বাস্তবতা ফেরী করে বেড়াচ্ছে আমার সহজ শর্তের সময়গুলোকে
(সকল ব্লগারকে পিকনিকে না নিয়ে যাওয়ার তেবঢ়ো পরতেবাধ জানাই। এটা বিরাড খতি। তাই সকল ধরনের মাইনাচ গ্রহণযোগ্য। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি ঘটন করা হবে, কেন সবাইকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়া হয় নি?? )
চড়ুইভাতি :
ব্লগারদের পিকনিকের বিষয়টি বেশ অনেকদিন ধরেই শুনছিলাম। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছিল বেশ।
বেশ কয়েকবার মিটিং। অবশেষে সেই কাংখিত দিনটি আসলো। আগের দিনেই সারিয়া আপুর ফোনকল পেয়ে পিকনিকের বিষয়ে আরো নিশ্চিত হইলাম। ব্লগাররা সবাই একত্রিত হয়েছি ফার্মগেট খামারবাড়িতে। সেইখান থেকেই বাস যাত্রা শুরু করে।
ঘুমকাতুরে আমি
নিজের এই গুনটা আমার কাছে ভালোই লাগে । রাত্রে ঘুমানোর সময় কোন ঘুমকাতুরে গুনাবলী প্রকাশ পায় না । তবে সকালে উঠার সময় কিঞ্চিৎ সমস্যা হয়। যেহেতু সকালেই পিকনিক বাসের যাত্রা শুরু হবে সেই অনুযায়ীই প্রস্তুতি নেই। তারপরেও কাজ হয় নি।
অবশেষে ঘুম ভাঙ্গে নাইম ভাইয়ের ফোনকলে। তাড়াহুড়ো করে স্পটে গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন চলে এসেছে। একে এক অন্য ব্লগাররা আসতে শুরু করে। এদের মধ্যে কয়েকজন আবার নিজের নিক প্রকাশে কিঞ্চিৎ অনাগ্রহী।
বাসের জন্য অপেক্ষার স্পটে গিয়ে প্রথমেই দেখা হয় নাইম ভাইয়ের সাথে যে উন্মাদ নাইম নামে পরিচিত।
কিছুক্ষণ পরেই আবু সালেহ ভাইয়ের সাথে। ফোন করে জানলাম ক্যামেরাম্যান ভাই, রাহু্ল ভাই আর প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ভাই অন্যপ্রান্তে দাড়িয়ে আছেন। সেইখানে গিয়ে দেখি লম্বামতন সুপুরষ এক ব্লগার একসাইডে দাড়াইয়া আছেন একজন গেস্ট সহ। অনেকক্ষণ পরে জানলাম তিনি নেমেসিস। আসলো সাইফুর ভাই, সঙ্গে দইজন গেস্ট।
কিছুক্ষণ পরে আসলো আলী আরাফাত শান্ত ভাই। তারপর রিজভী ভাই খুব ভাব মাইরা, মনে হয় ছিনেমার নায়ক নুয়ক । আরেকজন শুধুই পড়ুয়া ব্লগার রিয়ন। গাড়ি নিয়ে উপস্থিত কালপুরুষদা সঙ্গে কালপুরুষ ভাবী। আসলো বহুরুপী মহাজন।
আরো আসলো ব্লগার রাতমজুর। তারপর রঙ্গমঞ্চে আগমন আমাদের উদা ভাইজানের মানে উদাসী স্বপ্নের। সঙ্গে তারজন গেস্ট মনে হইছিল। এরমধ্যে দুইজন আবার ললনা। যাই হোক সে ব্যাপারে বেশি কিছু না বলি..... ।
এরমধ্যে একজন অবশ্য ব্লগার যেমন ইকোনমিক্স। এবার আসলো লুলু পাগলা, সঙ্গে একজন গেস্ট (একজন কিউট আপু। কাউকে দেখলে আমার কিউট আপু আপু মনে হয়। তিনি সেধরনের। )।
এবার আসলো আইরিন সুলতানা আপু। আইরিন আপুর জামার ড্রেসের কালার সিএনজির ভিতরের রুপসজ্জার সঙ্গে মিলে গেছে। এজন্য মাইনাচ ....। বহুল কষ্টকর আনাগোনার পর আসলো আহমাদ মুজতবা।
এরইমাঝে পাকস্থলী কিঞ্চিৎ বিট্রে করারয় মানে ক্ষুধা অনুভব করার খাইতে গেলাম।
এসে দেখি অনেকেই বাসে উঠে বসে আছে। সারিয়া আপু , সুনীল সুমুদ্র, অ্যামাটার সহ অনেকেই হাজির। অবশেষে রোলকল হলো। তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাস যাত্রা শুরু করলো। হা হা কি মজা ।
বাসের যাত্রা
শুরু হলো বাসের যাত্রা। ব্লগারদের মধ্যে নানা ধরনের ফুসুর ফাসুর শুরু হলো....মাইনাচ । কথা ছিল যাত্রার প্রতিমধ্য থেকে কাউকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যাবো। এরমধ্যে শাহবাগ থেকে জয়িতা আপুকে উঠিয়ে নেয়ার কথা শুরু হলো। কিন্তু কি কারনে তা হলো না বুজলাম।
জয়িতা আপু অবশ্য এজন্য কিঞ্চিৎ মাইন্ড খাইছে। তবে তিনি আমাদের সাথে শনির আখড়া থেকে শনির মতো সপাৎ করে জয়েন করছে। গম্ভীর গম্ভীর ভাব... ভাবই আলাদা... মাইনাচ... । সেখানে আমরা থামলাম সেখানেই ছিল একটা সিনেমা হল। নায়িকাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে ড্রপ করে বেশ কিছু ফটুক তোলা হলো।
আরেকটু সামনে গিয়ে বাসে তোলা হলো পথিক ভাই এবং সুখীমানুষ মানে অরুন ভাইজানকে।
এরইমধ্যে বাস থেকেই পিকনিকের লাইভ আপডেট দেয়া শুরু হলো। আমি লাইভ আপডেট টিমের সদস্য হিসেবে জয়েন করলাম। স্পটে পৌছা পর্যন্ত অনেকক্ষণ আপডেট দিলাম। তয় কেউ আমারে থ্যাঙ্কু দিল না এজন্য , হায়!!!! ।
পথে অবশ্য একতরফা নাস্তা (কারো ক্ষেত্রে দুইদফা) খাওয়া হলো। বেশ ভালো খাবার দাবার হলো। পিকনিক স্পটে গিয়ে পৌছানোর আগে পথেই প্রায়ই একটা ট্রাকের সাথে ছোডখাডো সংঘর্ষ হইতেছিল। তয় ভাগ্য ভালো আমরা পথেই স্টিকি হয়ে যায় নি। অবশেষে লক্কর ঝক্কর শেষে রুপগঞ্জের মুড়াপাড়া কলেজ প্রাঙ্গনে গিয়ে পৌছালাম।
প্রাগৈতিহাসিক জায়গা
পিকনিক স্পটে পৌছে দেখলাম বেশ প্রাগৈতিহাসিক জায়গা। এইরকম প্রাগৈহাসিক স্থানে কলেজ বেশ অবাক হলাম। স্পট ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। দুইপ্রান্তে দুইখান সোন্দর সোন্দর পুকুর রয়েছে। সবাই গুরুপ ব্লগিং মানে গুরুপে গুরেপে ঘোরা শুরু করে।
কলেজেন প্রিন্সিপালের রুম আমাদের বসার জন্য খুলে দেওয়া হয়। আন্তুরিকতায় বেশ মুগ্ধ হলাম। সেই রুমটার পাশেই মাঠে বসলাম আমরা। চেয়ার নিয়ে টানাটানি। একখান চেয়ার আমি স্টিকি করে ফেলি.....।
তারপর শুরু হয় নানা ধরনের আলুছানা। নানা বিষয়ের কথোপকথন। ব্লগে আসার ইতিহাস নিয়ে একতরফা গোলচেয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তারপর মজার একটা প্রতিযোগিতা। একটা গিফট অনেকগুলো মোড়কে মুড়িয়ে দেয়া হয়।
সেই মোড়কগুলোর উপর অনেক ধরনের কথা লেখা আছে। তার উপর ভিত্তি করে একেকজন অপরজনকে পৌছে দেয়। আর একটা করে মোরগ থুক্কু মোড়ক উন্মোচন করতে হয়। তারপর আরেকজনের কাছে....। শুরু হয় কালপুরুষ ভাবীর মাধ্যমে আর শেষ হয় প্রাপ্তির হাতে।
অর্থাৎ উপহারটা প্রাপ্তি পেয়ে যায়। অনেক মজা হয় এ খেলায়।
এরইমধ্যে ঢাকা থেকে লক্কর ঝক্কর বাসে চড়ে আমাদের সাথে যোগ দেয় সামী মিয়াদাদ ভাইজান। পরিচয় পর্ব, কবিতা আবৃত্তিপর্ব, কৌতুকপর্ব আর আলুছানা পর্ব শেষে একদফা চা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
তারপর আবার ঘোরাঘুরি.....।
ক্ষুধায় কান্ত আমরা....
সব চলছে কিন্তু খুব অবাক হয়ে দেখলাম খাবারের কুনু নামগন্ধ, শ্রেনী বিন্যাস সহ কিছুই নেই। মনে মনে কষ্ট পাইলাম , দুঃখু পাইলাম। তারপরেও খাবারের নাম নেই। সবাই মনোঃক্ষুন্ন হয়ে সবাই মাইনাচ দেয়া শুরু করলাম। বহুল মাইনাচের বন্যার পর দুঃখ কষ্টে পুকুরপাড়ে গিয়ে পা ডুবাইয়া বইসা থাকলাম ।
অবশেষে খাবার পৌছলো। শুরু হলো দৌড়াদৌড়ি....। খাবারের উপর কয়েকদফা হামলা পরিলক্ষিত হইলো.... ।
অবশেষে খাওয়া দাওয়া শুরু হলো। শুরুতেই আচার নিয়ে জয়িতা আপু একদফা কাড়াকাড়ি শুরু করলো.........।
আচার পাওয়া নিয়েই মনে বিরাড সন্দেহ দেখা দিল। তয় শেষ পর্যন্ত পাইচিলাম.....। তারপর কান্তিহীন খাবার খাওয়া। সামী ভাই এবং নাইম ভাই দ্বিতীয় সংস্করণ শুরু করলেও আমি প্রথম সংস্করণও শেষ করতে পারলাম না....... মাইনাচ ।
আনলাকি লটারি
খাবার শেষে আবার ঘোরাঘুরি শুরু হলো।
আবার ঘুমাঘুমিও হলো ..।
এসব শেষে একসাথে সবাই মাঠে বসলাম। সেখানেই ঢ়েফল ড্র হইলো। প্রাপ্তি কুপন উঠিয়েছে। একেএকে সৌভাগ্যবানদের নাম ঘোষণা হলো।
দশজন সৌজন্য উপহার পেলো। তৃতীয় পুরস্কার বার্বি ডল পেয়েছে রাহুল ভাই, দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বহুরুপী মহাজন একখান বদনা মানে......(ফুলদানী-বদনার মতো দেখতে)। প্রথম পুরস্কার পেয়েছে সুনীল সমুদ্র একখান ফুলদানী। কিন্তুক আমি কোন পুরুস্কার বা উপহার পাইলাম না, বড়ই কষ্ট পাইলাম.............মাইনাচ.......।
কষ্টকর ফিরে আসা
ক্ষনিকের দেখায় জায়গাটার প্রতি মায়া জন্মাইয়া গ্যাছিল।
তাই ফিরে আসার সময় কিছটা কষ্ট হচ্ছিল । তারপরও ফিরে আসতে হইলো। বাসে সবাই একসাথে বসে নানা ধরনের কথাবার্তার মধ্য দিয়ে ফিরত যাত্রা ইস্টার্ট করলাম। গাড়ি চলতে শুরু করলো। কিন্তু বারবার গান গাওয়ার কথা বললেও কেউ গাইলো না গান।
তাই মাইনাচ.... ...।
ফেরার পথে আবার লাইভ আপডেট দেয়া শুরু হয়। এভাবেই মজা করতে করতে ফিরে আসি আমরা ব্লগাররা। দুর .... মাইনাচ..........।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।