১ বার ধোঁকা দিয়েছি, ১ বার সমাঝোতায় আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আর চতুর্থ বা সর্বশেষ প্রেম এখনও আমার জীবনে বর্তমান। আপনারা সবাই নিশ্চয়ই আমাকে অনেক খারাপ মেয়ে মনে করছেন। কিন্তু যদি আমার কাহিনী পুরোটা পড়েন তবে বুঝবেন যে কতটা কষ্ট আমি পেয়েছি। এখানে আমি আমার জীবনের সর্বপ্রথম প্রেমের কথা উল্লেখ করছি। যদি মনে করেন যে আমার কোন দোষ ছিলো না, তবে জানাবেন।

তাহলে আমি আমার পরবর্তি কাহিনী গুলো জানাতে সাহস পাব। আমার প্রথম ভাললাগা ছিলো আমার বাল্য বন্ধু ইমু। সেই ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকতে আমার স্কেটিং ক্লাবে পরিচয় ও বন্ধুত্ব। আমি এও জানতাম যে ও আমাকে পছন্দ করে। আমরা ধীরে ধীরে পারিবারিক বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম।

মানে ওর বাবা আমার বাবার বন্ধু, ওর মা আমার মায়ের বান্ধবী, ওর ছোট ভাই আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু...এইতো। ওদের সাথে পুরো বাংলাদেশ ঘুরেছি আমরা। দেশের বাইরে যাবার কথাও হচ্ছিলো, কিন্তু তার আগেই, আমি যখন ক্লাশ এইটে পড়ি, তখনি এসে গেল সেই মুহুর্ত যার জন্য আড়াইটা বছর কেঁদেছি আমি। আমরা সেবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম ঘুরতে। কক্সবাজারের প্রথম কয়েকদিন আমার ইমুর সাথে সবচেয়ে মধুর সময় কেটেছিল।

কারণ ইমু indirectly ভাবে স্বীকার করেছিল যে ও আমাকে ভালবাসে। আর ও এও বলেছিল indirectly ভাবে যে এই যাত্রাতেই ও আমাকে বলবে ওর মনের কথা। খুশিতে হাওয়ায় উড়ছিলাম আমি। দৃশ্যপট: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইমু আমাকে ডেকে নিয়ে গেল সবার কাছ থেকে একটু দূরে। উদ্দেশ্য, আমাকে জানাবে যে কে তার স্বপ্নকন্যা।

কাকে সে ভালবাসে। আমি অদ্ভূত এক আনন্দে আপ্লুত মনে মনে। ইমু আমাকে বলবে তার ভালবাসার কথা। যখন ইমু শুরু করতে গেল তার কথা, তখনি শুনতে পেলাম আমাদের বাবা-মা দের উচ্চ কন্ঠে তর্ক। দৌড়ে গেলাম তাদের কাছে।

কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের ২ পরিবারের কর্তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেছে, যা আর মেটার নয়। আমরা অবাক, হতবাক, নির্বাক...সব। ২ পরিবার, যারা একসাথে মজা করতে এসেছিল, ঢাকা ফেরত গেল আলাদা আলাদা। সবচেয়ে মজার কথা, ইমু আমাকে তার ভালবাসার কথা বলা তো দূরে থাক, কোন কথাই বলতে আসেনি এরপর। মনে পড়ে, প্রচুর কেঁদেছিলাম আমি।

এরপর, নবম শ্রেণীতে থাকতে একবার লজ্জার মাথা খেয়ে ওকে ফোন করেছিলাম আমি। প্রথম দিন ও এত ভাল ব্যবহার করেছিল ফোনে, যে আমি মনে করেছিলাম ও এখনও আমাকে ভালবাসে। কিন্তু ২য় দিন ও আমাকে জানাল যে ওর অন্য এক girlfriend আছে এবং ও তার সাথে খুশি। আর থাকতে না পেরে ব্যকুল স্বরে বলে উঠলাম, " But I love you ইমু"। ও নির্লিপ্ত কন্ঠে উত্তর দিল,"আমি জানি"।

আমি আর কি বলব, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। খালি বললাম,"ঠিক আছে, ভাল থেক"। রেখে দিলাম ফোন। সেই ওর সাথে আমার শেষ কথা... বহুদিন পরে জানতে পেরেছিলাম কি কারণে ঝগড়া লেগেছিল আমাদের ২ পরিবারের মধ্যে। কারণটা কি তা নাহয় নাই বলি তবে, কারণটা জানার পর মনে মনে বলেছি যে, আল্লাহ্ কে অসংখ্য ধন্যবাদ যে ইমুর সাথে আমার ভালবাসার স্বম্পর্ক হয়নি।

তাহলে আমার জীবনটা তছনছ হয়ে যেত। এখন খুব সুখে আছি। আমার বর্তমান ভালবাসা আমাকে অনেক ভালবাসে। সে আমাকে ভালবাসায় পরিপূর্ণ করেছে।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।