দ্রুত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ, শপথ ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে কথা বলেছেন। সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত এমপিরা ২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভা শপথ নেয় ৬ জানুয়ারি। সংসদ অধিবেশন বসে ২৪ জানুয়ারি।
সাংবিধানিকভাবে সে হিসেবে জাতীয় সংসদের মেয়াদ আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ ক্ষেত্রে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে এমপিদের শপথ সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে। শপথের পর পর আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সরকার গঠন করবেন। এ ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসলেই নবম সংসদের বিলুপ্তি ঘটবে।
তবে কেউ কেউ সংবিধান ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখছেন রাষ্ট্রপতি এখনই সংসদ ভেঙে দিতে পারেন কি না। সরকার গঠন, সংসদের অধিবেশন আহ্বানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গতকাল বিকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন, তার সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তবে বৈঠক শেষে কবে সরকার গঠন হতে পারে- জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের পরই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গতকাল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে যান। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে বঙ্গভবন থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দলের সিনিয়র নেতা গণপূর্ত মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এহসানুল করিম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনে বিজয়ী এমপিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন, তার সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক : এদিকে রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এ সময় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, গণপূর্ত মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, গণআজাদী লীগের সভাপতি আবদুস সামাদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম খানসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন। যারা দিন এনে দিন খায়, তারা কষ্ট পাচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি বিএনপির যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তাদের বলব, তারা কি নিজেদের ক্ষতিটাও দেখেন না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীকে বলব, নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন চুপচাপ থাকেন। আর কী করবেন? নির্বাচনই যখন আটকাতে পারেননি, তখন আর কিছুই করতে পারবেন না। ৪০ শতাংশ ভোট হয়েছে।
এখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি তা কেউ বলতে পারবে না। কারণ, অনেক উন্নত দেশেই এত ভোট পড়ে না। আমি চাইব বিরোধীদলীয় নেতার যেন হুশ ফিরে আসে। আলোচনার দরজা সব সময় খোলা, যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে যদি আলোচনায় আসে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।