বিশ্বায়নের এই যুগে অন্য সব শিল্পের মতো পরিবর্তিত হয়েছে গান। গান আমাদের চিত্তবিনোদন, আবেগ-অনুভূতি, উপচিকীর্ষা, বিরহ, প্রেম-ভালোবাসা-সবকিছুরই সবচেয়ে সহজবোধ্য শৈল্পিক মাধ্যম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গানের অন্যতম পুরোধা। বর্ষা, বিরহ, প্রেম, বস্তুনিষ্ঠতা, শাশ্বত বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য-সবকিছুই প্রস্ফুটিত হয়েছিলো তাঁর গানে। কাজী নজরুল ইসলামও বাংলা গানের অন্যতম অগ্রপথিক।
সেই যে রুটির দোকানে কাজ করা ছেলেটির বিদ্রোহী কবি হয়ে ওঠা-কত আশ্চর্য প্রতিভাবান হতে পারেন একজন মানুষ, সেটা কাজী নজরুল ইসলামকে না জানলে হয়তো বোঝা যাবে না।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অজস্র শিল্পী এসেছেন, আসবেন। হরেকরকম রঙচঙা 'শিল্পী খোঁজার প্রতিযোগিতা' চালু হয়েছে এখন। যাক, তাও তো মানুষ একটা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে।
আধুনিক বাংলা গান যারা শোনেন, তারা সবাই 'তাহসান'-এই নামটির সাথে পরিচিত।
যে কিনা একাধারে এক্স- নটরডেমিয়ান, ঢা.বি.'র আইবিএ শিক্ষার্থী, গ্র্যাজুয়েট, গায়ক, শিক্ষক, মডেল, অভিনেতা, উপস্থাপক, স্বপ্নচারী, আদর্শ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন যুবক- সবকিছুই। তাহসান এই শূন্য দশকের একজন প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী। ব্যতিক্রমী কণ্ঠ, বাংলা গানের আধুনিক ধাঁচের সাথে অত্যাধুনিক অলটারনেটিভ রক ধাঁচের সংমিশ্রণ, অ্যাকুস্টিক বাদ্যযন্ত্র কিংবা কি-বোর্ডের নির্ভুল, সুরেলা ব্যঞ্জনা-সবকিছুই তাকে দান করেছে এক অনবদ্য স্বকীয়তা, যে কারণে তাহসান খুব অল্প সময়েই নিজের একক ক্যারিয়ার গড়তে সক্ষম হয়েছেন এবং লক্ষ তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে নিজের মুখচ্ছবি আঁকতে সক্ষম হয়েছেন বেশ সফলভাবেই।
তাহসানের পুরো নাম তাহসান রহমান খান। প্রথমে 'ব্ল্যাক' নামের অলটারনেটিভ ব্যান্ডের সাথে দীর্ঘ সময় জড়িত থাকলেও বিবাহিত তাহসান নিজের প্রফেশনাল কাজের ব্যস্ততার জন্য ব্যান্ড ছেড়ে দেন।
ব্ল্যাক এর সাথে তাহসান ছিলেন নিবিড়ভাবে জড়িত। 'অফবিট' নামের নাটকে এই পুরো ব্যান্ডের সদস্যদের অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদেরকে। বলা বাহুল্য, তাহসান ছিলেন এই নাটকের নায়ক।
'ব্ল্যাক' এর ক্ল্যাসিক অ্যালবাম 'আমার পৃথিবী'র বেশ কয়েকটা গান তাহসান গেয়েছেন এবং কি-বোর্ড বাজিয়ে সুর দিয়েছেন। এখনও, প্রার্থনাদ, আমার পৃথিবী- ইত্যাদি জনপ্রিয় গানগুলো পাগল করে হাজারো তরুণকে।
'ব্ল্যাক' এর দ্বিতীয় অ্যালবাম 'উৎসবের পর'-এ পরাহত, প্রাকৃতিক, ? প্রভৃতি গানগুলোতেও তাহসানের পদচারণা ছিল সুস্পষ্ট।
ব্যান্ডে জড়িত থাকা অবস্থায়ই 'কথোপকথন' অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামের 'ঈর্ষা', বৃত্তালপনা, তৃতীয় মাত্রা প্রভৃতি গানগুলো আলোড়িত করে শ্রোতাদের এবং এই অ্যালবামটি এই পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে জনপ্রিয় ! এরপর প্রতিবছরই প্রকাশিত হতে থাকে নতুন অ্যালবাম। দ্বিতীয় অ্যালবাম 'কৃত্যদাসের নির্বাণ' এর সবকটা গানই ছিলো উপভোগ্য। তার মধ্যে 'প্রেমাতাল' গানটি ক্ল্যাসিক ধারার স্বীকৃতি পায়।
এ ছাড়াও কিছুক্ষণ, চাঁদের হাট, কাদা, নিরানব্বই, সস্তা ক্ষোভ, স্রোতের শেষে প্রভৃতি গানগুলোও জনপ্রিয়তা পায়।
তৃতীয় একক অ্যালবাম 'ইচ্ছে'। এ অ্যালবামটি আগের দু'টো অ্যালবামের সঙ্গীত ব্যবস্থাপনার সমন্বয়। এ ছাড়াও তাহসানের প্রিয়তমা স্ত্রী মিথিলার উপস্থিতি অ্যালবামটিকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলে। এই অ্যালবামের 'আলো' গানটি ব্যাপক আলোচিত হয়।
এছাড়াও নির্বাসিত, দূরত্ব, যন্ত্রমানব, বৃষ্টিতে প্রভৃতি গানগুলোও শ্রোতাদের পছন্দ হয়।
সম্প্রতি বেরিয়েছে তাহসানের একক অ্যালবাম 'নেই'। একটু ভিন্ন ধাঁচের সুর আর সঙ্গীতায়োজনে করা এই অ্যালবামটির বিশেষত্ব হলো- বাঁশির ব্যবহার। অ্যালবামের শিরোনাম গান 'নেই' বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের মুখে-মুখে ফুটছে। এছাড়াও ঝুম দুপুর, বন্ধন, পরিমিতি-প্রভৃতি গানগুলোও উপভোগ্য।
তাহসান থেমে থাকেননি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবার পাশাপাশি সঙ্গীত সাধনা করে যাচ্ছেন। সহধর্মিনী মিথিলাকে নিয়ে তার সাজানো সংসার সুখের হোক এবং তিনি বাংলা গানকে আরো যেন সমৃদ্ধ করেন তাঁর প্রতি আমার এবং সকলের একই প্রত্যাশা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।