আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সব জঙ্গি একজোট

যে কোনো উপায়ে রাজধানীসহ সারাদেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে একাট্টা হচ্ছে সব জঙ্গি সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একাধিক জঙ্গি সংগঠন একত্রিত হয়ে তাদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে জঙ্গিরা অগণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে। এমনকি জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার 'মগজ ধোলাই' করে তাদের দলে ভিড়িয়েছে। আগামী রোববার বিএনপির গণমিছিল ঘিরে জঙ্গি সংগঠন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জঙ্গি সংগঠনের নতুন পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর সতর্ক অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যে কোনো উপায়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুলিশ-র‌্যাব সদস্যরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তিনটি পয়েন্টে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা নিজেদের লোককে হত্যা করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায় চাপানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তিনটি পয়েন্ট হলো_ কাঁচপুর ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী মোড়, আমিনবাজার থেকে শ্যামলী ও টঙ্গী থেকে উত্তরা পর্যন্ত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার এম সোহায়েল সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। রাজপথে আইনবহির্ভূর্ত যে কোনো তৎপরতা প্রতিহত করা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মুখপাত্র ডিসি (ডিবি) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। যে কোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। জঙ্গিরা কৌশল বদল করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সমকালকে জানান, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও হিযবুত তাহ্রীরের অনেক নেতা উচ্চশিক্ষিত। অপরদিকে আইটিতে বিশেষ পারদর্শী হিযবুত তাহ্রীর নেতাকর্মীরা। এছাড়া জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) রয়েছে মাঠ পর্যায়ে জঙ্গি হামলা চালানোর বিস্তর অভিজ্ঞতা। তবে মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের হামলার অভিজ্ঞতা নেই হিযবুতের। একেক সংগঠন একেকটি বিষয়ে পারদর্শী হওয়ায় এবার সম্মিলিতভাবে শক্তি বাড়াতে একাট্টা হয়েছে তিন জঙ্গি সংগঠন।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা এদের ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। সূত্র জানায়, দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, হরকাতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহ্রীর সদস্যরা মিলে নতুন মোর্চা তৈরি করছে। গোপনে করছে সাংগঠনিক বৈঠক। কারাগার থেকে জঙ্গি নেতাদের নির্দেশ আসছে।

সেই নির্দেশ অনুযায়ী চলছে জঙ্গি কার্যক্রম। নিজেদের পরিচয় গোপন করতে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের কর্মীরা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিলে কাজ করছে। গত বছরের আগস্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ওরফে বর্দ্দা তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার হন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় ইয়াহিয়া জানিয়েছিলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে জঙ্গিরা নাম-পরিচয় গোপন করে দল পরিবর্তন করছে।

একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, হুজি ও হিযবুত তাহ্রীরকে যারা বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত। হিযবুত নেতাকর্মীদের রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করার অভিজ্ঞতা আছে। অপরদিকে হরকাতুল জিহাদ এ দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও রমনার বটমূলে বোমা হামলার মতো বড় নাশকতার সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও এ সংগঠনের অধিকাংশ সদস্য আফগানফেরত দুর্ধর্ষ জঙ্গি। তাই হিযবুত নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রতিশোধ নিতে তারাও বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি নিতে থাকে।

এরই অংশ হিসেবে সংগঠনটি হুজি জঙ্গিদের দলে ভেড়াতে শুরু করে। জানা গেছে, রাজধানীতে কয়েকটি মার্কেটে জঙ্গিদের যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। হুজির নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনের রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি পাঞ্জাবির দোকান রয়েছে। জেএমবির বেশিরভাগ সদস্য অল্পশিক্ষিত ও দরিদ্র। সূত্র জানায়, দেশে হুজির ৩০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

অধিকাংশ সদস্যই বেনামে কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সম্প্রতি হুজির জঙ্গিরা নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে যোগ দিয়ে সরকারবিরোধী পোস্টার ও লিফলেট বিলি করে। সেখানে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। জানা গেছে, গত দুই বছরে হিযবুত তাহ্রীরের ২৭০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে ৫০ জন ইতিমধ্যে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছে।

জামিনে বের হয়ে আবার গোপন তৎপরতায় যুক্ত হচ্ছে, এমন তথ্য-প্রমাণও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে। সূত্র জানায়, মাহমুদুল বারী নামে এক ব্যক্তি হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্প্রতি কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার যোগসূত্র গড়ে দেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় গত বছরের ১৭ জুলাই বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন বারী। ৩১ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জামিন নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি তিনি কারাগার থেকে বের হন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মাহমুদুল বারী জানান, তার মধ্যস্থতায় গত বছরের এপ্রিল অথবা মে মাসে গুলশানের থাই হাউস রেসুদ্বরেন্টে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে হিযবুত তাহ্রীর নেতাদের বৈঠক হয় Click This Link ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.