আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিএনপি জোটের রোডমার্চের খরচ ৬৫ কোটি টাকা

আমি নতুন কিছু লিখবো তত্ত্বাব-ধায়ক সরকার পুনর্বহালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের সাম্প্রতিক রোডমার্চ কর্মসূচি পালন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। ১০ অক্টোবর (২০১১) থেকে গত ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে রাজধানী ঢাকা থেকে চার দিকে চারটি রুটে এই কর্মসূচির মধ্যে চট্টগ্রাম অভিমুখী রোডমার্চের খরচ সবচেয়ে বেশি- প্রায় ২০ কোটি টাকা। Click This Link প্রতি রুটে ঢাকায় শুরু হওয়ার পর পথে পথে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে যোগ হয়ে শেষ গন্তব্যে মহাসমাবেশে পৌঁছানো মোট গাড়ির সংখ্যা, রান্তার দৈর্ঘ্য অনুযায়ী তেল খরচ, গাড়ির আরোহী খাওয়া ও ক্ষেত্রবিশেষে রাত্রিযাপনের ব্যয়, যোগাযোগসহ পূর্বপ্রস্তুতি, মহাসমাবেশের শহরে মঞ্চ-তোরণ-মাইক-ফেস্টুন-প¬্যাকার্ড-বিলবোর্ড-প্রচার, ওই শহরের আশেআশের লোকজমায়েত প্রভৃতি সব মিলিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে। প্রধানত বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহাসমাবেশের শহরের প্রধান সংগঠক পর্যায়ের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। গাড়ি, হোটেল ও অন্যান্য সেবাপ্রদানকারীদের কাছ থেকে সাধারণভাবে তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের যে সাধারণ গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতা আমাদের দেশে রয়েছে সে বিষয়টি তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিবেদককে মোকাবেলা করতে হয়েছে। অর্থদাতারা আরও বেশি অস্বচ্ছতা অবলম্বন করেন। তবে একাধিকবার ক্ষমতায় যাওয়া দল হিসেবে বিএনপি ও একদফা ক্ষমতার সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অর্থ সংগ্রহ সহজ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর দেশের বাণিজ্যিক ও বিদেশী অজ্ঞাত উৎসের অর্থ সম্পর্কে জনশ্র“তি প্রবল। চার রুট : গত বছর ১০-১১ অক্টোবর ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-সিলেট, ১৮-১৯ অক্টোবর ঢাকা-গাজীপুর-টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া-নঁওগা- রাজশাহী-চাপাইনবাবগঞ্জ, ২৬-২৭ নভেম্বর ঢাকা-গাজীপুর-পাবনা- কুষ্টিয়া-যশোর-বাগেরহাট-খুলনা এবং চলতি বছরের ৮-৯ জানুয়ারি ঢাকা-কুমিল¬া-ফেনী-চট্টগ্রাম এই চারটি পথে রোডমার্চ হয়।

সবগুলোতে মহাসমাবেশে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। বহরে বেশি ছিল ৮ ও ১২ আসনের মাইক্রোবাস। মূলত রেণ্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া করা। বেশিরভাগ নেতাও ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার নেন নি। এই বিরাট কর্মসূচির ব্যয় সম্পর্কে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহাজাহান বলেন, যেখানে যেমন লোকসমাগম সেখানে তেমন ব্যয় হয়।

জানতে চাইলে ঢাকা-সিলেট রোডমার্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান বিএনপির সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সিলেটের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ৩ হাজার ৩০০ গাড়ির বহর নিয়ে রোডমার্চের যাত্রা শুরু হয়। পথে পথে আরও গাড়ি যোগ হয়। বাড়তি যোগ হওয়ার হিসাব তার কাছে নেই। তিনি জানান, কেন্দ্র থেকে শুধুমাত্র পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং ও মঞ্চ বানানোর খরচ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রচার ও লোক জমায়েতসহ বাকি বিভিন্ন খরচের টাকা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বহন করেছেন ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ৪ হাজার গাড়ির বহর নিয়ে রোডমার্চের যাত্রা শুরু হয়, পথে পথে আরও ২ হাজার গাড়ি অংশ নেয়। বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, রোডমার্চে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রামে। এর পরেই অবস্থান ঢাকা-সিলেট এবং তৃতীয় অবস্থানে ঢাকা-যশোর-খুলনার রোর্ডমার্চে। সবচেয়ে কম খরচ হয়েছে ঢাকা-বগুড়া-চাপাইনবাবগঞ্জ রোডমার্চে। কোন্ রুটে কত : বিএনপি নেতাদের মতে, ঢাকা-সিলেট রোডমার্চে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হাজার গাড়ি অংশ গ্রহণ করেছে।

এ বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। স্থানীয়ভাবে ব্যয় করা হয়েছে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা। ঢাকা-বগুড়া-চাপাইনবাবগঞ্জ রোডমার্চে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গাড়ি অংশ নেয়। এ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় নেতাদের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকা।

ঢাকা-যশোর-খুলনায় অনুষ্ঠিত রোডমার্চ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ হাজার গাড়ি অংশগ্রহণ করে। খরচ ১২ কোটি টাকা । স্থানীয়ভাবে ব্যয় হয়েছে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চে ৬ হাজার গাড়ি অংশ গ্রহণ করেছে। এ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

স্থানীয় খরচ হয়েছে ৫ কোটি টাকার অধিক। ঢাকা থেকে যাত্রা করার পর এই রুটে পথে পথে অন্যান্য রুটের তুলনায় বেশি গাড়ি যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে দর্শনীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি ও ব্যক্তি হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সমর্থকরা প্রচুর ব্যয় করেছেন। এদের নামাঙ্কিত ব্যানার দর্শনীয় ছিল। অর্থ সংগ্রহ : বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের এক নেতা জানান, তিনি তার সংগঠনের শীর্ষপদে থাকায় তাকে চারটি রোডমার্চ কর্মসূচিতেই অংশ নিতে হয়েছে।

তার বান্তব অভিজ্ঞতা আছে। তিনি একটি গাড়ির হিসাব দেখান। সে অনুযায়ী গড়ে গাড়িপ্রতি খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যেই জ্বালানি, খাবার খরচ, হোটেল ভাড়া ইত্যাদি। দল তাকে এ বাবদ কোন টাকা দেয়নি।

রোডমার্চের গাড়ি বহরে দলের পরিচয় হিসেবে গাড়ির স্টিকার দিয়েছে যাতে সেতুতে সময় বাঁচাতে একযোগে টোল দেওয়া যায়। কার্যত তিনিই টাকা সংগ্রহ করেছেন। অর্থ সংগ্রহ সম্পর্কে তিনি জানান, দলের শুভাকাংক্ষীদের কাছে হাত পাততে হয়েছে। যেহেতু তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাই কেউ না করেন না। দল ক্ষমতায় এলে শুধু আমাদের নয়, তাদেরও লাভ হবে-এমন আশাতে কম-বেশি অর্থ দিয়ে থাকেন সব শুভাকাংক্ষী ।

বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তোরণ নির্মাণ, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সমাবেশস্থলে আনা-নেওয়া, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি খাতে ব্যয় করতে বাধ্য ছিলেন স্থানীয় কমিটি ও গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতারা। আগামী দিনে দলের নেতৃত্বে আসতে চান অথবা আগামী সংসদ নির্বাচনে দাঁড়াতে চান তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসতে ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ডে নিজের ছবি সাটানোসহ নানাভাবে অর্থ ব্যয় করেছেন নিজ উদ্যোগে। সব মিলিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতি রোডমার্চে ২ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ খরচের পরিমাণ অনেকটা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সামর্থ ও লোকজনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে বলে জানান নেতারা। তারা জানান, টাকা ছাড়া এখন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হয় না।

কর্মসূচি ঘোষণা করার আগে কোথা থেকে টাকা আসবে সে ভাবনা ভাবতে হয় নেতাদের। ঐক্য-অনৈক্য : বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সব কেন্দ্রীয় এবং সংশি¬ষ্ট রোডমার্চ এলাকার নেতাদের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়ায় দলের বাহ্যিক গ্র“পিং পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখে নেতাকর্মীরা কিছু এলাকা বাদে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন যা চোখে পড়ার মত। দলের গ্র“পিং চাপা থাকলেও জামায়াত-শিবির চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বেশ দাপট দেখিয়েছে। খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে রাজশাহীতে মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে মহনগর বিএনপির নেতারা স্থানীয় আমচত্বর এলাকায় দাঁড়াতে চাইলে ওই এলাকার রান্তা আগেই দখল করে নেয় জামায়াত-শিবির। মিনুর বিশেষ অনুরোধে জামায়াত শিবির বিএনপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে বেগম জিয়ার দেখা করা জন্য কিছু রান্তা ছেড়ে দেয়।

ওই অপমানের ক্ষোভ এখনও রয়ে গেছে নেতা-কর্মীদের মনে। চট্টগ্রামে মঞ্চের সামনে থাকা নিয়েও জামায়াত শিবির, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে গিয়ে করেনি এমন চিত্র পত্রিকায় পাতায় ফুটে উঠেছে। এ সম্পর্কে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এটা সামন্য ভুল বোঝাবুঝি। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.