আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজনীতির নতুন রূপরেখা

চির উন্নত মম শির সহস্রাব্দের শুরুতে বেশ আরম্বরতার মাধ্যমে সহস্রাব্দকে বরণ করেছিল গোটা বিশ্ব। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গোটা বিশ্বের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বব্যাপী শান্তি স্থাপন, দারিদ্র্য বিমোচন, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপি মরণব্যাধিসমূহের বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন, এবং সর্বপরি অনগ্রসর বিশ্বকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য প্রভৃতি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। তারপরও সহস্রাব্দের শুরুর প্রথম যুগজুড়ে আমরা দেখেছি যুদ্ধ, হানাহানি, আক্রমণ, বিশ্ব শান্তি স্থাপনের নামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, অর্থনৈতিক পর্যুদস্ততা। পুরো বিশ্বের সমান্তরালে আমাদের দেশেও হয়েছে ওয়ান ইলেভেনের মতো সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দুর্নীতি, বিডিআর বিদ্রোহ, হরতাল, নিরীহ মানুষের জীবনহানি-প্রাণনাশসহ অর্থনৈতিক পর্যুদস্ততা। পাশাপাশি সময়ে সময়ে খড়া, বন্যা, সিডর বা আইলার মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

তারপরও আমরা বাঙালিরা সবসময়ের মতো সময়ে সময়ে আমাদের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পেরেছি। আমরা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কথা বলছি। আমরা সেইসব মানুষের সাহসীকতা, অদম্য আগ্রহের কথা বলছি। আমরা জানি আপনারা স্বপ্ন দেখেন সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। আমরা জানি আপনারা স্বপ্ন দেখেন ভালোভাবে খেয়ে-পড়ে সহজ-সরল জীবন যাপনের।

আমরা জানি আপনারা নিশ্চয়তা চান সৎভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ উপার্জনের। আমরা জানি আপনারা আপনাদের সন্তানদের নির্বিঘ্ন পড়ালেখার নিশ্চয়তা চান। আমরা জানি আপনারা চান আপনাদের সন্তানদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, একটি ভালো কর্সংস্থান। আমরা জানি আপনারা চান নির্বিঘ্ন, বিপদমুক্ত নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা আর স্বাধীনভাবে, সাহসীকতার সাথে অবাধ চলাচল। এমন একটা সমাজের স্বপ্ন যেখানে মেয়ে সন্তান এবং নারীরা থাকবে নিরাপদ, থাকবেনা খুন, রাহজানি, ধর্ষণের মতো ঘটনা; বন্ধ হবে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-চাঁদাবাজির মতো ঘৃণ্য ঘটনা।

এমন একটা দেশ যেখানে রাজনীতির বলি হিসেবে জীবন দিতে হবেনা পিতা, মাতা, ভাই, বোন কিংবা সন্তানদের। আপনাদের বলছি। আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা তৈরি হচ্ছি আপনাদের জন্য। আমরা সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখা দেব আপনাদের।

আমরা আমাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা আপনাদের জানাবো। ২০১৭ সালে আমরা আপনাদের জন্য রাজনীতি করবার জন্য সারম্বরে আত্মপ্রকাশ করবো। একটা দেশ কখনো এভাবে চলতে পারেনা। কোনো দেশে বর্তমান সময়ের মতো রাজনৈতিক হানাহানি চলতে পারেনা। একের পর এক, দিনের পর দিন হরতাল, অবরোধের নামে জননিরাপত্তাকে ব্যহত করা যেতে পারেনা।

জনচলাচলকে এভাবে বন্ধ করা যেতে পারেনা। দেশের অর্থনীতির চাকাকে এভাবে বন্ধ করে দেবার মতো ঘটনা চলতে থাকতে পারেনা। হরতালের কারণে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হতে পারেনা, শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া ব্যহত হতে পারেনা। শ্রমিক মজুরের অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হতে পারেনা। নিম্ন উপার্জনকারী মানুষ-জনের উপার্জন বন্ধ হতে পারেনা।

পায়ে হেঁটে, বাসে ঝুলে পথচারী চলাচল করতে পারেনা। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সম্পদের অপচয় বা জননিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে দেয়া যেতে পারেনা। ককটেল, বোমাবাজি, পিকেটিং, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার নামে পুলিশ, আনসার, বিজিবি বা জনসাধারণের আহত বা নিহত হবার মতো ঘটনা ঘটতে দেয়া যেতে পারেনা। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের নামে এধরনের অনৈতিক কার্যক্রম কখনোই দাবি আদায়ের হাতিয়ার হতে পারেনা। দাবি আদায়ের জন্য আরো নানা ধরনের শান্তিপূর্ কর্মসূচী পালন করা যেতে পারে।

দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে আমদানি-রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিদেশি বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যেতে পারেনা। সর্বপরি ধ্বংসযজ্ঞ সাধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত করা যেতে পারেনা। দেশকে নিয়ে ভাবেন এবং ভালোভাবে জীবন-যাপন করতে চান এমন প্রতিটি মানুষ নিশ্চয় উপলব্ধি করবেন এধরনের কর্মসূচী কেবলমাত্র অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবার জন্যেই নেয়া হয়ে থাকে। যারা এধরনের কর্মসূচী গ্রহণ করেন তারা দেশকে নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে কতোটা ভাবেন আর ক্ষমতায় যাবার জন্য কতোটা আগ্রহান্বিত সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। আর ক্ষমতায় যাবার উদ্দেশ্য কী থাকে সেটা আপনারা ভালোভাবেই জানেন।

নেতিবাচক কথা বলবার আগ্রহ আমাদের নেই। তারপরও বলতে দ্বিধা নেই এখন পর্যন্ত ক্ষমতাশালী কোনো দলই সুশাসন, স্বনির্ভর অর্থনীতি আমাদের উপহার দিতে পারেনি। রাষ্ট্র যন্ত্রের শিরা উপশিরায় তারা দুর্নীতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সরকার বা জাতীয় সরকার সব পর্যায়ের ভোটাভুটির রাজনীতির সাথে মিশে রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে ক্ষমতায় যাওয়া এবং এরপর বিশাল জ্ঞাত অজ্ঞাত দুর্নীতির ঝুলি খুলে বসা। আপনাদের বেশিরভাগের অভিজ্ঞতাতেই আছে ঘুষ বা সুপরিশের মতো বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার।

আপনাদের অনেকেই শিকার হয়েছেন অন্যায় জবরদস্তির। প্রশাসনিক যেকোনো কাজ করতে যেয়ে হেনস্থার শিকার হননি এটা বুকে হাত দিয়ে অন্তত বলতে পারবেননা ব্যাতিক্রমী কয়েকজন ছাড়া, হলফ করে বলতে পারি। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনাদের অভিজ্ঞতা কেমন? কলুসিত ছাত্র রাজনীতি, অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত করতে পেরেছেন আপনার দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে? ছাত্র রাজনীতিতে এধরনের অনৈতিকতা, অন্যায় ক্ষমতার চর্চা কারা করছে? আপনার বা আমাদেরই কারো কারো সন্তান। আবার এদের বেশির ভাগই পেছনের কাতারের ছাত্র। আমরা নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা শিরোনামে আপনাদের সামনে আমাদেরকে উপস্থাপন করেছি।

আমরা আপনাদেরকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারা, সুস্থ রাজনৈতিক দল উপহারের অঙ্গীকার করছি। তার আগে অনুরোধ করবো প্রত্যেককে তাদের সন্তান, সন্তানতুল্য প্রতিবেশী শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক প্রত্যেককে নৈতিকতার শিক্ষা প্রদানের। আপনারা আপনাদের সন্তানদের সৎশিক্ষা দিন, পড়ালেখা করতে উৎসাহিত করুন, সন্তানদের সময় দিন, তাদের কথা শুনুন, তাদেরকে বুঝুন এবং নিজেকে সৎ দায়িত্বশীল নাগরিকে পরিণত করুন। আমরা সেইসব আপনাদের সমর্থন চাই। আমরা সেইসব আপনাদের নের্তৃত্ব দেব।

আমরা আপনাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবো। আমরা হরতালসহ যেকোনো অস্থিাতশীলতাকে বন্ধ করবো। আমরা সৎ এবং উচ্চশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা আপনাদের জন্য তৈরি করবো। আমরা দেশের শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাবো। আমরা দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবো।

আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে আইন মান্য করতে উৎসাহিত করবো। আপনি, আমি যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি, আইন মান্য করি- অনেক সহজ হবে সব অনিয়ম বন্ধ করা। আইন মান্য করবার এবং আইনের প্রয়োগ করবার জন্য আমরা বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজাবো, এসব বিভাগের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করবার মাধ্যমে বৈধ পথে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করবো। বন্ধ হবে কালো টাকার লেনদেন, বন্ধ হবে ঘুষ-দুর্নীতি।

আমাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা: প্রথমত, আপনাদের জন্য আমাদের রাজনৈতিক মেনিফেস্টো ঘোষণা; দ্বিতীয়ত, পাঁচ বছর মেয়াদী এবং গণতান্ত্রিকভাবে দলীয় প্রধানসহ অন্যান্য নেতা নির্বাচন; তৃতীয়ত, নেতা নির্বাচনে সততা এবং উচ্চশিক্ষাকে মূল্যায়ণ, পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, মজুর ও অন্যন্য পেশাজীবির মধ্য থেকে সৎ, অভিজ্ঞ, বর্ষিয়ান ব্যাক্তিদের থেকে নেতা নির্বাচন। চতুর্থত, তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব তৈরি এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত গবেষক, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতদের নিয়ে উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন। পঞ্চমত, মাঠে থেকে আপনাদের সাথে কাজ করা, আপনাদের কথা শোনা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং গ্রহণ; ষষ্ঠত, সমসাময়িক অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এ কোনো ভুল থাকলে সমান্তরাল যুগোপযোগী কর্মসূচী এবং দিকনির্দেশনা প্রদান; সপ্তমত, প্রতিষ্ঠার তৃতীয় বছরে সমসাময়িক সরকারের সমান্তরালে একটি ছায়া সরকার গঠন, সরকারের ভুল কোনো সিদ্ধান্তের সমান্তরালে বা অগ্রহণযোগ্য বাজেটের সমান্তরালে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত এবং বাজেট প্রকাশ; অষ্টমত, প্রতিষ্ঠার পঞ্চম বছরের পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ; নবমত, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কর্মসূচী ঘোষণা ও বাস্তবায়ন; দশমত, সরকার গঠন করলে দেশের শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, প্রসাশন ও বিচার ভিভাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্র যন্ত্রকে ঢেলে সাজানো। আপনারা আমাদের সমর্থন দিন, সহযোগিতা করুন, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিন। আমরা আপনাদের সফল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেব।

বিজয় সুনিশ্চিত। জয় বাংলা। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.