আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি প্রেম বিষয়ক পোস্ট ১৮+++ (প্রেমের বিবর্তনঃ ১৯৮০-২০১২)

মুখ বন্ধ - - - - - - - - - - - - - - - - ১৯৮০ সালঃ পরিচয় পর্বঃ সাধারনত প্রেমিক প্রেমিকার পরিচয় পর্ব সামনা সামনিই হত। এই যেমন কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে, কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে, লাইব্রেরির বই আদান প্রদানের মাধ্যমে। ক্যাম্পাসে হাটা হাটি করার সময় অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা খাওয়ার মাধ্যমে। এভাবেই সম্পন্ন হত প্রথম পরিচয় পর্ব। প্রেমের ডালপালা বৃদ্ধিঃ প্রথম দেখার পরই দুজন উদাস হয়ে যেত, প্রেমিক উদাস মনে বাগানের ধারে,(উল্লেখ্য তখন দেশে বাগানের ভালই আধিক্য ছিল) পুকুরের পাড়ে, গাছের নিচে, ছাদের উপরে বসে উদাস মনে বসে থাকত আর মনের মধ্যে বাজত, ওই নীল ধ্রুবতারা...............এই মার্কা গান।

তখন অনেক প্রেমিক সাহেব অনেক কবিতারও ডেলিভারি দিতে থাকতো। ব্যাক টু ব্যাক ডেলিভারি। আর এদিকে প্রেমিকাও উদাস হয়ে বসে থাকতো তার ঘরের জানালার পাশে। মাঝে মাঝে নিজের বাগানের ফুল না থাকলে পাশের বাড়ির বাগানের ফুল নিয়ে এসে একটা একটা করে পাপড়ি ছিঁড়ত আর তার ওই মনের পুরুষ কে চিন্তা করত। কল্পনার রঙিন জগতে হারিয়ে যেত।

মনের মধ্যে বাজত গান, তুমি শুধুই আমার..........এই ধরনের গান। চোখে ভাব আদান প্রদান চলতে থাকতো। এরপর হটাত প্রেমিক সাহেব সাহস করে এক খান চিঠি লিখে হাজির। তাও প্রেমিকার সামনে না, তার বান্ধবির কাছে। সাহায্য প্রার্থনা।

যাক এইভাবে প্রথমে বান্ধবী, তারপর প্রেমিকার ছোট ভাই বা বোন, এদের দ্বারা চিঠি আদান প্রদান চলতে থাকতো। মাঝখানে দু এক বার পার্কে বসে( নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে) বাদাম খাওয়া চলত। পরিনতিঃ হটাত একদিন ছোট ভাই ধরা খেল এক্কেবারে মায়ের হাতে, সাথে সাথে বাবার কাছে তলব। দু একটা থাপ্পড়( এই ধরনের ট্রিটমেন্ট ফামিলি বুঝে) এবং বাসায় তালাবদ্ধ। তারপর প্রেমিক বেচারার যায় যায় অবস্থা।

দাড়ি টারি রেখে পুরাই দেবদাস। না তখন পোলাপানের কাছে এত টেঁকা আসিল না যে মুজরা দেখতে যাইব। এক মাসের মধ্যে প্রেমিকার বিয়ে ঠিক। এবং বিয়ে। এইবার কাহিনী টা একটু রিওয়াইনড করি।

ধরা খাইল মায়ের হাতে, সাথে সাথে বাবার কাছে তলব, থাপ্পড় ও ঘরে তালাবদ্ধ। এই বার প্রেমিক এর গুষ্টি খুজা খুজি শুরু। প্রেমিকের বাবাকে তলব, শাসানো, ঝগড়া ঝাটি। অতঃপর মিল। প্রেমিক প্রেমিকার বিয়ে।

সন্তান ও সুখে শান্তিতে বসবাস। এই বার আসি, ২০১২ সালঃ পরিচয় পর্বঃ ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে নম্বর চুরির মাধ্যমে। প্রথমেই ফোন, "ওয়েটিং"................প্রেমিকের রিপ্লাই "ইশ শালা এইটারও ভাতার আছে" আধাঘণ্টা ওয়েটিং থাকার পর ফ্রি। আবার ফোন করার পর, কথপকথন। ছেলের কুল ডুড মার্কা কিছু কথা বার্তা, পটানো।

অতঃ পর ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এবং ফ্রেন্ড লিস্টে প্রবেশ। ডালপালা বৃদ্ধিঃ প্রেমিকের প্রথম কথা, এইটারে পটাইছি খাওনের লাইগা। কয়দিন ঘুরুম খামু দামু। কুপাকুপি করুম তারপর শ্যাস। এই শুরু ঘুরাঘুরি, রিকশায় করে ঢাকা ভার্সিটি, রমনা পার্ক, কেএফসি, পিজ্জা হাট,এবং এইচ টু ও লাউঞ্জ।

সর্ব শেষ কোন হোটেলর রুম। রুমের বাইরে থকে উচ্চস্বরে শিৎকারের শব্দ, তারপর শেষ। পরিনতিঃ ওই যৌবন জ্বালা মিটানোর পর দুজন দুজনার কারও প্রতিই কারও তেমন আগ্রহ থাকেনা। তারপর আবার নতুন স্বাদ পাওয়ার জন্য নতুন কারু আশায় মাঠে নামে সারাংশঃ ১৯৮০ সালঃ চোখাচোখি থেকে শুরু। বিয়ের মাধ্যমে অথবা দেবদাস গিরির মাধ্যমে শেষ।

২০১২ সালঃ ফোনে কথা বলা দিয়ে শুরু, আর হোটেলের বিছানায় বীর্য স্থলনের মাধ্যমে শেষ। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.