আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নটরডেম কলেজ স্মৃতিকথন-২

হৃদয়ের কথা কহিয়া কহিয়া গাহিয়া গাহিয়া গান.... কলেজ জীবনের শুরুর দিনগুলিতে বেশ কিছু জিনিস বেশ ভাবাতো। ছুটির পড়ে দেখতাম আন্টিরা আসছে বাচ্চাদের নিতে। একজন কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে কলেজে নিতে আসাটা কতটুকু যৌক্তিক তা আমি তখনো বুঝিনি আজো বুঝিনা। মেয়েদের কলেজ হলে একটা কথা ছিলো। হয়তবা ছোট্ট বেলা থেকেই স্কুলে দিয়ে আসা ও নিয়ে আসাটা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে, এভাবে বোঝার চেষ্টা করতাম।

কিন্তু কলেজে উঠেও যে ছেলেটি একা একা চলাফেরা শুরু করতে পারেনি সে ভবিষ্যতে কতদূর পর্যন্ত এবং কি কি একা একা করতে পারবে তাহা নিয়া ভাবিয়া আমি মাঝে মাঝে চিন্তিত হইয়া পড়িতাম। কলেজের দক্ষিন দিকের সীমানা প্রাচীর ঘিরে কিছু উদ্বাস্তু পরিবার বসবাস করিত। তাহাদের বিবর্ণ জীবনদৃশ্য আমাকে বেশ পীড়া দিত। উস্কো-শুষ্ক চুলে বাচ্চাদের রাস্তার যানবাহন হতে বিরত রাখার ব্যর্থচেষ্টারত গৃহহীন গৃহবধূদের দেখে কষ্টই লাগতো। মনে হত কি আশায় বাধিয়াছে খেলাঘর, রাস্তার বালুচরে? অন্যদিকে, সোয়া দশটার দিকে টিফিনের ঘন্টা পরার সাথে সাথে ঢাকাইয়া স্টাইলে শার্ট ইন করা বড়লোকের পুত্রগণ সবেগে ছুটিয়া গিয়া ক্যান্টিনের কাউন্টারে বিশাল লাইন দিয়া পরিত এবং বার্গার ও বিভিন্ন টাইপের বিদেশী খাবার গোগ্রাসে গিলিত।

এমন পরিবেশে খাপ খাওয়াইতে না পারিয়া টিফিনের শেষের দিকে, জায়গা খালি হইলে সিঙ্গারার সাথে অধিক পরিমানে সস (বিখ্যাত ও সুস্বাদু ) খাইয়া ক্লাশে ফিরিতাম। ক্লাশের বাইরে ধনী-গরিবের এই ভেদাভেদ থাকিলেও ক্লাশের ভিতরে একদম অন্য চিত্র। সেখানে কোনো ভেদাভেদ নাই। নাম ডাকার কোনো বালাই নাই। অনুপস্থিত থাকিলে মাফ নাই।

আর ধনী-গরীব সবার জন্য নির্বিশেষে আছে কুইজ আর প্রাকটিক্যালের বাঁশ। আগের লেখাটির কমেন্টে দেখলাম অনেকে কলেজের প্রাক্টিকাল নিয়ে বেশ মানসিক যন্ত্রনার শিকার। আমিও তাদের একজন। এসএসসিতে কোনো পরিশ্রম ছাড়া ৪ সাবজেক্ট এ ১০০ মার্ক পাওয়া আমার জন্যও প্রথমদিকে সেটা ছিলো এক বিরাট ধাক্কা। পদার্থবিজ্ঞান ল্যাবের সেই সুন্দর, বাধানো ব্যবহারিক বই, বিশাল যন্ত্রপাতির ভান্ডার আর ফিলিপের সেই ড্যাম-কেয়ার ভাব আমাকে বেশ ভাবাত।

তাইতো ল্যাব থাকলেইছেলেদেরকে দেখতাম ক্লাশে ঢোকার আগ পর্যন্ত ডান[আশের মার্জিন ঠিক করছে না হয়তো মন্তব্য লিখছে । মন্তব্যতে কি লিখছে সেটা নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাইনা। ল্যাবে ভালো করার জন্য হিউম্যান রিলেশন ভালো করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই এটা সেই সময়ই খুব ভালো ভাবে বুঝেছিলাম। তাইতো হুইটস্টোন ব্রিজের কতসেন্টিমিটারে গ্যালভানোমিটারটা সর্বোচ্চ রিডিং দিবে বা পাইপের মুখথেকে কত মিটার উপরে অনুনাদ বিন্দু পাওয়া যাবে সব অন্য মেসের পোলাপানের কাছথেকে বিপদকালীন ডেটা হিসাবে সাথে রাখতাম । যাতে শেষবিকেলে সবার শেষে ঝাড়ি খেয়ে ল্যাব থেকে বের হতে না হয়।

(চলবে) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.