আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এ কোন সভ্যতা????????????

এলার্ম ঘড়ির টুং টাং শব্দে ঘুম ভাঙ্গে অর্কর। বিকাল ৫টা। সারারাত ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে পার করার পর সকাল ৮টার দিকে ঘুমিয়েছে সে। লম্বা ঘুমের পর উঠে আড়মোড়া ভাঙ্গে সে। ক্ষিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

তাড়াতাড়ি উঠে কিচেনে দৌড়ায় অর্ক। কপাল ভাল। আজ শুক্রবার। তাই স্পেশাল মেন্যু। মোরগ পোলাও।

মেসের একঘেয়েমি খাওয়া-দাওয়ার শেষে সবাই অপেক্ষা করে থাকে এই শুক্রবারের জন্য। খাওয়া দাওয়া সেরে একটু বাইরে বের হয় অর্ক। হাটতে হাটতে পান্থপথের দিকে এগোয় সে। তারপর রাস্তার ধারে একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়ার জন্য। হালফ্যাশনের একটা গাড়ি এসে থামে।

গাড়ি থেকে বের হয়ে আসে এক দম্পতি। সাথে একটা ছোট্ট বাচ্চা। ভদ্রলোক হয়ত সারা সপ্তাহের ক্লান্তি কাটানোর জন্য বউ-বাচ্চা নিয়ে একটু বেরিয়েছে একটু হাওয়া খাওয়ার জন্য। দূর থেকে ছোট্ট একটা ছেলে দৌড়ে আসে তাদের কাছে। হাতে একটা ছোট্ট থালা।

তাতে কিছু চকলেট। ‘একটা চকলেট লন না, স্যার’ ছেলেটির বিনীত অনুরোধ। ঢাকা শহরে এটি একটি সাধারণ ঘটনা। সরাসরি ভিক্ষা না করে একটা চকলেট দিয়ে কিছু টাকা পাওয়ার আশা করে এরা। যদিও অনেকে এটিকে ভিক্ষার অভিনব কায়দা বলে মনে করেন।

ভদ্রলোক ধমকের সুরে বললেন, ‘লাগবে না’। তবুও ছেলেটি আশা ছাড়ে না। আবারও বলে, ‘একটা চকলেট লন না, স্যার’। ভদ্রলোক হঠাৎ করে এগিয়ে গিয়ে ছেলেটির গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। তারপর রাস্তার ধারের ঝালমুড়ি কেনার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেলেন।

ছেলেটি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল ভদ্রলোকের দিকে। তখনই ঘটল ঘটনাটা। হঠাৎ এক বিকট শব্দ। ঝালমুড়ি কেনায় ব্যস্ত ঐ দম্পতির আদরের দুলাল হাটি হাটি পা পা করে এগুচ্ছিল রাস্তার দিকে। দূর থেকে সজোরে আসা গাড়ি থেকে বাচ্চাটিকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির নিচে পড়ল সেই চকলেটওয়ালা ছেলেটি।

চারদিক থেকে লোকজন ছুটে আসল। অর্কও দৌড়ে গেল। রক্তে ভেজা অবস্থায় ছেলেটিকে নিয়ে কয়েকজন রওয়ানা হল হাসপাতালের দিকে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। ভ্যানে ওঠানোর পর-পরই একটা ঝাঁকি দিয়ে চোখ বুজল ছোট্ট ছেলেটি, যার কাছে নেই কোন তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিন্তু যার কাছে চড় খাওয়ার অপমানের চেয়ে জীবন বাঁচানোটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আর ঐ ভদ্রলোক? যখন সবাই দৌড়ে আসল ছেলেটির কাছে, তখন সে তার আদরের ছেলেটিকে নিয়ে নীরবে কেটে পড়লেন গাড়িতে চড়ে। হায়রে সভ্যতা...!!! হয়ত অসহায় ছেলেটির মা চেয়ে আছে তার ছেলেটির ফেরার অপেক্ষায়। সে ফিরবেও। কিন্তু প্রাণচাঞ্চল্যেরপরিবর্তে একটা নীথর মৃত দেহ হয়ে। অর্কর চোখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে গেছে অশ্রু।

প্রয়োজন না থাকায় তারপর অনেক দিন আর ওদিকে যাওয়া হয় না অর্কর। অনেকদিন পরে আবারো এক শুক্রবারের বিকালে অর্ক তার এক বন্ধুর সাথে যাচ্ছিল ঐ পথ দিয়ে। হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় অর্ক। একটা ছোট্ট ছেলে তাকে বলছে একটা চকলেট নেওয়ার জন্য। মানিব্যাগ খুলে ১০টা টাকা ছেলেটিকে দিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় অর্ক।

আবারও চোখ ভিজে গেছে অর্কর। কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয় না সে। কারণ সে যে-“সভ্য সমাজের সভ্য মানুষ...” -সৌরভ স্নিগ্ধ ১১৬, খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ হল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.