গভীর কিছু শেখার আছে ....
২৬ মার্চ ছিলো বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্টদের সংগঠন বিআইজেএফ'র বার্ষিক পিকনিক। যেহেতু এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছি সংগঠনের বলা যায় শুরু থেকেই, তাই আমি সহ অন্য সকলেই পূর্ব নির্ধারিত শেডিউল অনুযায়ী তৈরি ছিলাম পিকনিক দিনটির জন্য। তাছাড়া পিকনিক স্পটও ছিলো বেশ আকর্ষণীয়, সিলেটের লাউয়াছড়া।
তবে হঠাৎ করেই গত ২৪ মার্চ মারা যান আমাদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এম এ হক অনু ভাইয়ের বাবা। এজন্য সর্ব সম্মতি ক্রমে পিকনিকের দিনটি স্থগিত করা হয়।
২৬ মার্চ পূর্ব নির্ধারিত পিকনিক কর্মসূচির জন্য ঢাকার অন্যান্য ফাংশন যেমন, কনসার্টগুলোর টিকিট দিয়ে দিয়েছিলাম পরিচিতজনদেরকে। অথচ ২৬ মার্চ এক অর্থে কিছুই করবার ছিলো না আমার। বিশেষ ব্যবস্থায় এদিন পত্রিকা অফিস খোলা থাকলেও পারতপক্ষে আমি এসব দিনে ছুটি কাটাতেই বেশি পছন্দ করি। তাই অফিসও নেই, কোন ফাংশনও নেই; নিজেকে এরকম বেকারত্বের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা করবো এমন ভাবনার মাঝেই ২৬ মার্চ সকালে ফোন পেলাম সেনাবহিনীতে কর্মরত আমার এক বাল্য বন্ধু আল আমীনের। ছুটিতে ঢাকায় এসেছে, ঘোরাঘুরির জন্য ওকে যেন আজকের দিনটি বরাদ্দ করি, এমনই আরজি ছিলো তার!
আমি তো খুশি!
কারণ বোরিং কাটানোর জন্য ভালো সঙ্গ যাক অবশেষে পাওয়া গেল।
সময় ঠিক করা হলো বিকেল আর স্থান ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্ট। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলাম। ওয়েট করছি। ভাবলাম, ভেতরের গ্যালারিতে তো সারা বছরই এক্সজিবিশন হয়, এই ফাঁকে কোন এক্সজিবিশন দেখে আসতে পারি কিনা!
যদিও ফটো এক্সজিবিশনের তেমন কিছুই বুঝি না আমি!
যা হোক, ফটোগুলো দেখলাম ও অনেক মন্তব্য করলাম, তবে সবই মনে মনে!
এরপর আল আমীন সঙ্গে ওর কলেজ ফ্রেন্ড ইশফাককে নিয়ে উপস্থিত হলো। ইশফাক ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে গ্র্যাজুয়েশন করে এখন প্র্যাকটিস করছে।
অনেকে বলেন কোথাও বেড়ানোর জন্য তিনজন হলো পারফেক্ট ম্যাচিং! তাই আমরাও তিনজন পারফেক্ট ম্যাচিং করে ঘুরতে বের হলাম। পুরো ঢাকা ইউনিভার্সিটিতেই যেন ফটো এক্সজিবিশনের মেলা বসেছে। কারণ বেশ কয়েক জায়গাতেই স্থির ও হাতে আঁকা ফটোর এক্সজিবিশন চলছে।
কাজ নাই, তাই খই ভাজ......এ ডায়লগের মতো আমরাও খই ভাজার বিকল্প হিসেবে ফটো এক্সজিবিশন দেখলাম অনেকক্ষণ ধরে!
এরপর ঢাকা ইউনিভার্সিটি ঘুরে নানা স্মৃতি উল্টে-পাল্টে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম ধানমন্ডির লেক থেকেই না হয় ঘুরে আসা যাক। কিন্তু লেকের হাজারো মানুষের পদধূলিতে যে পরিমাণ ধূলি ঝড় দেখলাম, তাতে ইচ্ছে হলো না বেশিক্ষণ এখানে থাকি।
ততক্ষণে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। ইশফাক বিদায় নিয়ে চলেও গেছে, রয়ে গেছি আমি আর আল আমীন।
শ্যামলী এসে দুজন খোঁজ নিলাম অন্য ফ্রেন্ডরা সবাই কোথায়। এক বন্ধুর বাসায় নাকি অন্যরা মিলে জম্পেস আড্ডা দিচ্ছে। গেলাম সেখানে।
দীর্ঘদিন পর স্কুল জীবনের ৮ জন বন্ধু এক সঙ্গে হলাম।
সত্যি দারুণ ভালো লেগেছে সেই মুহুর্তটি।
২৬ মার্চের এই একটি মুহুর্তটিই যেন সবচেয়ে আকাঙ্খিত ছিলো।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।