আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অভিশপ্ত অভিযোজন

বিকট নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট, সুড়কি, খসে পড়ে কারো মাথায় আঘাত করে হতাহত করার ঘটনা বিরল কিছু না, তবে আমার ভাগ্য বরাবরই খারাপ। গ্রিনরোডের সুবাস্তু ভ্যালি পার হবার সময় ওপর থেকে আস্ত একটা রড এসে মাথায় গেঁথে গেলো একেবারে! কী বিব্রতকর একটা অবস্থা ভাবুন! মাথায় একটা বড় কংক্রিট চাক এসে আঘাত করলেও মরতাম, সেটাই ভালো ছিলো। এখন আমার মৃত্যুর পর মাথা থেকে রডটা বের করার জন্যে কত বিপত্তি পোহাতে হবে আপনাদেরকে ভেবে সত্যিই খুব আড়ষ্ট লাগছে। আসন্ন মৃত্যুর কথা ভেবে কিছুটা বিষণ্ণও বোধ করছি। এইতো আর কিছুক্ষণ, তারপর সবকিছু ছেড়ে অজানার দেশে চলে যেতে হবে।

কবরের আযাবের কথা ভেবে শঙ্কিত অনুভব করছি। ছিলামতো দুনিয়াদারী নিয়ে, আখিরাতের কথা কখনও ভাবি নাই। এসব ভেবে যখন আমি উদাস মনে দাঁড়িয়ে আছি মুখে একটা বৈরাগ্যের ভাব নিয়ে, তখন রিকশঅলার খিস্তি এবং ক্রিং ক্রিং ঘন্টার শব্দে আমি সচকিত হই। -ওই মিয়া, এমনে খাঁড়ায় আছেন কেন রাস্তা ব্লক কৈরা? সাইড দ্যান! মৃত মানুষের সাথে এ কীরকম আচরণ? নাকি আমি এখনও মরি নি! আমি সরে গিয়ে মাথার আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে হাত দিয়ে রক্তের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হই। সেইসাথে গেঁথে যাওয়া রডটা নাড়াচাড়া করে দেখি।

নাহ! বড্ড শক্তভাবে এঁটে আছে। এটা বের করা সম্ভব না। কিন্তু কথা সেটা না। আমি এখনও মরছি না কেন? আর আমার রক্তাক্ত, বীভৎস মাথাটা দেখেও কেউ রা করছে না কেন? আমি এতটাই অপাঙক্তেয়? সহানুভূতি বা আহা উহু না হোক, অন্তত কৌতূহলের বশেও তো তারা ভীড় জমাতে পারে এহেন শোচনীয় অবস্থা দেখে! হুশ করে একটা সাংবাদিকের গাড়ি পাশ কাটিয়ে গেলো আমাকে। একইসাথে একটা এ্যাম্বুলেন্সও।

যদি এখনও বেঁচে থাকি তাহলে একটা এ্যাম্বুলেন্সই বেশি দরকার আমার জন্যে, কিন্তু আমি সাংবাদিকের গাড়িটার দিকেই প্রাণপনে হাত নেড়ে দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করলাম। জীবিত অবস্থায় কেউ গ্রাহ্য করে নি, মরণের পরেও করবে না তা কী হয়! এরকম ভয়ঙ্কর একটা দুর্ঘটনা ঘটলো একজন নাগরিকের জীবনে, সে কী বিশাল একটা ছবি সহ দু কলাম বরাদ্দ পেতে পারে না? গাড়িটা ছিলো একটা টপ রেটেড পত্রিকার, ট্যাবলয়েড হলে হয়তো বা ভালো ট্রিটমেন্ট পেতাম। ট্রিটমেন্ট! চিকিৎসা সুবিধার চেয়ে ট্যাবলয়েডের ট্রিটমেন্টই আরাধ্য এখন আমার কাছে। যাকগে! এখন আর ওসব ভেবে কী হবে। একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের প্রতি কারো কোন করুণা নেই, যেন সবাই আমাকে দেখেও না দেখার ভান করছে।

কারো কারো চোখে বিরক্তিও দেখতে পাচ্ছি। ভগ্নহৃদয়ে আমি বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিলাম। বাসায় ফেরার জন্যে সচরাচর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ঝুলে ঝুলে লোকাল বাসভ্রমণই আমার জন্যে শ্রেয়। ওটাই করে থাকি সবসময়। তবে আজ জীবনসায়াহ্নে এসে একটু বিলাসিতা করাই যেতে পারে।

একটা সিএনজি করে চলে যাই। দরকার হলে দ্বিগুণ ভাড়া দেবো। সামনেই একজন ড্রাইভার বিড়ি ফুঁকছে মহা আয়েশে। ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে না তার কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তারপরেও তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, -ওই সিএনজি, যাইবা? -কই যাইবেন? -মহাখালী।

-যামু না। -বাড়ায়া দিমুনে চলো। -ধুরো আপনের ভাড়ার গুষ্টি কিলাই। মাথার মধ্যে রড লাগায়া ঘুইরা বেড়াইতেছেন। সিনেমা করেন? মেকআপ খুলেন শিগগীর নাইলে নিমু না।

-আরে তোমারে কে কইলো আমি সিনেমায় পার্ট করার লিগা মেকআপ নিছি? আমার সত্যি সত্যি এ্যাক্সিডেন্ট হৈছে। টাইনা দেখো রডটা বাইর করতে পারো কী না। -আমার আর কাম নাই তো খায়া দায়া! যতসব জুকার! খাইট্যা খান মিয়া! বলে সে তার অর্ধবিকল ইঞ্জিনটা খানকতক চেষ্টা করে বিকট শব্দে স্টার্ট নিয়ে চলে গেলো। ওহ, ব্যাপার তাহলে এই! সবাই আমাকে জোকার ভাবছে! দোষ দিই বা কী করে তাদের। মাথায় আস্ত একটা রড নিয়ে দিব্যি হেঁটে চলে ফিরলে কেউ তা স্বাভাবিকভাবে নিবে কেন? এতক্ষনে আমার মরে ভূত হয়ে যাবার কথা।

নাকি আসলেই ভূত হয়ে গেছি? -ভাইজান, আপনের রডটা আমারে দিবেন? আমি গরীব নেশাখোর। এইটা বেইচ্চা এক পুরিয়া গাঞ্জা কিনুম। দিয়া দেন ভাইজান। আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে ক্ষীণ কর্কশ শব্দে এক শীর্ণকায় তরুণের কন্ঠে। কথা বলতে গিয়ে কাঁপছে।

নেশা করতে করতে ফুসফুস ক্ষয়ে ফেলেছে বলে জোরে বলতে পারছে না, কিন্তু তার আকুতিটা তীব্র। নেশার মত অবক্ষয়মূলক কাজে সাড়া দেয়াটা মোটেই ঠিক হবে না, ভাবি আমি। তবে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে একজনকেও যদি খুশী করতে পারি, তার ইচ্ছাপূরণ করতে পারি সেটা নিঃসন্দেহে একটা সোয়াবের কাজ হবে। পরক্ষনেই আমার মনে হয়,এই নেশাই আমাকে একটা দ্রষ্টব্য বস্তু করে তুলেছে। আমার সাদামাঠা পোষাকআশাক আর রুগ্ন চেহারা দেখে নির্জন গলিতে আঁধার রাতে ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা পর্যন্ত পাত্তা দিতো না।

আর আজকে একজন অবক্ষয়িত মানুষের নজরে এসেছি স্রেফ ওই রডটার কারণেই। কিছুক্ষণ আগে একজনের কাছে সিনেমার অভিনেতা আখ্যা পেয়েছি। সিনেমায় অভিনয় করার বড় শখ ছিলো আমার। তা কখনও হয়ে ওঠে নি বলাই বাহুল্য, আজ কেউ আমাকে রুপালী জগতের, (হোক না তুচ্ছ কেউ) ভেবেছে এটা ভেবে আমি আনন্দ পাই। সুতরাং এই রডটা হাতছাড়া করা মোটেও উচিত হবে না আমার।

সামনে আরো কী আছে দেখার জন্যে আমি উৎসুক হই। বেশ কিছুটা আত্মবিশ্বাসও অনুভব করি। এক ধমক দিয়ে ভাগিয়ে দেই নেশাখোরটাকে। হাঁটতে হাঁটতে আবার কখন সেই দালানটার সামনে এসে পড়েছি খেয়ালই করি নি। ওখানে কিছু রাগত চেহারার মানুষকে দেখে থমকে যাই।

আমার দিকে খরচোখে তাকিয়ে আছে। বিচলিত হই কিছুটা। -এডাই সেই লোক না? -হ এইডাই! -আমগো রড নিছে, ফেরত না দিয়া পলাইছে। -হালারে পাইছি! -এদিক আহেন মিয়া। রড ফেরত দিয়া যান।

বলে কী! এই রড এবং রক্ত একান্তই আমার। এতে আর কারো কোন অধিকার নেই, থাকতে পারে না। ওদের মতিগতি সুবিধের ঠেকছে না। জীবনে যে দুয়েকটা কাজে আমি দক্ষ, তার মধ্যে একটা হল দৌড়! আর বাকিগুলো, না থাক! থাক দুয়েকটা লজ্জাস্কর গোপন। ঝেড়ে দৌড় দিই আমি।

ওরা আমাকে তাড়া করে না, কিন্তু উচ্চস্বরে হাসে। -হালায় ক্যামন ফাঁপরটা লৈলাম বোকচোদটার সাথে দেকচোস? বটে! আমার সাথে ফাঁপর নেয়া! আমাকে গালিগালাজ করা! এমন না যে আমি কখনও গালিগালাজ শুনি নাই, বা অভ্যস্ত না এতে। কিন্তু জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে এসব অপমান আমি সহ্য করব না! রডটা ঢুকেছে বেশ চমৎকার একটা ৪৫ ডিগ্রী কোণ করে। ভালো একটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আমি ঢুঁশ দেয়ার ভঙ্গীতে তাদের দিকে পাল্টা ছুটে যাই।

তারা এই কাউন্টার এ্যাটাকের জন্যে প্রস্তুত ছিলো না। -আমারে বোকচোদ পাইছোস? এক্কেরে ভুড়ি ফাঁসায়া দিমু। আয় আইজক্যা! ওরা নিমিষেই নির্মাণাধীন ভবনের উঁচুতলায় উঠে যায়। আমি বিজয়ীর ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে থাকি কিছুক্ষণ বিল্ডিংটার নীচে। ইতিমধ্যে আমার চারপাশে বেশকিছু লোক জমায়েত হয়েছে।

এতক্ষনে! তাদের চোখে সমীহের দৃষ্টি। আমি ভাবলাম এবার মনে হয় তারা আমার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবে, কীভাবে এমন হল জানতে চাইবে, আহা উহু করবে, আসন্ন মৃত্যুর জন্যে সমবেদনা জানাবে। কিন্তু তারা এসব কিছুই করলো না। অবাক দৃষ্টিতে, যথাযথ হয় সমীহ মাখানো দৃষ্টি বললে, তাকিয়ে থাকলো। কেউ কিছু বলছে না।

বলার সাহস পাচ্ছে না হয়তো। আমিই বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, -কী হইছে আপনাগো? ভীড় করেন ক্যা? কিছু কওনের থাকলে কন। একজন কোনমতে সাহস সঞ্চয় করে সুধোয়, -ভাই আপনে কেডা? কী হয়েছে না জানতে চেয়ে আমি কে জানতে চাইছে। আমি হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ এবং জাঁদরেল হেয়ে গেছি এটা ভেবে ব্যাপারটাকে ইতিবাচকভাবে নেবো, নাকি আমার দুরবস্থার জন্যে কেউ ব্যথিত নয় ভেবে মন খারাপ করব বুঝে উঠতে পারছি না। -সরো, সরো কাছে যেয়োনা, গুঁতা দেবে তোমাকে ডেভিলটা! একটা উৎসুক সাহসী বাচ্চা আমার কাছাকাছি এসে গিয়েছিলো দেখে তার সচেতন মা সভয়ে তাকে বগলদাবা করে নিয়ে চলে গেলো।

ব্যাপার স্যাপার আমি বেশ উপভোগ করা শুরু করেছি এখন। বুঝতে পেরেছি, জীবন্মৃত এই আমি এখন কতটা ভয়ানক! এখন আমি চাইলেই সবাইকে ঝাড়ি মেরে বংশোদ্ধার করতে পারি! ইয়াহু! -ওই মিয়ারা, খাড়ায়া তামশা দ্যাহেন? পাইছেন কী আপনেরা? যান ভাগেন! আব্বে গেলি? আবারও গুঁতো দেয়ার ভঙ্গীতে আমার ডেভিলরডটা বাগিয়ে তেড়ে যাই। সম্মিলিত জনতা পথঘাট ভেঙে ঝেড়ে দৌড় দেয়! পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে আমার মুখে। জীবনের শেষ সময়টা বড়ই উত্তেজনাপূর্ণ এবং উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। রডটা চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে আমার শরীরের সাথে।

অভিযোজিত হয়ে গেছি নাকি? হয়তোবা এই রডটা আমার নতুন একটা অঙ্গ। শয়তানের যেমন থাকে, গরু ছাগলের যেমন থাকে, তেমন একটা শিং। নাহ এটা কোনভাবেই, গরু ছাগলের শিং না, শয়তানের শিং। অবশ্যই শয়তানের শিং। এতদিন ছাপোষা জীবন যাপন করেছি, কেউ পাত্তা দেয়নাই।

সাহসের অভাবে সুশীল সেজেছি। আজকে সবাইকে দেখে নেবো। এতদিন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেছি, এখন শয়তানে বিশ্বাস করি। "মহান শয়তান, আপনাকে প্রণতি জানাই এই অবিশ্বাস্য সুন্দর উপহারের জন্যে। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, বেঁচে থাকাটা একটা বোঝা মনে হচ্ছিলো।

অপ্রয়োজনীয় সব লালিত্য আর অনুভূতি তেতো করে ফেলছিলো জীবন। এখন আমি অভিযোজিত হয়ে বুঝতে পারছি জীবনের আসল আনন্দ। আপনাকে ধন্যবাদ প্রভু!" বাসায় ফেরার তাড়া অনুভব করি না আর। আজ রাতে এই শহরের অলিতে গলিতে, রাজপথে মাস্তানি করে বেড়াবো। সুন্দরী মেয়ে দেখলে অশ্রাব্য খিস্তি করব।

চাই কী ধরে নিয়ে গিয়ে শয্যাসঙ্গী করব। আমাকে রুখবে এমন সাধ্য আছে কার? -এই যে ভাই শোনেন! শুনছেন? তাকিয়ে দেখি কালো পোষাক পরা সেই দাপুটে সরকারী মাস্তানদের দলের একজন আমাকে জিজ্ঞেস করছে। -কী কৈবা কও! -কিছু যদি মনে না করেন আপনাকে নৈরাজ্য সৃষ্টির দায়ে এবং অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার করতে পারি? ঢোঁক গিলে বিনীত ভঙ্গিতে বলল সে। -এত ঝামেলার কী দরকার? ক্রসফায়ারে দেও! আমারে দৌড়াইতে বৈলা গুলি কর। আমি আমার শিঙে হাত বুলাতে বুলাতে সদম্ভে বলি।

-ন্ না। থাক আপনাকে দৌড়াতে হবে না। বিরক্ত করার জন্যে স্যরি, ভাই! কিছু মনে নিয়েন না। কী বিচিত্র এই পৃথিবী! কিছুক্ষণ আগে আমি ছিলাম এক ছাপোষা কেরাণী। যাকে একটা রিকশঅলা পর্যন্ত দাম দিতো না, আর এখন সর্বোচ্চ ক্ষমতাধরেরাও আমার সামনে জবুথবু হয়ে থাকে।

বিষয়টা চিন্তা উদ্রেককারী। মনের মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া শয়তানি পরিকল্পনাগুলো স্থগিত রেখে কেন এমন হল তার কারণ অনুসন্ধান করি বরং। চিন্তা করার জন্যে দরকার একটা নির্জন জায়গা। যে দালানটি থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি সেটাকেই উপযুক্ততম মনে হয়। আমি জানি ওখানে ঢুকতে এখন আর কোন সমস্যা নেই।

এই সন্ধ্যেবেলাতেই জায়গাটা এমন নির্জন হয়ে গেছে কেন! নিশ্চয়ই খবর রটে গেছে শহরে আবির্ভূত হয়েছে এক ভয়ংকর শয়তানের, যে জনগণের জন্যে হুমকিস্বরূপ, যাকে আইনরক্ষীবাহিনী ভয় পায় যমের মত। কিন্তু শহর এমন মানবশূন্য হয়ে গেলে আমি মজা লুটবো কাদের সাথে? হম্বিতম্বি করব কাদের সাথে? মৃত্যু আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে, জীবনের রক্তচক্ষুর সামনে কুঁকড়ে থেকেছি সবসময়, ঈশ্বরের মুখাপেক্ষী হয়েও লাভ হয় নি। অবশেষে শয়তানের কৃপা পেলাম, তাও এত কম সময়ের জন্যে! শহরে কোন মানুষ নেই এখন। আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেছি গ্রিনরোড থেকে শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ি কোথাও কেও নেই। সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যাবার চেষ্টা করি, কিন্তু সবগুলো এক্সিট এরিয়ায় বিশাল বিশাল ফটক স্থাপন করেছে কারা যেন।

ভূতুড়ে শহরে আমি একা এবং অভিশপ্ত। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে শয়তানের উপহার কখনও মঙ্গলময় হতে পারে না। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে জীবনকে বোঝা ভাবতে নেই কখনও। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো যে মৃত্যুকে সহজভাবে নেয়ার সৎসাহস থাকতে হয়। আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো ঈশ্বর এত বোকা অথবা লোভী নয় যে, উপাসনার ঘুষে সে বিগলিত হয়ে আমাকে মহিমান্বিত করবে।

জীবন, মৃত্যু, শয়তান আর ঈশ্বরের চতুর ছকে আটকে পড়ে অভিশপ্ত শহরে বসে থাকি আমি একা...  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।