আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অনুগল্প পরিচয়

স্বপ্নে আছি...স্বপ্নে বাঁচি...স্বপ্নের সাথে মোর বসবাস উফ আজও দেরি হয়ে গেছে। ফয়সাল ভাই তো পানি দিয়ে কোঁত করে গিলে ফেলবে আজ। আরে বেটা রাতে জেগে থাকা আর সকালের ঘুম যে কি জিনিস তুই কি বুঝবি। ঘুমাস তো সন্ধ্যা সাতটায় ঘোঁত ঘোঁত করে। বাংলাদেশ এর সব অফিস দুপুর ১২ টায় করা উচিত।

আর যেদিন দেরি হয় সে দিন বাস দেরি করবেই। সিএনজি তো তখন আসমানের চাঁদ। অন্তু মনে মনে গজ গজ করতে করতে ধানমন্ডি ৩২ এর মোড়ে বাস এর জন্য দাড়ায়। সকাল হতে না হতেই কোপত – কপোতী গণ ৩২ এর ফুটপাথ থেকে লেক পর্যন্ত প্রেমের ডালা খুলে বসেছে। অন্তু মনে মনে বলল এদের থাবড়ানো দরকার, উঠতে বস্তে থাবড়ার উপর রাখা উচিত।

হঠাত চোখ আটকে গেল রাস্তার ওপাশে। হায় হায় সে কি ভুল দেখছে? বিড়াল চোখের এই মেয়টাইতো ছিল সেদিন। এও কি ডালা সাজাতে আসছে নাকি? নাহ দেশের সব মেয়ে গেছে। কদিন আগে ২৭ নম্বর এর কাছে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাড়িয়ে ছিল অন্তু। সাথে আরও অনেকে ছিল।

চট করে সবাই পার হয়ে গেল শুধু এই মেয়টা ছাড়া। বেচারির অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে অন্তুর খুব মায়া হয়েছিল। কি মনে করে সে আবার ফিরে গিয়েছিল মেয়টির পাশে। কোন কথা না বলে এবার আস্তে আস্তে রাস্তা পার হোল, মেয়েটিও তাকে অনুসরন করেছিল। ও পর্যন্তই, তারপর যে যার গন্তব্যে।

আবার দেখা হবে কে জানত? সেদিন সন্ধ্যা ছিল বলে ভাল করে খেয়াল করা হয়নি। আজ প্রায় পাঁচ ফিট পাঁচ উচ্চতার মেয়টিকে দেখে ফয়সাল ভাই এর চোখ রাগানি কোথায় যে উড়ে গেল। গোলগাল মুখ,শ্যামলা বরণ মিষ্টি চেহারা। চুলের কাটটাও সুন্দর। এই কাটাই বুঝি সেদিন দেখেছিল ফারিয়ার প্রোফাইল পিকচারে, ঊর্মি কমেন্ট করেছিল কি যেন ব্যাং না বিচ্ছু কাট।

এতক্ষণে মেয়টা দেখল অন্তু তার দিকে তাকিয়ে। তার ঠোটের কোনায় যেন হাসি দেখাগেল। নাকি চোখের ভুল? নাহ মেয়েটা আজিমপুর এর দিকে যাবে মনে হচ্ছে। আজিমপুর এর বাস এর টিকেট কাউন্তারে দারিয়ে। কি করা যায় ,কি করা যায়।

অন্তু তো যাবে আসাদগেট। মেয়েটা এখনো তার দিকে তাকিয়ে। আসাদগেটের বাস চলে আসলো। ধুর গোল্লায় যাক বাস আর চুলোয় যাক ফয়সাল । অন্তু না যেয়ে দাড়িয়েই রইল।

কি করবে সিধান্ত নিতে পারছে না। হায় হায় বিপরীত থেকে মেয়টারও বাস চলে আসছে। মেয়টাতো যাবে চলে। চট করে ওপাশে যাওয়াও সম্ভব না। রাস্তা জুড়ে গাড়ির স্রোত।

বাসটা এসে মেয়টাকে আড়াল করে দিল। চলেও গেল। হায় কপাল আর কি দেখা হবে। কেন যেন ভাল লেগে গেছে অপরিচিত মেয়টাকে। কিন্তু একি সবাই চলে গেছে শুধু মেয়টা এখনো তার দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছে।

অন্তু আর রিয়ার পরিচয়ের এই গল্পটা অন্তু আজ তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী তে অনেক মজা করে সবাইকে শোনাচ্ছিল,আর রিয়ার চোখে মুখে আনন্দের আভা। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।