যে ঘড়ি তৈয়ার করে - সে - লুকায় ঘড়ির ভিতরে
ব্লগারদের ভিতরে বিভিন্ন কিছিমের মানুষ আছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। যারা খুউব নিয়মিত ব্লগ দেখেন, পড়েন, লিখেন তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও অস্বাভাবিকতা আছে সেইটাতেও খুব একটা সন্দেহ থাকার কথা না। সন্দেহ থাকার কথা না, এই কারনে বলা যে একটা চাইরকোনা কম্পিউটার মনিটরের সামনে রাইত নাই দিন নাই বইসা থাকা আর কুটুর কুটুর কইরা কীবোর্ড চাইপা যাওয়ার ব্যাপারটা। এখন হয়তো বিকাল, বাইরে চমৎকার আবহওয়া; অথচ একজন মানুষ টেবিলে উবু হয়ে বসে কি ছাইপাশ পড়ছে। অথবা এখন হয়তো সুন্দর একটা সকালের সুচনা, অথচ একজন আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সিপিইউর পাওয়ার বাটনে চাপ দিচ্ছে; মনে কৌতুহল ব্লগটায় কি চলছে দেখে আসি।
অথবা মনে করুন অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে নীচের দিকে পুরোটা সময়ে ব্লগের উইন্ডোটা খোলা। এদের স্বাভাবিক বলার কোন কারন নাই।
এমনিতেই যারা খুব বেশি ইন্টারনেট নির্ভর যোগাযোগে নির্ভরশীল তারা একটু মুখচোরা কিছিমের। স্বাভাবিক কমিউনিকেশন স্কিলে তাদের ঘাটতি আছে এটা বোঝাই যায়। তারা একজনের সামনে সরাসরি কথা বলার চাইতে অনলাইন চ্যাটিংয়ে স্বস্তি বেশি পায়।
সত্যিকার জীবনে একটা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে হয়তো কথা বলতে কথা জড়িয়ে যেতো, অথচ দিব্যি আইআরসিতে গিয়ে হরেক মেয়ের সাথে ইমেইল ঠিকানা চালাচালি হচ্ছে।
মোদ্দা কথা হলো, যারা খুব বেশি ব্লগায় তাদের নিশ্চিতভাবে কিছু অস্বাভাবিকতা আছেই। এই অস্বাভাবিকতা খুব নেগেটিভ অর্থে নেওয়ার দরকার নেই। আপনারা সবাই ব্লগার তাই জানি 'অস্বাভাবিকতা' শব্দটা আহত করতে পারে আপনাদের। এখানে শব্দটার ব্যবহার অন্য অর্থেও হতে পারে।
হয়তো আপনার অস্বাভাবিক রকমের ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি, অথবা আপনার কাজের ধরনটাই এমন যে আপনি সবসময় কম্পিউটারের সামনেই বসে থাকেন যেটা ইন্টারনেটে সংযুক্ত। যেহেতু তা স্বাভাবিকের বাইরে, তাই অস্বাভাবিক। এর মানে এই নয় যে ব্লগারদের আমি পাগল বলছি।
দেখুন কোথা থেকে কোথায় চলে গেলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ব্লগীয় সাইকোলজী নিয়ে লিখতে।
কেন পাবলিক ব্লগ করে, কি লাভ, কেন আসক্তি আসে এবং যেটায় আমি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী সেইটা হইলো কিভাবে একজনের ব্লগীয় অভ্যাসের ইভোলিউশন ঘটে।
এই শেষ ব্যাপারটা, অর্থাৎ ব্লগীয় ইভোলিউশনটা নিয়েই সামনের পর্ব। বোঝার চেষ্টায় আছি একজন ব্লগারের পর্যায়ক্রমিক ইভোলিউশন ও ট্রেন্ডটা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।