সময়... অনাদি... হতে... অনন্তের... পথে...
জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে আছে বাংলাদেশের বেনারসি পল্লীর তাঁতি ও শ্রমিকরা। সুতা তাঁত থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ছেই। সে তুলনায় তাঁত বেনারসি শাড়ির দাম বাড়েনি। একটি বেনারসি শাড়ি তৈরি করে মালিকরা লাভ করে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অথচ সেই শাড়ি ঢাকার মহাজনেরা কিনে তা বিক্রি করে প্রতিটি শাড়িতে লাভ করছে হাজার থেকে ১২শ’ টাকা।
পৃষ্ঠপোষক আর মূলধন ছাড়া বেনারসি পল্লীর তাঁতিরা তাদের বাপ-দাদার পেশা তাঁত শিল্প টেকাতে পারছেন না। ফলে তাঁত শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা দিশাহারা।
রংপুর শহর থেকে ১০/১২ কিলোমিটার দূরে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের হাবুগ্রামসহ প্রায় ৫টি গ্রামে গড়ে উঠেছে তাঁতিপাড়া। অর্থাৎ বেনারসি পল্লী। এখানকার তাঁত শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রহমান ভারত, পাকিস্তôান ও ইরান থেকে বেনারসির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৯৭ সালে পুরাতন তাঁত দিয়ে যাত্রা শুরু করেন।
প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন তার মূলধন প্রায় ৫ লাখ টাকা। আব্দুর রহমানের দেখাদেখি প্রতিবেশী ও তারই অনেক শ্রমিক নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলে তাঁত শিল্প। এভাবে অনেকে ঝুঁকে পড়েন এ ব্যবসায়। বর্তমানে ১শ’ ৩২জন মালিকের প্রায় ৬শ’ তাঁত রয়েছে বেনারসি পল্লীতে। এখানে প্রায় ৪ হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করছে।
নয়া মিয়ার কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, ৪ তাঁতে ৮ শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকরা রোল তৈরি করছেন। একটি রোলে ২টি শাড়ি হয়। প্রতি রোলের দাম ১৭শ’ টাকা। পুরুষ শ্রমিকরা ৭৫ টাকা করে মজুরি পান, আর মহিলা শ্রমিকরা পান ৪০ টাকা।
খতিবার রহমান, শামছুল, মুনমুন বেনারসির মালিক চন্দন, রহমান উইভিং ফ্যাক্টরির মালিক নুরুল ইসলামসহ প্রায় ২৫/৩০ জন তাঁত মালিক বলেন, উপকরণ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। শ্রমিক হামিদুল, লেভু, রমজান, নজমুল, রবিউল, মানিক, মশিয়ার, রশীদ, জয়নালসহ অন্যরা জানায়, বেনারসি প্রতি শাড়িতে তারা ২শ’ ৭৫ টাকা করে পান। একটি শাড়ি বানাতে ৩ দিন সময় লাগে।
শাড়ির সুতা তোলা শ্রমিক জাহেদা, সুরাইয়া, আলেখা বানু, আমেনাসহ অন্যান্যের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, একটি শাড়ির সুতা তুলতে তারা ১২ টাকা করে পান। সারা সপ্তাহে ২০টির ওপর শাড়ির সুতা তুলতে পারেন না।
সে হিসেবে তারা সপ্তাহে ২শ’ ৪০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন না। বেনারসি পল্লীর মহিলা শ্রমিকদের সুনিপুণ হাতে তৈরি সুন্দর সুন্দর শাড়ি উপর তলার মহিলাদের সৌন্দর্য বর্ধন করছে। এ বেনারসি পল্লীর তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের কর্মের সংস্থান হলেও এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বা অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। আগের মতো এখনও ক্ষুধা আর দারিদ্রের সঙ্গে তারা যুদ্ধ করছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বেনারসি পল্লীর কোন তাঁতি এ পর্যন্তô ব্যাংক ঋণ অথবা সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি।
জানা গেছে, একটি শাড়ি তৈরি করতে লেবার, তানা, জরি ফেলা মিলিয়ে মোট খরচ হয় সাড়ে ৮শ’ থেকে ৮শ’ ৭০ টাকা। ঢাকার মহাজনরা সেই শাড়ি ক্রয় করে ৯শ’ টাকায়। মহাজন ও খুচরা বিক্রেতারা সেই শাড়ি বিক্রি করেন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্তô। একটি শাড়ি বিক্রি করে তাঁতি মালিকরা লাভ করে ৩০/৪০ টাকা আর লাভের সিংহভাগই মহাজনের ক্যাশবাক্সে ঢোকে। ফলে বাংলাদেশের তাঁতিদের ভাগ্যের আর পরিবর্তন হয়নি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।