আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুক্তির আশায়

রংপুর মুক্তির আশায়, ইনসাফের আশায় নতুন পরিচয় নেয় মজলুম ৯৫। জালিম ৫ মুক্তির আশা দিয়া, ইনসাফের আশা দিয়া ব্যবসা করে। জুলুম থাইকা রেহাই পাইতে ইন্সাফের আশায় মুসল্মান হইছে এই ‘৯৫’, তাও কয়শ বছর হইল। তারও আগের বৈদিক জুলুম থাইকা রেহাই পাইতে , ইন্সাফের আশায় ৯৫ বৌদ্ধ হইছে, নাথ হইছে, সহজিয়া হইছে, বৈষ্ণব হইছে, বাউল হইছে, জৈন হইছে, নমশূদ্র হইছে, অনেক কিছু হইছে। ৭১ এ ধর্ম-ব্যবসায়ী এলিট জালিমরা ৯৫ কে আবার মুসল্মানি করাইতে চাইছিল।

পারে নাই। ৯৫ তখনও মুসল্মান ছিল, সনাতন এবং অন্যান্য ‘ধর্মাবলম্বী’ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ কইরা ‘নাস্তিক- কাফির-মুরতাদ’ হয়া যায় নাই। ‘সেকুলার'রা আছে আলগা জাতিয়তাবাদ নিয়া । জাতীয় চেতনার খবর নাই তাদের ।

তারা জন-চেতনার ধারের কাছে নাই। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে যেন গরিবের অর্থনৈতিক - সামাজিক ইনসাফের দাবি ছিল না। যেন খালি এলিটের সুবিধাবাদি জাতিয়তাবাদ ছিল । এইটা দিয়াই যেন মুক্তিযুদ্ধ হইছে। ধর্মব্যবসায়ী এবং আলগা জাতিয়তাবাদিরা তাই গরীবরে পাঠাইছে মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং -এ ।

আর নিজের পোলাপানগো পাঠাইছে দেশ-বিদেশের ইংরেজি স্কুলে । মাঝখানে আছে নীতিবাগিশ, নীতি খবিশ আর নীতিপরায়ন বাংলিশ মধ্যবিত্ত। তাদের সিংহ ভাগ জাতিক-বহুজাতিক দেশপ্রেম বনিকদের চাকুরিতে নিয়োজিত । এই-ই চলতেছে ৭২ থাইকা। ১৩ তে সেই ধর্ম ব্যবসায়ী এলিটরাই মুসলমান ৯৫ রে আবার মুসল্মান বানাইতে চায়।

গরিব মুসল্মান মাদ্রাসা ছাত্রদের রিজার্ভ ঘৃণার বেসাতি কইরা ক্ষমতার ভাগ নিতে চায়। গরীব মাদ্রাসা ছাত্রদের,তাদের অভিভাবকদের তথা দেশের গরীব মানুষের অর্থনৈতিক -সামাজিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির দাবি কিংবা কর্মসূচি তাদের কারো নাই। গরীবের ‘অসহায়ত্ব’কে পুঁজি কইরা এলিট/অভিজাতের স্বার্থের রাজনীতি নিয়ে মাঠে আবার হাজির ধর্মব্যবসায়ী জালিমরা । আর আলগা জাতিয়তাবাদি এবং 'সেকুলার'রা আছে গরীব এবং বড়লোক ‘অসহায় প্রগতিশীল’দের সঙ্গে পাবার সুবিধার আশায় । এবং তা তারা পাবে ।

চলতেছে লুটের মেশিন দখল রাখার রাজনীতি, পাবলিক ভাবতেছি দারুন এক ‘ধর্ম’ এবং ‘জাতিয়তাবাদি’ যুদ্ধ চলতেছে। আশরাফ ‘ইস্লামিস্ট’ এর সাথে আশরাফ ‘সেকুলারের’ ‘যুদ্ধে’ সাইড নিয়া আত্রাফ তার মুক্তির আশা করতেছে। ঘোরে – বেঘোরে জান খালি যাইতেছে। এই খবর বিশ্বপ্রেমিক কোন ফোন কোম্পানির দেশপ্রেমিক গ্রাহক দৈনিক বাংলার কন্ঠে পাঠাইতেছে না। পাঠাইলেও কাজ হবে না।

আর পরাশক্তিগণ আছেন কাজ হাসিলের মওকায়। কোনও পরিচয় চিরকালীন নয়। জুলুমবাজ ৫ এর কোন পরিচয়েই মজলুমের মুক্তি নাই। কারো ক্ষেত্রেই, কোন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই ছিলনা। অপর জাতি/গোষ্ঠী/পরিচয়ের মানুষকে বন্দী রেখে নিজে মুক্ত হওয়া যায় না।

‘মজলুম’-এই আত্মপরিচয়, তার সর্বজন ঐক্য-সংগ্রামই মজলুমের মুক্তির, ইনসাফের উপায়। জান দিতে দিতেই ৯৫ এইটা জানবে। বেদনার ইতিহাস তাই বলে। বেদনা মানে জ্ঞাত হওয়া, জানা। পরাজয়ের স্মৃতি ভুলে না যাওয়া ।

ইতিহাস জ্ঞান থাকা। এটা থাকলে মজলুম নিজেই ইনসাফ এবং মুক্তির লড়াইয়ের কর্তা হয়ে উঠতে পারে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।