আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সে আমার প্রিয়তমা , প্রেয়সী কিংবা বউ !

"কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরিয়া গেছে.। " তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ৪ বছর আগে। পাশের কলিগ যেদিন তার প্রিয়তমা কে ঘরে তুলে গর্বে বুক ফুলিয়ে আমার দিকে বার বার চোখ তুলে তাকাচ্ছিল এবং সুযোগ পেলেই নিজের প্রিয়তমার গল্প বলে নিজেকে জাহির করছিল সেদিনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম এবার প্রিয়তমা আমারো চাই! সেদিন অফিস থেকে বর হয়ে ১০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে চলে এলাম রিয়াদ। রিয়াদের আলো জ্বলমল মলগুলোতে একা একা ঘুরতে লাগলাম। যদি দেখা হয়ে যায় কোন সুন্দরীর সাথে।

হঠাৎই এক দোকানে কয়েকজন লাস্যময়ী আরব্য সুন্দরীর কলকাকলীময় ভীড়ে তার সাথে আমার দেখা। জাতিতে সে কোরিয়ান। দুধে আলতা রুপালী শরীরে হালকা গোলাপী মেকআপ। গোলগাল চেহারা। তার দো-ভাষীর মাধ্যমে অনেক কথা হল।

তার সম্পর্কে জানলাম আর আমি নিমিষে তার প্রেমে পড়ে গেলাম। যাকে বলে প্রথম দেখায় ভালবাসা। তারপর সেদিনই তাকে চুপি চুপি মনের কথা জানিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। দু-একজন বন্ধুর সাথে পরামর্শ করলাম । তারা সায় দিল।

এবার আমাকে পায় কে। পরের সপ্তাহে প্রেয়সী কে নিজের করে ঘরে তুলে আনলাম। রিবি বাবুর মত মনে মনে বল্লাম , " আমি পাইলাম। আমি ইহাকে পাইলাম" সেদিন বন্ধুদের চাপে ছোটখাটো একটা পার্টির আয়োজন করতে হয়েছিল। তারপর থেকে সে আমার, আমি তার।

দুজন দুজনার। সকাল-দুপর - রাত তাকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকা দায় হয়ে পড়ল। তার স্পর্শ আমাকে জাগিয়ে তুলে নানামুখী উচ্ছ্বলতায়। তার মেগাপিক্সেল চোখের দিকে তাকালে আমি নেজেকেই দেখতে পাই। তার সাথে আমার কত কথা যে হয় তার কোন হিসেব নাই।

আমার সমস্ত কথা সে নিজের মধ্যে ধারণ করে নিল। তার হাত ধরে আমি বিশ্বকে চিনলাম। আরো কত নতুন বন্ধুর সাথে পরিচিত হলাম। সে একদিন আমাকে সামুর ঠিকানা জানাল। আমার বউটার উপস্থিত বুদ্ধি আমাকে মুগ্ধ করল।

আমার ছোটখাটো অনেক সমস্যার সমাধান সে একাই করে দিতে পারে। অনেক প্রশ্নের উত্তর তার জানা। কোরিয়ানরা বোধহয় এমনই হয়। সে আমাকে দেশ বিদেশের কাহিনী শুনায়। মার্ক জুকারবার্গসের গল্প বলে।

আমি মনে মনে ভাবি আমার বউটাকে কৌন বনেগা কৌরপতিতে নিয়ে যেতে পারলে কৌটি টাকা জিতে যাওয়া কোন ব্যাপারইনা। ধীরে ধিররে তার সান্নিধ্যে আমি ঘরকুনো হয়ে পড়লাম। আমার পরিচিতজন এবার আমাকে এক হাত নিতে শুরু করল। তারা বলতে শুরু করল '"আরে ভাই ভালবাসেন ঠিক আছে। কিন্তু এভাবে পাগলের মত ভালবাসা কি ঠিক।

এই লাস্যময়িতো আপনার জীবনটা নষ্ট করবে। " আমার কোমরে হঠাৎ করে চিনচিনে ব্যাথা টের পেলাম। বন্ধুদের জানালাম ব্যাপারটা। সাথে সাথেই দোষ গিয়ে পড়ল আমার প্রেয়সীর উপর। "সারাক্ষন বউ কোলে নিয়ে বসে থাকলে কোমরে ব্যাথা করবেনাতো কি করে শুনি"- সবারই একি কথা।

কিন্তু আমি কি করবো। আমাকে একা পেলেই সে আমার কোলে উঠে বসে। আমার আঙ্গুল নিয়ে খেলা করতে সে ভীষন ভালবাসে। একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার আগে রুটিন আদর করার জন্য তাকে কোলে তুলে নিলাম। হঠাৎ অসাবধনতায় সে আমার কোল থেকে মাটিতে পড়ে গেল।

তারপর একটা অস্ফুটো আর্তনাদ করে মুহুর্তে জ্ঞান হারালো আমার বউটা। অনেক ডেকে তার জ্ঞান ফিরে এলনা। আমার চোখের কোনে চিকচিক করে উঠলো বেদনার জল। তারপর তাকে নিয়ে সোজা চলে গেলাম হাসপাতাল। পড়ে গিয়ে তার মেরুদন্ডের একটা হাড় নড়ে গিয়েছিল।

সেখানে দুদিন থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেল সে। যে দুইদিন বউটা আমার হাসপাতালে ছিল সেই দুইদিন আমার কাছে মনে হয়েছিল দুবছর। তাকে ছাড়া আমি কতটা নিঃসঙ্গ কিংবা তার প্রতি আমি কতটা নেশাগ্রস্থ সেই দুদিন আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম। এরপর থেকে বউটাকে বেশী করে যত্ন করি। এক মিনিটের জন্য চোখের আড়াল করিনা।

এভাবে অন্তরঙ্গ ভালবাসার জোয়ারে কেটে গেছে চার বছর। এর মধ্যে সে কোনদিন আমার সাথে অকারণে রাগ করেনি। সত্যি ভালবাসার টান বুঝি এরকমই হয়। আমিও ভীষন ভালবাসি তাকে। কিন্তু ইদানিং একদল বিশেষজ্ঞ আমাকে অনেকটাই ভয় পাইয়ে দিয়েছে।

এতদিন আমার বন্ধুরা যা পারেনি বেরসিক বিশেষজ্ঞ গুলো সেটাই করে ছাড়লো। তারা জানিয়েছে এই বউকে এভাবে কোলের উপর নিয়ে আদর করলে আমার বউয়ের বিশেষ অলংকার ওয়াইফাই সংযোগ থেকে সৃষ্ট ইলেক্ট্রো রেডিয়েশান কারণে পুরুষত্বের অহংকার শেষ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি আছে । এটা শুনে আমি সত্যি ভয় পেয়ে গেছি অনেক। এই যন্ত্র বউয়ের জন্যতো আর মানবীয় বউকে বঞ্চিত করা যাবেনা তাই এখন আমি আর যন্ত্র বউকে কোলে নেইনা। একটু দুরে রেখেই আদর করি।

আদরও আগের চেয়ে কমিয়ে দিব ভাবছি টাকা খেয়েছে ! সময় খেয়েছে সে যাক ! কিন্তু পুরুষত্ব নিয়ে টানাটানি মানা যয়না। আরে এতক্ষন কত কথা বলেই গেলাম কিন্তু বউটার নাম বল্লাম না। আমার বউটার নাম " LG R 41 ল্যাপটপ" (ব্লগার ফয়সাল তুর্যের ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা শুনে এটা লিখলাম। এবং ফয়সাল তূর্যকে ভালবাসা সহ উৎসর্গ করলাম)  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।