maanush84@yahoo.co.uk
স্বর্গলোকের দেবতা আল্লাহ না ভগবান অথবা আদৌ কোন দেবতা আছে কিনা এই নিয়ে বিস্তর মারামারি কাটাকাটি হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। সৃষ্টিকর্তাকে পাপি আমজনতার চর্মচক্ষে অবলোকন করার কোন সুযোগ নাই বিধায় এই কাটাকাটি জাজমেন্ট ডে পর্যন্ত গড়াবে সেও হলফ করে বলা যায়। তবে মর্ত্যের দেবতা যে বাড়িওয়ালা সে বিষয়ে কোন ভাড়াটিয়া মনে হয় না দ্বিমত পোষন করবে। সর্বশক্তিমান, মানুষের পিছনে লক্ষাধিক ফেরেস্তা লাগিয়ে রেখেও সুপথে আনতে পারেন না কিন্তু বাড়িওয়ালা যদি ঘোষনা দেন রাত এগারোটার পর গেট বন্ধ সাথে সাথে ভাড়াটিয়াগণ সুবোধ বালকের মতো সুরসুর করে সন্ধ্যা রাতে বাড়ি ফেরা শুরু করবে।
ঈশ্বর বলেছেন অপচয়কারি শয়তানের ভাই।
সে হিসেবে আমরা সবাই সবার পরম আত্মীয়। কারণ কম বেশি সবাই অপচয় করতে বড় ভালবাসি। কিন্তু একবার কারও বাড়িতে ভাড়াটিয়া হসেবে ঢুকলে এই আত্মার টানটাও ভুলে যেতে বাধ্য হই সবাই। যেমন, পানি নাই। সূতরাং ঘেমে নেয়ে ওঠো।
তেষ্টা পেলে থুতু গিলে ফেলো। পুরো এপার্টমেন্ট কারবালার প্রান্তর। পানি আছে শুধু বাড়িওয়ালার ঘরে। দেবতা না হলে এমন স্বর্গসূখ মেলে কখনো? লালন ফকির একদা বলেছিলেন, “ফকির লালন মলো জল পিপাসায়, পাশে থাকতে নদী মেঘনা”। মনে হয় এমন সিচুয়েশনের কথা ভেবেই এই গান লেখা হয়েছিল।
উনারা কালজয়ি মানুষ। কালান্তরের কাব্য লেখা তাদের কাছে পানি ভাত।
যাই হোক মোদ্দা কথা হচ্ছে পৃথিবীর বুকে ভাড়াটিয়া হল হতভাগা এক জাতি। মাস শেষে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা গোনার পরও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় এই বুঝি বাড়িওয়ালার কোপানলে পড়লাম। কিন্তু নমঃশূদ্রের মাঝেও নিকৃষ্টতম (!) মানুষ আছে।
হতভাগাদের মাঝেও সর্বাপেক্ষা হতভাগ্য বিদ্যমান। হাঘরে ভাড়াটেদের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, নিস্পেষিত, নির্যতিত হল হতভাগা ব্যাচেলর। কোথাও বাড়িওয়ালারা এমন ব্যাবহার করে থাকেন যেন তারা নিজেরা কোনকালে ব্যাচেলর ছিলেন না, জন্মসূত্রে বিবাহিত হয়ে জন্মেছেন। এবং নিজ নিজ কন্যাদিগকে কস্যিনেও ব্যাচেলরের সাথে বিবাহ দিবেন না। যদিও এদের কে সর্বদা স্বর্গলোকের কাছাকাছি ঘরটা ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে।
অর্থাৎ বাড়ি তিনতলা হলে তিন তলার চিলেকোঠা, সাততলা হলে সাত তলার। মানে বাড়ির কলেবর যেমনই হোক না কেন চিলেকোঠাটা ব্যাচেলরের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু স্বর্গের কাছাকাছি হলেও ঐখানে যারা বাস করে, তাদের নরক দর্শন হয়ে যায়। সূর্যদেব তার যাবতীয় ভালবাসা ওখানেই বর্ষন করেন কিনা। আর সিঁড়ি টপকানোর কথা বাদই দিলাম।
অমন সাত তলা বেয়ে প্রতিদিন উঠবোস করলে চরম ভুঁড়িদারেরও সিক্স প্যাক হতে বাধ্য।
এতক্ষন শুধু বাড়িওয়ালাদের দুর্নাম করলাম এবার বরং কিছু সুনাম করে লেখা শেষ করি। যে সব বাড়িতে ভাড়াটিয়া নেই, সে সব বাড়িওয়ালারা খুব ভাল হয়ে থাকেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।