আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

লেংটা বেলা -টু- বুইড়া বেলা ৫ম পর্ব ১৮+

https://www.facebook.com/chairmanzerozero7 ১৯৯৯ সালের ঘটনা। দেখতাম বিভিন্ন বিয়া বা খতনার দাওয়াত আইলে আব্বা একলাই যাইতো। আমারে নিতো না। কইতো দাওয়াত দিলেই গোষ্টি বাইন্ধা এসেম্বলি লাইনের মতো যাওন লাগবো ? আমারে ভুলানোর লাইগ্যা আম্মা ভালো মন্দ রান্না বান্না করতো। কিন্ত আমার মন তো মানতো না।

আমি মনে মনে কইতাম টেকা দিতাছে ৫০০- ১০০০ আমারে নিলে না হয় বাপ বেটা মিইল্লা কিছু উসুল কইরা আইতাম। কিন্তু কে শুনে কার কথা। আমি নিরুপায় হইয়া বারান্দায় বইয়া উদাস নয়নে রাস্তার দিকে চাইয়া চাইয়া ২-৩ প্লেট পোলাও, মাংস, ডিম নাড়াচাড়া করতাম। পেট ভরলেও মন ভরতো না। আর মনে মনে দোয়া করতাম সবার যেন পেট খারাপ হয় শুধু আমার আব্বা ছাড়া।

আর আম্মারে কইতাম বড় হইয়া আমি হুজুর হমু তাইলে সবাই দাওয়াত দিব । এইজন্য আম্মার কাছে কত কথা না শুনছি.. কিন্তু একদিন আইলো সেইদিন। যেদিন আমার সেই বিশিষ্ট সুন্দরী কলি আপার আর ঐ সপন ভাই এর বিয়া। কলি আফা নিজে আইয়া আমারে আলাদা কার্ড দিয়া গেলো। আমারে আর পায় কেডা? ১ দিন আগে থেকে খাওয়াদাওয়াতে হারড বেরেক মারলাম যাতে বেশী খাইতে পারি।

যেই আমি খাওনের লাইগা চিল্লাইতাম হেই আমি পারলে রোজা রাখি এমন অবস্থা। আর আম্মারে কইলাম আজকে থেকে মাংস , পোলাও এইসব রানবা না, ঐগুলা বিয়ার পর খামু। বিয়ার দিন সকাল সকাল উইঠা আমি ফুলবাবু সাইজা রেডী। আম্মা নাস্তা দিলে আমি এমন ভাবে তাকাইলাম যেন আমারে বিষ দিছে। কইলাম একবারে দাওয়াত খামু।

নগদে আম্মা তরকারী নাড়ার লাডি দিয়া এমন এক বাড়ি দিলো যে আব্বাগো আম্মাগো কইয়া চিক্কুর পারলাম। বইনে কয় কান্দিস না ,বিয়াতে গেলে নাইলে খারাপ দেখা যাইব। নিজের নায়ক নায়ক লুক টা বজায় রাখার লাইগ্যা কান্দা থামাইয়া মনে মনে কইলাম পরে একটু বেশী কাইন্দা পোষাইয়া দিমু নে। আর একটু পর পর বইনেরে জিগাই কিরে সময় হইছে খাওনের? মানুষ যাইতাছে ?? হে কয় "না। " আমি কই যদি খালি খাওন না পাইছিরে তোরেই আমি খাইছি।

একটু পরে কলি আপার আব্বা আইয়া কয় বাবা আসো না কেন? আমি কই আনকেল খাওন কি শেষ ? আর নাই ? আনকেল হাইসা কয় না বাবা অনেক আছে তুমি চলো। আমি আব্বারে রাইখাই একলা হাডা দিলাম। পথে এক দোস্ত ডাইকা কয় কই যাস? আমি আর জবাব দিলাম না। দিলাম এক দউড়। যাইয়া নগদে এক টেবিল এ বইয়া পরলাম।

খাওন লইয়া আইলো এক চাচা। আমি হেরে হাতের গরুর মাংস দেইখা কই কাকা আমি কিন্তু গরুর মাংশ অনেক বালা পাই। হে কয় লও বাবা তুমারে বড় টুকরা গুলা দেই। আমি তো খুশী তে খাওয়া শুরু করলাম বাট এক পেলেট কুনোরকমে খাইয়া আর পারি না। এর মধ্যে দেখি রোস্ট আইতাছে কিন্তু আমার পেলেট এ বড় এক টুকরা মাংস।

কি করি ভাইবা না পাইয়া না চাবাইয়া মাংস টারে দিলাম চালান কইরা ভিতরে। ওমা এইডা কি? যায়না কেন ? মাংস গলায় গেছে আইটকা। ঢোক গিলি লেকিন যায় না। পানি খাইলাম পানি ও যায় না। আমি তো পরলাম মুছিবত এ।

না পারি গিলতে না পারি কাউরে কইতে। আমি তো কই আজকে আমার জীবনের শেষ দিন। ছোটবেলায় বগার কাহিনি পড়ছিলাম যে গলা থাইক্যা মাছের কাটা বাইর কইরা দেয়। কিন্তু অহনে বগা পাই কই? আমার এই অবস্থা দেইখা আমার পাশে বসা এক লোক কইলো ভাইস্তা মুখ খুলো, আমার গলার মধ্যে আংগুল ঢুকাইয়া দিল আর আমি বমি কইরা দিলাম। মাংসের টুকরা ডা ও বাইর হইলো।

বেডা আমারে কয় ঐ বেক্কল এইডা কি শনপাপড়ী পাইছস যে পুরাডা মুখে হান্দায়া দিছস। আমি তো শরমে দিলাম খেইচ্চা দউর। এক টানে বাসায় আয়া পরলাম। আম্মা কয় কিরে পেট ভরছে? আমি কাহিনী কইতেই আরেক দফা ডলা খাইলাম। এইবার আর কান্দা থামাইলাম না ।

একটু পরে দেখি আম্মা আমার লাইগ্যা গরুর মাংস রাইনদ্ধা আনচে। কিনতু আমি তো আর খামু না। পরে আম্মা আমারে দাত দিয়া ছিড়া ছিড়া খাওআইয়া দিলো। এরপর থাইক্যা আর বিয়ার দাওয়াত এ যাই নাই। আজ ও বিয়ার দাওয়াত এ গেলে ঐসব কথা মনে পরে।

আমার লেখা এই সিরিজ এর আগের পর্ব গুলা পড়তে চাইলে ক্লিক করুন ১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব ৪র্থ পর্ব আমার লেখা কেমন লাগছে প্লিজা জানাবেন। শুভরাত্রি । ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.