আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ব্ল্যাকহোল

ব্ল্যাকহোল মহাকাশের সবচেয়ে আলোচিত রহস্যের একটি। ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাশূন্যের সেই এলাকা, যেখানে অতিমাত্রায় এর পদার্থ এতটাই ঘনীভূত হয়ে আছে যে, এর আশপাশের বস্তুর কোনো উপায় নেই এর গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ বলের টানকে উপেক্ষা করতে পারে। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণবিবর এমন একটি স্থান বা বস্তু যেখানে অতি ক্ষুদ্র আয়তনে ভর এত বেশি থাকে, যেখান থেকে কোনো কিছুই বের হতে পারে না, এমনকি আলোও নয়। এ স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্যসব বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোনো কিছুই পালাতে পারে না।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণবিবরের ও অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

ব্ল্যাকহোল শব্দের অর্থ কৃষ্ণবিবর বা কালো-গহ্বর। একে এ নামকরণ করার পেছনে কারণ হলো এটি এর নিজের দিকে আসা সব আলোকরশ্মিকে শুষে নেয়। ব্ল্যাকহোল থেকে কোনো আলোকবিন্দুই ফিরে আসতে পারে না ঠিক থার্মোডায়নামিঙ্রে কৃষ্ণবস্তুর মতো। এখন পর্যন্ত ব্ল্যাকহোলের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কারণ এ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে না, কিন্তু এর উপস্থিতির প্রমাণ আমরা পরোক্ষভাবে পাই। ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বের প্রমাণ কোনো স্থানের তারা নক্ষত্রের গতি এবং দিক দেখে পাওয়া যায়। মহাকাশবিদরা ১৬ বছর ধরে আশপাশের তারা মণ্ডলীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গত ২০০৮ সালে প্রমাণ পেয়েছেন অতিমাত্রার ভরবিশিষ্ট একটি ব্ল্যাকহোলের যার ভর আমাদের সূর্য থেকে ৪ মিলিয়ন গুণ বেশি এবং এটি আমাদের আকাশগঙ্গার মাঝখানে অবস্থিত। ব্ল্যাকহোল দেখতে পাওয়া যায় না। তবে প্রমাণের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব বোঝা যায়।

এর প্রচণ্ড রকম ভরের কারণে চারপাশের পদার্থগুলোকে শুষে নেওয়ার ফলে এর চারপাশে ঘূর্ণাবর্তা সৃষ্টি হয়। তিন দশক ধরে বিভিন্ন তত্ত্ব দেওয়া ও বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজির পর সবচেয়ে সন্দেহপ্রবণ জ্যোতির্পদার্থবিদসহ সবাই ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ টেলিস্কোপের মাধ্যমে ব্ল্যাকহোলের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। ১৯১৫ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এর বিখ্যাত থিউরি অব রিলেটিভিটি সূত্রের মাধমেই কৃষ্ণবিবরের অস্তিত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণবিবর ছোট আবার বড়ও হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন সবচেয়ে ছোট ব্ল্যাকহোলটি একটি অ্যাটমের সমান। কিন্তু এ ছোট ব্ল্যাকহোলগুলোরও রয়েছে বড় পাহাড়ের সমান ভর। দুই ধরনের ব্ল্যাকহোল দেখা যায়। একটি হোলস্টেলার এবং আরেকটি হোল সুপারমাসিভ। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন বড় ছায়াপথের কেন্দ্রে একটি ব্ল্যাকহোল থাকে।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।