আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আল্লাহ্‌ পাকের ক্ষমার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া উচিত না

(সামহোয়্যার ইন ব্লগে যারা এধরণের পোস্ট পছন্দ করেন না, তবুও পড়েন এবং আজে বাজে মন্তব্য করেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে তারা পড়বেন না) ধরা যাক, আপনি অফিসে দেরী করে গেলেন; আপনার বস আপনার উপর রাগ হল। আপনি স্বভাবতই চাইবেন না ঢোকার মুহূর্তে আপনার বস এর চোখে পড়তে। আপনি অস্বস্তিতে ভুগবেন। এর কারণ আপনি জানেন যে আপনি অন্যায় করেছেন বা যা করেছেন তা ঠিক করেননি ( অনিচ্ছাকৃত দেরীর জন্য)। এর মানে এই যে, আমরা যখন কোন কাজ সঠিক করি না, তখন যার সাথে ঐ কাজটি করি, তার চোখের দিকে আমরা তাকাতে অস্বস্তি বোধ করি।

কিন্তু আপনি কি পারবেন, আপনার বসের মুখোমুখি একদম না হতে। আজ হোক আর কাল, আপনার তার দিকে তাকাতেই হবে। এক্ষেত্রে আপনি হয় মনে মনে ভাববেন আর অফিসে দেরী করবেন না। বস খারাপ হোক আর ভাল হোক, নিজেকে শুধরাতে চাইবেন আপনি, তাকে সরি বলবেন। কারণ আপনি চাইবেন আপনার কোন দোষ না রাখতে।

বস আপনার উপর তারপরও কিন্তু খারাপ ধারণা পোষণ করে রাখতে পারে। কারণ বস একজন মানুষ এবং কম-বেশি ত্রুটি তার মধ্যে আছে। যখন আমরা কোন ভুল করি, তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ ( সুবহানাল্লাহ্‌ তাআলা) খুশি হননা। ঠিক এই সময়টাতে শয়তান আমাদেরকে বিভ্রান্ত করে। শয়তান আমাদের কুমন্ত্রনা দেয় এই বলে যে, অন্যায় তো করছই,আর যদি আল্লাহ্‌ অখুশি হয়ে থাকেন, তাহলে আর তার কাছে মাফ চেয়ে লাভ কি? তাহলে তো তোমার চরিত্র দুমুখী হয়ে গেল-ভুলও কর, আবার মাফও চাও, ( নাউযুবিল্লাহ্‌)।

এভাবেই সে বান্দাকে আল্লাহ্‌ ( সুবহানাল্লাহ্‌ তাআলা) থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার প্রয়াস পায়, এবং ভুল কাজের প্ররোচনা দেয়। অথচ আল্লাহ্‌ ( সুবহানাল্লাহ্‌ তাআলা) সব কিছুর মালিক আর সব ত্রুটিমুক্ত, তিনি সব জানেন। সামান্য চাকরি হারানোর ভয় এ আমরা সরি বলতে পারি, অথচ যে আমলের উপর আমাদের অনন্ত জীবন নির্ভর করছে ( পরকাল) তার জন্য আমরা কত গাফিল থাকি। আমরা ক্ষমা চাইনা, নিজেদের শুধরাই না। ক্ষমা চাওয়া আমাদের জীবনে উৎকর্ষতার পথকে প্রশস্ত করে।

আমরা মানুষ মাত্রই ভুল করি, ইচ্ছাতে কিংবা অনিচ্ছাতে। কিন্তু আমরা যদি তা অনুধাবন করি, তাহলে নিশ্চয়ই তা আবার করতে চাইব না। সুতরাং তার জন্য মাফ চাইতে হবে, মাফ চাওয়ার অর্থ হল, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি এবং এরকম আমি আর করব না। আমি যে আসলেই বুঝতে পেরেছি এবং আমার প্রতিজ্ঞা যে আসলে কতটুকু সত্য, তা একমাত্র আল্লাহ্‌ ( সুবহানাল্লাহ্‌ তাআলা) জানেন। সুতরাং এজন্য তাঁর কাছে মাফ চাইবনা তো কার কাছে চাইব।

যিনি সব জানেন, সেই পরম দয়ালুই একমাত্র আমাকে মাফ করতে পারেন। ভুল করলে মাফ চাওয়ার পথ কখনো বন্ধ হয় না আল্লাহ্‌র কাছে। পবিত্র কুরআন এ অনেক সুরাতে আল্লাহ্‌ পাকের ক্ষমার কথা উল্লেখ আছে। আরেকটা উদাহরণ এ আসা যাক। বাচ্চাদেরকে যখন কোন মা বকে ( ধরা যাক কোন শপিং মলে), দেখা যায় বাচ্চাটা কাঁদে, তারপর মাকেই জড়িয়ে ধরে।

সে কিন্তু অন্য কোন অচেনা লোকের কাছে যায় না। কারণ সে জানে বকুক আর যাই করুক, মা তো মাই। আর আমরা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি, তিনি আমাদের সবার থেকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন। সব কিছুর কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই, তিনিই শাস্তি দেবার মালিক, তিনিই ক্ষমা করার মালিক। আর তিনি তো ক্ষমা করতে ভালবাসেন।

সুতরাং সবসময় তাঁর কাছে আমাদের মাফ চাইতে হবে, কখনো নিরাশ হওয়া উচিৎ নয়। (based on the lecture of Islamic Scholar, Nouman Ali Khan) For the lecture, please click here ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.