আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পৃথিবী কাহারে কয় !!



One fine morning আমার একমাত্র বৈধ girl-friend এর সহিত দূরাভাষে কথা বলিতে বলিতে ঝাঁজিয়া উঠিলাম : "ধূর । তোমায় বিবাহ করিব না । " [আগে জানিতাম না, কলিকালে মহিলা সমপ্রদায় এতখানি হিংস্র হইয়া উঠিয়াছে । জানিলে এমৎ ভুল স্বয়ং মহর্ষি ডাল্মিকীও করিতেন না , আমি তো নগন্য জীবন-পথিক মাত্র । সচেতন পাঠকগণ (পাঠিকাগণকে কিছু বলিবার নেই) আরও সচেতন হউন, নতুবা ...] প্রথমে সে ভাবিতেছিল আমি বুঝি মস্করা [যদিও সে ঠিকই ভাবিয়াছিল, কিন্তু ...] করিতেছি , সে বলিয়া উঠিল : "যাও ।

যাও । অমন কত দেখিলাম , কোথায় পাইবে আমার মত পাত্রী ?" আমি বলিলাম : "'অমন কত দেখিলাম' !! মানে !! ?? আমার পূর্বে কয়জনা কে দেখিয়াছ ??" সে মন্তব্য করিল : "যত জনাকেই দেখিয়া থাকি, তোমার কি ? এমনিতে যাহাদিগকেই দেখি, সকলেই তোমার অপেক্ষা সুন্দর । " আগে বুঝিতে পারিনাই আমি এতখানি অধিকারসূচক চিন্তার অধিকারী । গা রি - রি করিয়া জ্বলিয়া উঠিল । মস্তকের কেশরাশি খাড়া হইয়া গেল .... আমি বলিলাম: "ওঃ ।

আমার আড়ালে অন্য পুরুষকে চাহিয়া চাহিয়া দেখ , লজ্জা করে না !! সুন্দরতো উহারা লাগিবেই ! চোখ থাকিতে চোখের মর্ম কি তাহা তো আর কেহ বোঝে না । আমায় আবার বল কুৎসিত ??? কুৎসিতই যদি তবে প্রেম করিলে কেন ?" সে অভিযোগ করিল : "আমি বলি নাই তুমি কুৎসিত । " আমি বলিলাম : " একই ব্যাপার । অন্যরা আমা হইতে সুন্দর অর্থাৎ আমি উহাদিগের হইতে কুৎসিত । তুমি রূপের বাহার মানিয়া লই ।

আমারই ভুল , অতিরিক্ত সুন্দরীর সহিত লাইন মারা উচিত নহে । আগামী কল্য হইতে আমি জিম-এ যাইব । হুঃ । " অপর প্রান্ত হইতে মৃদু হাসির আওয়াজ শুনিতে পাইলাম মনে হইল । চাগিয়া উঠিলাম : "হাসিতেছ ! তুমি হাসিতে পারিলে ? এইবার আমি কো-এড জিম-এ যাইব ও সেইস্থানের সুন্দরীদিগকে চাহিয়া চাহিয়া দেখিব ।

আমার মনে হয় উহারা তোমা হইতে সুন্দরী । " মনের কথা বলিয়া ফেলিলাম, কিন্তু বলিয়া মনে হইল বোমা ফেলিলাম । কিয়ৎকাল নীরবতাপালনের পর, অপর প্রান্ত হইতে মৃদু ফোপাইয়া অভিমান প্রকাশের শব্দ পাইলাম মনে হইল । দুঃখ পাইলাম । বলিতে চাইলাম ঃ" আহা ক্রন্দ........." ফোন কাটিয়া গেল ।

ফোন করিলাম .. কিন্তু ভাগ্যে সুখ নাই , খালি টু টু শব্দ করে । মিনিট দশেক ফোন করিয়া লাইন না পাইয়া খেপিয়া যাইলাম গ্রামীণ ফোনের উপর । প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হইয়া ঘরময় ইতস্ততঃ পায়চারী করিয়া , মনে হইল বাহিরে গিয়া মাঠের বাতাস সেবন করিয়া আসি । একলা মাঠে যাওয়া যায় না , পরম বন্ধু "সিগারেট" কে সঙ্গী করিয়া লইয়া গেলাম । বাতাস ও বহু "পরম বন্ধু " সেবন করিয়া , ঘরে আসিতেই দেখিলাম , অদ্ভুত কোলাহল হইতেছে ।

বুঝিলাম না কি লইয়া কোলাহল , শুধু এইটুকু বুঝিলাম কলহ নহে । কান ও মন না বাড়াইয়া নিজের ঘরে গমন করিলাম । ক্ষণিক পরে মাতা চা নামক পানীয় দিতে আসিয়া বলিলেন , তোমার বিবাহের দিন স্থির করিতেছি । শুনিয়া অস্থির হইয়া যাইলাম । কন্ঠ শুকাইয়া গেল , বহু কষ্টে বলিলাম : "বিবাহ ? কাহার ? কাহার সহিত?" মৃদু হাসিয়া মাতা একটি নাম বলিলেন যাহা আমি জীবনে প্রথম শুনিলাম ।

আমাদের কাহিনী মাতা জানিতেন না । কন্যা আমার পিতার বন্ধুর পুত্রী । কি করিয়া মাতাকে জানাই, বুঝিতে পারিলাম না । আমি তীব্র প্রতিবাদ করিলাম : "বিবাহ করিব না । " মাতা :"বিবাহ করিতে হইবেই ।

আমি কথা দিয়াছি । " আমি অটল : " আমি বিবাহ করিব না । " মাতা নীরব হইয়া চলিয়া গেলেন । কোলাহল (না হাসির শব্দ !!) বাড়িয়া যাইল । কৌতুহলী হইয়া উঠিলাম ।

পার্শবর্তী ঘরে যাইলাম । দেখিলাম আমার girl-friend , উহার মাতা ,ভ্রাতা ..... এবং আমার মাতা , পিতা (ও আরো অনেকে) বসিয়া হাসিতেছে । অবাক হইয়া দাড়াইয়া রইলাম , কি করিব বুঝিতে পারিলাম না । সম্বিত আসিতেই ঘরে চলিয়া আসিলাম । অদ্ভুত ব্যাপার ! চা এর পেয়ালা লইতে সে আসিল , তাহার মুখেই শুনিতে পারিলাম , ফোন কাটিয়া যাইবার পর সে বহুসময় প্রচেষ্টা চালাইয়া ফোন পায় নাই ,ফল বসতঃ ক্রন্দনের পরিমাণ বাড়াইয়া দেয় ।

বহুসময় ক্রন্দন করিয়া সে তাহার মাতার কাছে (ক্রন্দনরত অবস্থায়) অভিযোগ করে । ফলস্বরূপ সমস্ত ব্যাপার উহার বাটি হইতে আমার বাটি তে আসে । উহাকে কাছে টানিয়া বলি : "ইহার কি দরকার ছিল ? আমিই বলিতে পারিতাম । " সে মৃদু হাসিয়া চলিয়া গেল । দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া মনে মনে বলিলাম : " হে গ্রামীণ ফোন ! একটি ব্যাচেলার জীবন বরবাদ করিয়া দিলে ।

তোমার এ ঋণ অপ্রতিশোধ্য । " ---- একটি সত্য রম্য ঘটনা অনুসারে (আমার জীবন নহে )

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.