যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে, ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
[যেকোন পার্টি জমানোর জন্য, বিশেষ করে বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের সাথেখাতির জমানোর জন্য এটা একটা ফার্স্টক্লাস সাইকোলজী টেস্ট]
****************************
অনেক অনেক আগের কথা। নদীর এপারে থাকত পারুল, আর ওপারে অতুল। ভীষন ভালবাসে দুজন দুজনকে। অথচ বিশাল নদীটা বাঁধা হয়ে আছে দুজনের জন্য। ওদের নৈকাও ছিলনা যে যখন তখন একজন আরেকজনের সাথে দেখা করবে।
এদিকে অনেকদিন ধরে অতুলকে চোখের দেখা দেখতে না পেয়ে পারুলের আর কিছুই ভাল লাগছেনা। অবর্ণনীয় এই বিরহ সইতে না পেরে পারুল একদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, যে করেই হোক নদীর ওপারে গিয়ে অতুলকে দেখে আসবেই।
কিন্তু বাঁধ সাধল মাঝি বদরুল। তাকে পারুল যতই বোঝাতে চেষ্টা করল যে পারুলের কাছে কোন পয়সা নেই, পরে কোন এক সময় সে বদরুলকে পাওনা মিটিয়ে দেবে, বদরুল রাজী হয়না। বদরুল বলে দ্রব্যের বিনিময়ে হলে সে রাজী, পারুল বলে পরনের শাড়ী ছাড়া তার আর কিছুই নেই।
বদরুল বলে তাহলে সেই শাড়ীই তাকে দিয়ে দিতে। কি অসভ্য!
পারুল নদীর কিনারা ধরে হাঁটতে থাকে, হঠাৎ দেখে নদীর পাড়ে ধনীমতোন দেখতে এক মহিলা, নাম উখিয়া বিবি। উখিয়া বিবির কাছে চাইলে হয়ত আমাকে কিছু টাকা দেবে ভেবে পারুল তার কাছে যায়। সবশুনে উখিয়া বিবি বলেন, 'দেখ তোমার কথা আমি বুঝেছি, কিন্তু টাকা গাছে ধরেনা। তোমার ভালবাসার লোককে তুমি দেখতে চাও, তাহলে যাবার ব্যাবস্থাও তোমার নিজেকেই করতে হবে।
আমি কেন তোমাকে পয়সা দিব?'
কাঁদতে কাঁদতে পারুল সারাদুপুর পার করে দেয়, কারুর দেখা পায়না। কিন্তু কোনভাবেই সে নিজের ভালবাসাকে অবহেলা করতে পারেনা, তার মনে হয় যেভাবেই হোক অতুলের সাথে দেখা করতেই হবে। অগত্যা সে বদরুল মাঝির কাছে ফিরে আসে, বলে, 'ঠিক আছে আমার শাড়ীর বিনিময়ে আমাকে ওপারে পৌঁছে দাও। ' বদরুল মাঝি সানন্দে রাজী হয়, কারণ পুরানা শাড়ী হলেও এটা বেচে সে নৌকাভাড়ার চেয়ে কিছুটা বেশী পয়সাই পাবে। মনের আনন্দে সে পারুলকে নদীর অন্যপাড়ে অতুলের গ্রামে পৌঁছে দেয়।
শাড়ীখুলে যখন পারুল বদরুল মাঝিকে নৌকোভাড়া মিটিয়ে দেয়, তখন তার শরীরে কিছু নেই। তবুও সে ভাবে এই ভরদুপুরে কেউ বাইরে থাকেনা, সে খুব দ্রুত অতুলের বাড়ীতে চলে যাবে, তারপর অতুল নিশ্চয়ই কোন ব্যাবস্থা করবে।
কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। নদীর পাড়েই বসে ছিল ইন্দু বাহাদুর নামে এক বদলোক। সে দৌড়ে গিয়ে পারুলকে জাপটে ধরে, ধর্ষন করা শুরু করে।
বেশ খানিকটা দূরে আরেকটা রাস্তা দিয়ে যাওয়া খোকা চৌধুরীর চোখে পড়ে ব্যাপারটা। সে অনেকদূর থেকে এটুকু বুঝতে পারে যে দুজন নারী-পুরুষ আনন্দ করছে, ধর্ষনের ব্যাপারটা সে টের পায়না। দিনেদুপুরে নারীপুরুষের লীলা দেখে খোকা তো খোকা মহাউত্তেজিত! পথে একবন্ধুকে দেখে সাথেসাথেই তার কাছে গিয়ে খোকা বলতে থাকে, 'জানিস! সত্যি বলছি, নদীর পাড়ে দেখলাম দুটো ছেলেমেয়েত মিলে ইয়ে করছে। '
পারুলের দূর্ভাগ্য যে খোকা চৌধুরীর এই বন্ধুটিই ছিল অতুল। অতুল খোকার কাছে বর্ণনা শুনে সন্দেহ করে, কারণ অমন লম্বা গড়ন আর লম্বা চুল এ তল্লাটে আর কোন মেয়ের নেই।
তাড়াতাড়ি ঘরে ছুটে এসে সে দেখতে পায় নগ্ন-বিধ্বস্ত পারুলকে। পারুলের কোন কথাই সে বিশ্বাস করেনা, পারুল যতই বোঝাতে চায় যে লোকটা তাকে ধর্ষন করেছে, অতুল মানতেই পারেনা। পারুলকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।
ক্ষোভে, দুঃখে, অপমানে পারুল ছুটে বেরিয়ে যায়, নদীতে ডুবে আত্নহত্যা করে।
*************************************
এই হলো কাহিনী, এখন আপনাকে বলতে হবে গল্পটার যে ছয়টা চরিত্র --- পারুলের মৃত্যুর পেছনে এদের কার দায় কতটুকু।
সবচেয়ে কম দায় থেকে সবচেয়ে বেশী দায় অর্ডারে সাজিয়ে লিখুন।
আশা করি সবাই অংশ নেবেন।
সময় আগামীকাল সারাদিন।
****************************************
ছয়টা চরিত্র হলো:
পারুল -- প্রেমিকা
অতুল -- প্রেমিক
বদরুল -- মাঝি
উখিয়া বিবি -- ধনী মহিলা
ইন্দু বাহাদুর -- ধর্ষক
খোকা চৌধুরী -- অতুলের বন্ধু
**************************************
ব্যাখ্যা:
এই গল্পে ছয়টা চরিত্র মানুষের ছয়টা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে খুব স্পস্টভাবে প্রকাশ করে ...
পারুল -- প্রেম/ভালোবাসা
অতুল -- অহম/ইগো
বদরুল -- বাস্তববাদীতা/প্র্যাগমেটিজম
উখিয়া বিবি -- উদাসীনতা(!!)/ ইনডিফারেন্স
ইন্দু বাহাদুর -- ইচ্ছামতো যাখুশী করা বা বলা/ইম্পালসিভনেস
খোকা চৌধুরী -- খোলামন/ওপেননেস
তো, সবার মাঝেই এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে, ব্যবধানটা হয় কতটা সে প্রকাশ করছে বা অন্যের সাথে শেয়ার করছে।
উপরের চরিত্রগুলোর মধ্যে আপনি সবচেয়ে বেশী দোষী যাকে ভাবছেন তার করেসপন্ডিং বৈশিষ্ট্যটা আপনি সবচেয়ে কম শেয়ার করেন বা অন্যকথায় সবচেয়ে বেশী চেপে রাখেন
একই ক্রমে, সবচেয়ে কমদোষী যাকে ভাবছেন তার করেসপন্ডিং বৈশিষ্ট্যটা আপনি সবচেয়ে বেশী শেয়ার করেন
যেমন আপনি যদি পারুলকে খুব বেশী দোষী ভাবেন তার মানে আপনি প্রেম বা ভালবাসা অতটা প্রকাশ করেননা ,,,সেক্ষেত্রে আপনার ভালবাসার মানুষটি যদি এনিয়ে আপনাকে অভিযুক্ত করে তাহলে বুঝে নিন যে তিনি ভুল করছেননা।
আবার আপনি যদি ভাবেন বদরুলের দোষ সবচেয়ে কম, তাহলে আপনি খুবই বাস্তববাদী, আরেকটু কবিতা-টবিতা পড়ুন
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।