আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দোহারে সংঘর্ষে নিহত ৫

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন গতকাল সকালে ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুরে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রক্তক্ষয়ী এ সহিংসতায় আহত ২০ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

ঢাকা-১ আসনে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানকে হারিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সালমা ইসলাম বিলাসপুর আওয়ামী লীগের একটি অংশকে নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করান। অন্য পক্ষটি মান্নান খানের সমর্থক। ফলাফলের পর আওয়ামী লীগের এই দুই অংশের মধ্যেই সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার পর ওই এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন মুসা খন্দকার (৫৫), তার ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৮), বিলাসপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মকবুল হোসেন (৩৫), আসলাম মোল্লা (২৩) ও রেজাউল (৩৩)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীরা প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে ধরে রাস্তায় ফেলে জবাই করে হত্যা করেন। কাউকে আবার এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। হামলার শিকার বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে একই কায়দায় ছেলেও খুনের শিকার হন।

লোমহর্ষক এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান দুজন। বিলাসপুরের বাসিন্দারা বলছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সালমা ইসলাম বিজয়ী হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। যার বিস্ফোরণ ঘটে পরদিন সকালে। সংঘর্ষের পর আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হুকুম আলী চোকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।

তাদের এই দ্বন্দ্বের সুযোগ নেন জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মোল্লা ও তার কর্মী-সমর্থকদের তার পক্ষে কাজ করান। এর ফলে দ্বন্দ্ব আরও চরমে পেঁৗছে। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এমনকি নির্বাচনের দিনও সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর উভয় শিবিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। হুকুম আলী চোকদারের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক গতকাল সকাল ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলাউদ্দিন মোল্লার লোকজনের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালান। উভয় পক্ষে এ সময় তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, হুকুম আলী চোকদারের নেতৃত্বে বাসা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তারা মুসা খন্দকারকে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু অস্ত্রধারীরা তাকে ধরে রাস্তার ওপরই কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। মুসা খন্দকারের ছেলে মাসুদ বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলেও তাকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে গেলে চিকিৎসক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মকবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক মুসা খন্দকার ও তার ছেলে মাসুদ খন্দকারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ঢাকায় আনার পথে আসলাম মোল্লা ও রেজাউল মারা যান।

নিহতরা সবাই আলাউদ্দীন গ্রুপের। আহত অন্যদের মধ্যে জামাল খন্দকার (৫৫) ও তার স্ত্রী সালেহা (৩৫), রিয়াজুল মোল্লা (৪৫), মসিরন (৫৩), শাহ আলম (৩৫), মুসা খন্দকারের ভাই আনোয়ার খন্দকার (৫৫) ও তার ছেলে সুমনকে (১৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাদের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হাজারবিঘা এলাকার রাস্তাজুড়ে এখন শুধু ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘিরে রাখে।

হামলায় জড়িত চোকদার পক্ষের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, বিলাসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীনগর গ্রামের আজিজ চোকদারের ছেলে আনোয়ার চোকদার, একই গ্রামের নূর আলীর ছেলে খোকন হোসেন ও তোতা মিয়া। ঘটনাস্থলে উপস্থিত র্যাব-১১ এর ডিএডি আমিনুল ইসলাম বলেন, 'আমরা জয়পাড়া এলাকায় টহল দিচ্ছিলাম। খবর পেয়ে এসে দেখি দুই শতাধিক যুবক রামদা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। তখন তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিই।

তবে এর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। '

বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, নিহত ১ : দোহার ছাড়াও গতকাল বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় সোনাইমুড়িতে ১ জন নিহত ও বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নোয়াখালী : সোনাইমুড়ি উপজেলার নদোনা ইউনিয়নের গজারিয়ায় রবিবার রাতে নির্বাচন-পরবর্তী আওয়ামী লীগের একটি বিজয় মিছিলে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় যুবলীগ কর্মী মাহফুজকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয় লোকজন মাহফুজকে উদ্ধার করে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করে। সেখানে গতকাল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মাহফুজ (২৩) উপজেলার নদোনা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের হাজী জয়নাল মিয়ার ছেলে। বাগেরহাট : মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উপজেলায় সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস, বাড়ি, গাড়ি ভাঙচুর ও কমপক্ষে ২৫ সমর্থককে পিটিয়ে আহত করেছে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোজাম্মেল হোসেনের ক্যাডার বাহিনী। শুধু হামলা নয়, তারা হন্যে হয়ে খুঁজছে মোরেলগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) ড. আবদুর রহিম খানসহ শতাধিক কর্মী-সমর্থককে।

এমপি মোজাম্মেলের বাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে তারা এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমন অভিযোগ করেছেন মনিরুল হক তালুকদার ও ড. আবদুর রহিম খান। তারা বলেন, মোরেলগঞ্জ সদরে মোজাম্মেল হোসেনের ক্যাডার বাহিনী মনিরুল হক তালুকদারের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। মনিরুল হকের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট অ্যাডভোকেট তাজিনুর রহমান পলাশ জানান, নৌকার সমর্থকরা নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় সোমেদ, মাহবুব, ফজলু ও ইলিয়াছ আহত হন।

বাগেরহাট-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. আবদুর রহিম খানের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভোট গণনা শুরুর পর মোজাম্মেল হোসেনের সমর্থকরা উপজেলা সদরে নির্বাচনী অফিস ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় গাড়ি চালক এছাহাক আহত হন। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জিমিকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ। অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার জানান, সিল মেরে এমপি হন মোজাম্মেল হোসেন। তার নির্দেশে নাহার, ওলি, বাচ্চু মেম্বর, শ্রমিক মুরাদ, পান বাদশা, পান লতিফ, মিজান, সেলিম, বারুইখালীতে লাল মিয়া, শেমল, পঞ্চকরন ইউনিয়নে মজুমদার ও আকবর, নিশানবাড়ী ইউনিয়নে বাচ্চু ডিলার ও জসিম, ঝিউধরা ইউনিয়নে বাদশা এবং হাবিব, হোগলাবুনিয়া সাংকিভাঙ্গায় রতন, ভদ্র, পলাশ, রামচন্দ্রপুর ও দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে শহিদুল ফকির, জাপান বাবুল ও হাবিবের নেতৃত্বে হামলায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।

মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় তার শতাধিক কর্মী-সমর্থকের বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে ক্যাডার বাহিনী। প্রাণভয়ে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ড. আবদুর রহিম খান মুঠোফোনে জানান, ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সমর্থকরা তার সমর্থক-নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বড়পরি গ্রামের রহমত ঘরামী, নুরুল হক হাওলাদার, বারুইখালী গ্রামের হারুন হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, ফোরকান হোসেন, ফরহাদ হোসেন, ওয়াহেদ শেখ, আবদুল হালিম, মো. শাহীন, বাবুয়ানা গ্রামের শিপন হাওলাদার, সন্ন্যাসী বাজারের ফারুক হাওলাদার ও চন্দ্রনতলার মুজিবর হোসেন আহত হন। এ বিষয়ে ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও পাওয়া যায়নি।

তবে তার ভাতিজা জাহিদ হোসেন জানান, আমাদের জানা মতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কুমিল্লা : মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর গ্রামে সকালে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী আনু মিয়া মেম্বার, ফজলুল হক ও মিলন মিয়াসহ ৮ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রবিবার রাতে উপজেলার ভোগই বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ৫টি দোকানে ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবির। নারায়ণপুর গ্রামে ১১টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়।

এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হন। লাকসাম পৌরসভার উত্তর পশ্চিমগাঁও গ্রামে রবিবার রাতে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তা রাজনৈতিক সহিংসতায় রূপ নেয়। এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থক আবদুস ছাত্তারের বসতঘর এবং ডা. আমির হোসেনের ফার্মেসি, আবদুস ছোবহানের মুদি দোকান, খোরশেদ ও কামালের মুদি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল মিয়ার বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে, দুবাই প্রবাসী সবুজ মিয়ার ঘর, ছেরু মিয়া, মফিজ মিয়া, আবদুল খালেক, আবদুল কুদ্দুস, জিয়া, মিজান, জয়নাল, নুরু মিয়া, ছায়েদ, মীর হোসেন, কামাল হোসেন, আনোয়ার, জমির মিয়া, হাবিব, এমরানের বাড়িঘরে হামলা হয়।

দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা আসবাব-তৈজসপত্র তছনছ ও নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে। এ সময় প্রায় ২০ জন আহত হন। মেহেরপুর : গাংনী উপজেলা বাজারে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল হোসেনের সমর্থকদের বিজয় উল্লাসে ঢিল মারাকে কেন্দ্র করে পরাজিত নৌকা সমর্থিত এম এ খালেক সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ সংঘর্ষ হয়। সকালে গাংনী বাজারের শহীদ রেজাউল চত্বরে বিজয়ী মকবুল হোসেনের সমর্থকদের এক সমাবেশে এম এ খালেককে উদ্দেশ করে বক্তব্য দিলে কে বা কারা ঢিল মারে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ঘটে।

এ সময় খালেক সমর্থিত সাবি্বর (১৮) ও এক রিকশাচালকসহ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়াও মকবুল হোসেনের উত্তেজিত সমর্থকরা এম এ খালেকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্বাচনী অফিসসহ ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে যৌথবাহিনী। সংঘর্ষের সময় আটক মকবুল সমর্থক ১৫ জন নেতা-কর্মীকে ৫ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা শেষে মুক্তি দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। হবিগঞ্জ : বানিয়াচং উপজেলার কবিরপুর গ্রামে গতকাল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার কবিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপা নেতা-কর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে সকালে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নির্বাচনের প্রতিবাদে রবিবার রাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা মিছিল করে। তারা কসবা উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আজহারুল ইসলামের সীমান্ত কমপ্লেঙ্ মার্কেটে এবং কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মনির হোসেনের চালের দোকান ভাঙচুর করে। পুলিশ পৌর এলাকার আড়াইবাড়ি গ্রামের শরিফুল ইসলাম (১৯) ও কায়েমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের সোহাগ সরকার (২৫) নামে ২ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে।

কুড়িগ্রাম : রবিবার রাতে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলার চর কেন্দ্রে নৌকা ও সাইকেল মার্কা সমর্থকদের এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঝিনাইদহ : শহরের কালিকাপুরে তিন রাস্তা মোড় থেকে ঝিনাইদহ-২ আসনের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০-১২ জন সমর্থক বাড়ি ফেরার সময় পরাজিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন হামলা করে। এতে ৬ জন আহত হন। মাগুরা : মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. এম এস আকবর বিজয়ী হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লা হোসেন মিয়ার সমর্থকরা শ্রীপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম টোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৪০টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীর নিষেধ উপেক্ষা করে ভোট দিতে যাওয়ায় সদর উপজেলার বাটাজোড় গ্রামে নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল নামে এক কৃষকের পানের বরজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর : গতকাল বীরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম শাহর পা ভেঙে এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অগি্নসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোহনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ী ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেতা মো. ইউসুফ আলীর বালাডাঙ্গী বাজারে দোকান ভাঙচুর করে অগি্নসংযোগ করেছে এবং নিজপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কর্মী মো. বক্কর আলী নয়াহাট বাজারের মুদি দোকান, দর্পনারায়ণ ও সচিন রায়ের ওষুধের দোকানে অগি্নসংযোগ করেছে। মৌলভীবাজার : দুটি আসনে কয়েকটি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর ও তহশীল অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, রবিবার রাতে বড়লেখা দক্ষিণভাগ ইউপির পালপাড়া গ্রামের সাধন পালের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর শেষে কামুদ পালের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর ইউপি ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সকালে সোনারুপা চা-বাগানের ৩০-৩৫ জন শ্রমিক আজিমগঞ্জে কাজে যাওয়ার সময় ৫ শ্রমিককে নৌকায় ভোট দেওয়ায় মারপিঠ করে শিবির। পশ্চিমজুড়ী ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা রবিবার রাতে কুপিয়ে আহত করে। সুনামগঞ্জ : দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার কৃষি ব্যাংক শাখার ম্যানেজার লোকমান হেকিম প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে কারচুপিতে বাধা দেওয়ায় সরকারদলীয় নেতাদের মারধরের শিকার হয়েছেন।

গতকাল দুপুরে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে আওয়ামী নেতা ডা. মাহবুব এবং যুবলীগ নেতা তোফায়েল ও মনসুর ম্যানেজারকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করেন।

 

 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।