আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির ডিনার ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার সঙ্গে দেখা হয়েছিল জাপানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে। ২৫ নভেম্বর রাতে জাপানি রাষ্ট্রদূত বড় ধরনের ডিনারের আয়োজন করেন। এতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি অংশ নেন। আমি যখন প্রবেশ করি একই সময়ে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. (অব.) হান্নান শাহ। আমরা দুজন আগে-পরে হাত মেলালাম রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে।

এর পর দেখা হয় আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেননসহ মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্যের সঙ্গে। আমার একটু তাড়া ছিল। রাত ১০টায় টকশো ছিল সময় টিভিতে। এ কারণে আগেই বেরিয়ে পড়ি। বেরুনোর মুহূর্তে কথা হয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমি অনেক কাছ থেকে মিশেছি। ঘুরেছি দেশ-বিদেশ। কিন্তু শেখ রেহানার সঙ্গে সেভাবে মেশা হয়নি। তারপরও আন্তরিকতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুকন্যাদের তুলনা হয় না। অল্প সময়ের কথায় তিনি ডেকে নিলেন পুত্র রেদওয়ান সিদ্দিক ববিকে।

শেখ রেহানার প্রতিটি পুত্র-কন্যাই অসাধারণ মেধাবী। তার কন্যা টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন লেবার পার্টির হয়ে। শেখ রেহানা বললেন, এক দিন বসতে হবে। আমাদের লোকজন এখন অনেক দূরে সরে আছে। তোমরা দূরে থাকলে চলবে কী করে? ববিকে তিনি বললেন, আমার ফোন নম্বর রাখতে।

এর আগে এক দিন এক অনুষ্ঠানে ববির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। শেখ রেহানাকে বললাম, এবার এমন কিছু মানুষ সব কিছু আগলে রেখেছে, যা খুশি তা করেছে, যার কারণে সরকারের নিজেদের লোকজন দূরে সরে গেছে। আপনার সঙ্গে এক দিন কথা বলব। তিনি আন্তরিকতা দিয়ে বললেন, অবশ্যই কথা হবে। ববির সঙ্গে ফোন নম্বর বিনিময় হলো।

জাপানি রাষ্ট্রদূতের বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম সময় টিভিতে। সেখানে গিয়ে জানলাম, আটক হয়েছেন ব্রি. (অব.) হান্নান শাহ। আমি তাদের বললাম, আমরা একসঙ্গে কিছুক্ষণ আগে ছিলাম। তারপর তিনি আটক হলেন। বিস্মিত হলাম।

একজন রাষ্ট্রদূতের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে আটক কেন করতে হবে? রাজনীতি আসলে এক জটিল আবর্তের দিকে যাচ্ছে। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কেউ জানে না এই উৎকণ্ঠার শেষ কোথায়। তারপরও দেশ-বিদেশের নানামুখী সমঝোতার তৎপরতা চলছে।

সর্বশেষ মাঠে নেমেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফারনান্দেজ তারানকো। তার ভাষায় পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আমরা অগ্রগতিই দেখতে চাই। কারণ বিজয়ের এই মাসে স্বপ্নের বাংলাদেশের করুণ ধারা কেউই দেখতে চায় না। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়েই অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা।

কিন্তু বর্তমান সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক উন্নতি। আশঙ্কা জিডিপির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে। ব্যবসায়ীরা হতাশ। সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। বাবু নামের এক তরুণের জীবন কাহিনী শুনে আমি অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি।

ঢাকা কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল বাবু। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের কাছে তাদের একটা বাড়ি ছিল। কয়েক মাস আগে সন্ত্রাসীরা বাড়িটি দখল করে নেয়। শুধু তাই নয়, তারা কিডন্যাপ করে বাবুর বাবাকে। তারপর থেকে প্রতিদিন সকালে বাবু বের হতো নিখোঁজ বাবার সন্ধানে।

বাবু তার মাকে কথা দিয়েছিল, যে করেই হোক এক দিন বাবাকে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু সে কথা সে রাখতে পারেনি। কারণ, শাহবাগে গান পাউডার ছিটিয়ে অথবা পেট্রল বোমা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বাবুর বাসে। তারপর কয়েক দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে তার লড়াই। এক পর্যায়ে পরাজিত হয় বাবু।

শুধু বাবু নয়, একজন কিশোর বের হয়েছিল তার বাবার সঙ্গে ঢাকা শহর দেখতে। ক্লান্ত, অবসন্ন কিশোরটি দুপুরে ঘুমিয়েছিল বাবার ভ্যান গাড়িতে। হঠাৎ আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় সেই ভ্যানে। এই ঘুমই শেষ ঘুম ছিল কিশোরটির। এভাবে প্রতিদিনই রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হচ্ছে আমাদের নিরীহ মানুষ।

গরিব খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই রাজনীতি করার দোহাই দেন আমাদের রাজনীতিবিদরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে রাজনীতি সম্পর্কে একজন গীতা রানী যা বলেছেন তা আজ সারা দেশের মানুষেরই কথা। গীতা রানী বলেছেন, 'আমরা ভোট দেই দুটি দলকে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে ভুলে যান আমাদেরকে। তারা মনে রাখেন না আমাদের আয়-রোজগারে আমরা খাই, পরি।

তারা আমাদের কিছুই দেন না। অথচ দুই দল নিজেদের ক্ষমতার জন্য বলি দেন আমাদেরকে। '

গোটা দেশের মানুষের এমন উৎকণ্ঠার সময় বুধবার জরুরি কাজে দুই দিনের জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম। বিমানে দেখা হলো ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের সঙ্গে। ফেরার দিনও আমরা একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসি।

সিঙ্গাপুরে টেলিফোনে কথা হয় সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আলাউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের সঙ্গে। তিনি সস্ত্রীক সিঙ্গাপুরেই ছিলেন। বললেন, রাতে ফ্রি থাকবেন। রাষ্ট্রপতির ডিনারে যাব একসঙ্গে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তখন সিঙ্গাপুরে ছিলেন।

বঙ্গভবনের ইতিহাসে এই আরেকজন মানুষ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কিছুদিন আগে হাওর এলাকায় রিকশায় চড়ে তার ঘুরে বেড়ানোর ফটো আমি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। ইরান, দুবাই, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমার সাংবাদিক বন্ধুরা বিস্ময় নিয়ে 'লাইক' দিয়েছিলেন এবং পজেটিভ কমেন্ট করেছিলেন। তার মধ্যে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও কোনো পরিবর্তন দেখলাম না। আগের মতোই প্রাণবন্ত।

আমি বসেছিলাম রাষ্ট্রপতির সচিব মঞ্জুর হোসেন, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ফখরুদ্দিন, ডিজিএসএসএফ মেজর জেনারেল আমান হাসান, প্রেস সচিব সাংবাদিক এহসানুল করিম হেলাল, কর্নেল নাহিদসহ অন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের টেবিলে। কী একটা বিষয়ে কথা বলতে সামরিক সচিব ফখরুদ্দিনের কাছে তিনি এলেন। আমার কাঁধে হাত রেখে কথা বললেন। শুক্রবারে রাষ্ট্রপতি ফিরে আসেন দেশে। সেদিনই সিঙ্গাপুর যান শেখ হেলাল এমপি।

চলনে, বলনে, গড়নে বঙ্গবন্ধুর ছায়া তার মাঝে। রবীন্দ্র ভক্ত মানুষ। বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল গত পাঁচ বছর অনেক সাতে-পাঁচে ছিলেন না। আওয়ামী লীগের আগের আমলে সক্রিয় ছিলেন।

আড্ডায়-আলাপে দীর্ঘ কথা হয় শেখ হেলালের সঙ্গে।

আমাদের মতো অনেক বিষয়ে তিনিও স্পষ্টবাদী। গত পাঁচ বছর আওয়ামী লীগের অনেক বাম নেতা ও কতিপয় কর্মচারীর বাড়াবাড়ি নিয়ে তার মনেও প্রশ্ন আছে। তবুও কথা বললেন শেখ রেহানার সুরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে। দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জন্য তার চোখে-মুখে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখলাম।

আমাকে বললেন, সবাই মিলে শেষ চেষ্টা করুন না ভাই। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের সবার। তিনি বললেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবার হোঁচট খেলে গভীর সংকট তৈরি হবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ আর থাকবে না।

শুধু আমাদের পরিবারের বিষয় নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষজনকে তারা নির্বিচারে হত্যা করবে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে সোনার বাংলাকে। ২০০১ সালের পরের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। আমি তাকে বললাম, পাঁচটি বছর ভুল পথে হেঁটেছে আওয়ামী লীগ।

দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়নি। এবার ছিল কর্মচারী, কমিউনিস্ট হাইব্রিডদের দাপট। এই কারণে আজ আওয়ামী লীগের এমন গণবিচ্ছিন্নতা। তিনি আবারও বললেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখার তো কোনো বিকল্প নেই। কারও ওপর অভিমান করে দূরে সরে থাকলে চলবে না।

তার কথা শুনলাম। বলার ইচ্ছা ছিল, পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। এখন অনেক কিছুই সামাল দেওয়া কঠিন। কিন্তু বলা হলো না সেই কথা।

সিঙ্গাপুরে আমি ছিলাম রয়েল পার্ক হোটেলে।

এই হোটেলটি বাঙালি পাড়ায়। লিটল ইন্ডিয়া মোস্তফা সেন্টারের আশপাশের পুরোটাই এখন বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় রবিবার। কারণ, রবিবার তাদের ছুটির দিন। একসময় এ এলাকায় ইন্ডিয়ানদের দাপট ছিল। বাঙালি রেস্টুরেন্ট ছিল একটি।

এখন সময় বদলে গেছে। বাঙালিদের অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বেড়েছে রেস্টুরেন্টের সংখ্যা। এখানেই দেখা হয় কুমিল্লার বিএনপি নেতা জসিম এবং কিশোরগঞ্জের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে। ঘরোয়া নামের একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে পরিচয় হলো মালিকের সঙ্গে।

তিনি ঢাকার একজন ব্যবসায়ী। দেশেই থাকেন। মাসে একবার যান। তার আরও পার্টনার আছে। তারা চালিয়ে রাখেন।

দেশ নিয়ে তার চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা। আরও অনেক বাঙালির সঙ্গে দেখা হলো। তাদেরও একই প্রশ্ন- কী হচ্ছে দেশে? কী হবে? এভাবে চলতে পারে না। পরিবার-পরিজনের কাছে ছুটে আসতে তাদেরও মন কাঁদে। কিন্তু এই ভয়াবহ অবস্থায় কেউই দেশে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে আসা-যাওয়ার সময় তাই দেখেছি অনেকটা খালি ছিল ফ্লাইট। একজন প্রবাসী বললেন, এই সিঙ্গাপুর আমাদের শ্রমিকদের কষ্ট ও ঘামে নির্মাণ করা। একসময় সিঙ্গাপুরে কিছুই ছিল না। ষাটের দশকে সিঙ্গাপুর ছিল অনেকটা আমাদের সন্দ্বীপের মতো। আজকে তারা বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ।

বিশ্ব অর্থনীতিতে দাপুটে অবস্থানে। সত্তরের দশকে তাদের বিকাশ। লিকুইনির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সিঙ্গাপুরকে বদলে দিয়েছে। মিশন এবং ভিশন থাকলে একটা দেশ কীভাবে পরিবর্তন হতে পারে তার দৃষ্টান্ত সিঙ্গাপুর। আমাদের রাজনীতিবিদরা সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া যান।

দেখে আসেন কিন্তু শিখে আসেন না।

অনেক সম্ভাবনা ছিল এ দেশটাকে ঘিরে। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমরা কখনো পাইনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশটা দিয়ে গেছেন। কিন্তু এগিয়ে নেওয়ার মতো যোদ্ধার অভাব আজ।

তাই প্রতি পরতে পরতে হোঁচট খেতে হচ্ছে। ৪২ বছরে একটা নির্বাচন পদ্ধতি আমরা ঠিক করতে পারিনি। রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনে অস্বাভাবিকতাই ছিল বেশি। এরশাদের পতনের পর ধারণা ছিল হানাহানি সংঘাতের অবসান হবে। বিকশিত হবে গণতন্ত্রের।

কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। '৯৬ সালে সংকট নিরসনে এসেছিলেন স্যার নিনিয়ান। আর এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারানকো। আমাদের রাজনীতিবিদরা নিজের সংকট নিরসন নিজেরা করতে পারেন না। বিদেশিদের লাগে।

ধারণা ছিল ওয়ান-ইলেভেন থেকে সবাই শিক্ষা নেবেন। পরিবর্তন ঘটবে পরিস্থিতির। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াই ইতিহাসের শিক্ষা। ওয়ান-ইলেভেন আমাদের রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

রাজনীতিবিদদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দুটি দলের মূল নেতৃত্ব থেকে।

ভুঁইফোড়দের উত্থান ঘটেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে। এরই কঠিন খেসারত এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। দুটি দলই অনড় অবস্থান নিয়েছে। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

যে-ই ছাড় দেবে সে-ই যেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে! তাই এক ধরনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মনোভাব নিয়েই এগিয়ে চলছে দুই দলই। এর পরিণাম কী দাঁড়াবে, কোথায় দাঁড়াবে তারাও জানেন না।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।