আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রকৃত আহলে সুন্নাত কারা?

আসুন আমরা ২টি ভারী বস্তু আল্লাহর কুরান ও রাসুলের(সাঃ) পরিবারকে(আঃ) অনুসরন করি। আহলে বাইতের অনুসারীদের পরিচিতি আমরা কোন হিংসা-বিদ্বেষ ও লৌকিকতা ছাড়া যখন আহলে বাইতের অনুসারীদের ফেরকা [‘আহলে বাইতের অনুসারী’ দ্বারা আমি এখানে ইমামিয়া ইসনা আশারীকে বুঝিয়েছি। ইমাম জাফর সাদিকের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে যাদেরকে ‘জাফরী’-ও বলা হয়। আমার আলোচনা ইসমাইলিয়া ও যায়দীয়া ইত্যাদী ফেরকাগুলির সাথে সম্পৃক্ত নয়। আমার নিকট তারাও ঠিক তেমনই যেমন অন্যান্য ফেরকার মানুষ যারা হাদীসে সাকালাইনের সাথে সম্পর্ক রাখে না এবং রাসুল (সা.)-এর পরে হযরত আলীর ইমামতের আকীদা তাদেরকে লাভবান করবে না] সম্বন্ধে কোন আলোচনা করি তখন তারা বলে যে, ইহা ইসলামী ফেরকাগুলির মধ্য থেকে একটি ফেরকা আছে যারা আহলে বাইতে মুস্তফার মধ্যেকার হযরত আলী এবং তাঁর এগারোজন সন্তানকে ভালবাসে ও তাঁদের তাকলীদ করে এবং সমস্ত ফিকহগত মাসয়ালা-মাসায়েলে তাঁদের প্রতিই রুজু করে থাকে এবং রাসুলে খোদা (সা.) ব্যতীত তাঁদের উপর অন্য কাউকেই প্রাধান্য দেয় না।

সারসংক্ষেপে এই যে, আহলে বাইতের অনুসারীদের সত্যিকারের পরিচয়ের জন্য হিংসুক ও বিদ্বেষী মানুষের ঐসমস্ত কথা-বার্তাকে বাদ দিন যে, তারা হল ইসলামের শত্রু অথবা হযরত আলীর নবুয়াত বা রিসালতে বিশ্বাসী অথবা উক্ত মাযহাবের প্রবর্তক হল আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইয়াহুদী, ইত্যাদী ইত্যাদী। আমি এমন কিছু লেখনী এবং কিতাবাদী অধ্যয়ন করেছি, যেগুলির লেখকগণ এই কথার প্রতি পূর্ণাঙ্গ চেষ্টা চালিয়েছেন যে, আহলে বাইতের অনুসারীরা হল কাফের এবং তারা ইসলামের গন্ডি থেকে খারিজ। কিন্তু তাদের কথা-বার্তা কেবল মনগড়া, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তারা তো কেবল মহান আহলে বাইতগণের শত্রু, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের কথারই পুনাবৃত্তি করেছে এবং সেই খারেজীদের মুখ থেকে ফেলে দেয়া লুকমাকেই চিবিয়েছে, যারা উম্মতের ঘাড়ে চেপে বসেছিল এবং তাঁদেরকে দূরদূরান্ত এলাকায় বসবাস করতে বাদ্ধ করেছিল এবং তাদেরকে যতসব মন্দ উপাধীসহ আহ্বান করতো। আহলে বাইতের অনুসারীদের শত্রুদের কিতাবাদিতে ‘রাফেজী’ অথবা ‘রাওয়াফিজের’ মত উপাধী লিপিবদ্ধ আছে।

সুতরাং পাঠক দৃশ্যতঃ ইহাই চিন্তা করে যে, আহলে বাইতের অনুসারীরা হল নবীর রেসালত ও ইসলামী বিধি-বিধানকে অস্বীকারকারী এবং সেগুলি উপর আমল করেনা। বাস্তবে বনী উমাইয়া ও বনী আব্বাসীয় শাসকমন্ডলী এবং তাদের চাটুকার ওলামারাই তাদেরকে সেইসমস্ত মন্দ উপাধীসহ স্মরণ করেছে। কারণ আহলে বাইতের অনুসারীগণ হযরত আলীকে ভালবাসতেন এবং হযরত আবু বকর, উমর ও উসমানের খেলাফতকে অস্বীকার করতেন এবং অনুরূপভাবে বনী উমাইয়া ও বনী আব্বাসীয় শাসকগণেরও বিরোধিতা করতেন। সম্ভবতঃ ঐ শাসকগণ হাদীস রচনাকারী কিছু সাহাবাগণের সহযোগিতায় উম্মতের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। কেননা সাহাবাগণ তাদের খেলাফতকে শরীয়াতসম্মত বলে স্বীকার করতেন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এই কথাকে বেশি বেশি প্রচার করতেন যে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মাঝে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের আনুগত্য কর”।

[সূরা নিসা, আয়াত-৫৯] তারা এই আয়াত দ্বারা সেই সকল শাসকগণকে বুঝাতো এবং বলতো যে এই আয়াতটি এদেরই শানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারাই হল নির্দেশ দাতা, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। কখনো শাসকগণ এই ধরণের মানুষ ভাড়া করতো যারা নবীর নামে মিথ্যা হাদীস রচনা করতো। সুতরাং রাসুল (সা.)-এর নামে এই হাদীস রচনা করে দিল যে, “শাসকের বিরুদ্ধে কারোর এক বিঘেতও যাওয়ার অধিকার নেই, আর যে এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহেলিয়াতে মৃত্যুবরণ করবে”। অতএব বাদশাহ’র আনুগত্যের বাহিরে যাওয়া কোন মুসলমানের অধিকার নেই।

এর দ্বারা এই কথা আমাদের বুঝে আসে যে, আহলে বাইতের অনুসারীগণ শাসকগণের অত্যাচারের লক্ষ্যবস্তু কেন ছিলেন? এ জন্য যে তারা তাদের বায়াতকে অস্বীকার করেছিলেন এবং খেলাফতকে মহান আহলে বাইতের নির্দিষ্ট অধিকার বলে গণ্য করতেন। বিধায় শাসকরা জনসাধরণকে ধোকা দেয়ার জন্য একথাই বলতে থাকে যে, আহলে বাইতের অনুসারীরা হল ইসলামের শত্রু, তারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায়। যেমন এ কথাটিই এমন কিছু লেখকগণও লিখেছেন যাদের সম্পর্কে দাবী করা হয়ে থাকে যে, এরা হল পূর্বতন এবং প্রথম পর্যায়ের আলেম। আবার আমরা যখন সেই ক্রীড়ার প্রতি রুজু করব যা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করে, তখন জানা যাবে যে, যে জিনিস ইসলামকে মুছে ফেলে করতে চায় তা হলোর ভিন্ন কিছু। আর যা ফাসেক ও জালেম শাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহল ভিন্ন।

আর এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল হকপন্থীদেরকে হক পর্যন্ত পৌছে দেয়া, যাতে আদেল (ন্যায়বান) শাসক দ্বারা ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যাহোক এ কথা তো আমি আমার পূর্ববর্তী কিতাব “সুম্মা ইহতেদায়তু”, “লাকুনা মায়াস সাদেকীন” এবং “ফাসয়ালু আহলে যিকির”-এর আলোচনাগুলিতে বয়ান করেছি যে, আহলে বাইতের অনুসারীদের ফেরকাই হল নাজাত প্রাপ্ত, কেননা তারা ‘সাকালাইন’ তথা আল্লাহর কিতাব এবং রাসুল (সা.)-এর ইতরাতের সাথে সম্পৃক্ত আছে। আমি আহলে সুন্নাতের কিছু কিছু ন্যায়বান আলেমকেও এই বাস্তবতার স্বপক্ষে পেয়েছি। সুতরাং ইবনে মঞ্জুর তার “লিসানুল আরব” নামক কিতাবে এই অর্থ বয়ান করেছেন যে, “আহলে বাইতের অনুসারীরা হল সেই জাতি, যারা নবীর ইতরাতের প্রেমী ও তাঁদেরকে ভালবাসে”। অনুরূপ ড. সায়ীদ আব্দুল ফাত্তাহ্ আশুর সাহেবও বর্ণিত কিতাবের বাক্য উদ্ধৃত করার পর লিখেছেন যে, “যখন সেই জাতিকে ‘আহলে বাইতের অনুসারী’ বলা হয় যারা নবীর ইতরাতের প্রেমী ও তাদেরকে ভালবাসে, তখন মুসলমানদের মাঝে এমন কে আছে যে তা হওয়াকে অস্বীকার করবে”? গোত্রীয় হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার যুগ শেষ হয়েছে, এখন আলোকিত এবং উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার যুগ উপস্থিত।

বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন আধুনিক যুবকগণ চোখ খুলুক এবং আহলে বাইতের অনুসারীদের কিতাবাদি অধ্যয়ন করুক, তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করুক, তাঁদের আলেমগণের সাথে কথাবার্তা বলুক এবং এভাবেই সত্যকে চিনে নিক। কতই না মিষ্টি ভাষার মাধ্যমে আমাদেরকে ধোকা দেয়া হয়েছে, আর কতই না ভিত্তিহীন কথা-বার্তা আমাদেরকে শুনানো হয়েছে। আজ যখন পৃথিবী প্রত্যেক মানুষের করায়ত্বে, আর আহলে বাইতের অনুসারীরাও এই পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বসবাস করছেন। এমতাবস্থায় কোন অনুসন্ধানীর এই অধিকার নেই যে, সে আহলে বাইতের অনুসারীদের শত্রুদেরকে প্রশ্ন করবে এবং তাদেরকে প্রশ্ন করবে যারা আকীদার দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বিরোধিতা করে এবং প্রশ্নকারী তাদের কাছে কিই বা আশা করবে যারা প্রথম থেকেই আহলে বাইতের অনুসারীদের শত্রু? ‘আহলে বাইতের অনুসারী’ এমন কোন গোপনীয় মাযহাব নয় যে, তার আকীদা-বিশ্বাস সম্বন্ধে কেউ কিছু জানতে পারবে না। বরং এই মাযহাবের কিতাবাদি এবং প্রচার মাধ্যম সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে এবং প্রত্যেক জ্ঞান পিপাসুর জন্য তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি উন্মুক্ত আছে।

তাদের ওলামার পক্ষ থেকে কনফারেন্স, সেমিনা আয়োজন করা হয়ে থাকে। তারা মুসলিম উম্মাহকে একতার দাওয়াত দিয়ে থাকেন এবং তাঁদেরকে একটি নির্দিষ্ট কলেমার প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান করে থাকেন। আমার বিশ্বাস যে, মুসলিম উম্মাহর ন্যায়বান মানুষগুলো যদি গাম্ভীর্য ও মনোযোগ সহকারে এই বিষয়ে সন্ধান করে তাহলে তারা হকের নিকটবর্তী হয়ে যাবেন। আর হক ব্যতীত যা কিছু আছে তা সবই হল অন্ধকার ও পথভ্রষ্টতা। আর যে বিষয় তাদেরকে হক পর্যন্ত পৌছাতে বাধা সৃষ্টি করে তাহল আহলে বাইতের অনুসারীদের শত্রুদের কর্তৃক রটানো মিথ্যা ও অপপ্রচার অথবা সাধারণ কোন জনতার ভুল-ক্রুটি।

(বইয়ের শেষাংসে এ কথাটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, সাধারণ অনুসারীদের মধ্যেকার কিছু কিছু লোকের কর্মকান্ড দ্বারা আহলে সুন্নাতের বিবেকবান ও আধুনিক চিন্তা-চেতনার যুবকরা ভুল বুঝাবুঝির শিকার হয়ে পড়ে। তারপর সত্য পর্যন্ত পৌছানোর লক্ষ্যে আলোচনা ও অনুসন্ধান করার জন্য তাদের সাহসই হয় না)। কেননা অধিকাংশ সময় এমনও হয় যে (কোন মানুষের অন্তরে) সন্দেহ বিলীন হয়ে যায় এবং মিথ্যা কাহিনী মুছে যায়, তখন আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তার শত্রু স্বয়ং তাই হয়েগেছে। এ স্থানে শামবাসী সেই ব্যক্তির কথা মনে পড়েগেল, যাকে বর্তমান যুগের প্রচার মাধ্যমগুলো পথভ্রষ্ট করে দিয়েছিল। সে যখন মহান রাসুল (সা.)-এর কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে মদীনাতে প্রবেশ করল, তখন সেখানে একজন মর্যাদাবান ব্যক্তিকে ঘোড়ায় সোয়ার অবস্থায় দেখতে পেল যাঁর চারিপাশে সাহাবীরা দাঁড়িয়ে আছে এবং তাঁর ইঙ্গিতের অপেক্ষা করছে।

সেই শামবাসী ঐ পরিবেশ দেখে অবাক হয়েগেল। কেননা সে চিন্তাও করতে পারত না যে পৃথিবীতে মোয়াবিয়ার চেয়েও অধিক কাউকে সম্মান করা যেতে পারে। সে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল তখন জবাব দেয়া হল যে, ইনি হলেন হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব। সে বললো, “ইনিই কি সেই খারেজী ইবনে আবি তুরাব”? তারপর সে ইমাম হাসান, তাঁর পিতা এবং আহলে বাইতের প্রতি গালি-গালাজ শুরু করেদিল। ইমাম হাসানের সাহাবীগণ তাকে হত্যা করার জন্য তরবারী খাপ মুক্ত করে নিলেন।

কিন্তু ইমাম হাসান তাঁদেরকে নিষেধ করে ঘোড়া থেকে নেমে পড়লেন এবং তাকে স্বাগত জানালেন এবং মিশরিও ভাষায় বললেন, “এই শহরে তুমি কি আগন্তুক”? শামবাসী বললো, “হ্যাঁ, আমি শাম থেকে এসেছি এবং আমি আমীরুল মুমেনীন সৈয়্যেদুল মুরসালীন আমীরে মোয়াবিয়াকে ভালবাসী”। ইমাম হাসান আবারো তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, “তুমি হলে আমার মেহমান”। শামবাসী প্রত্যাখ্যান করল। কিন্তু ইমাম হাসান তাকে মেহমান হওয়ার জন্য রাজি করিয়ে নিলেন এবং খুবই উত্তমরূপে কয়েকদিন পর্যন্ত খাতির যতœ করলেন। শামবাসী লজ্জিত হল এবং ইমাম হাসানের শানে যে বেআদবী করেছিল তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল।

ইমাম হাসান তার গালি-গালাজের বিপরীত যে করুণা ও ক্ষমা এবং মেহমানদারী প্রদর্শন করলেন তার জন্য শামবাসী খুবই লজ্জিত হল। ইমাম হাসানের সাহাবীদের সম্মুখে তাঁর এবং শামবাসীর মধ্যে আরো কিছু কথা-বার্তা হয়েছিল, যা আমি নি¤েœ বর্ণনা করছি : ইমাম হাসান : হে আমার আরব ভাই, তুমি কি কোরআন পাঠ করেছ? শামবাসী : পুরো কোরআন আমার মুখস্ত। ইমাম হাসান : তুমি কি জানো যে, আহলে বাইত কারা, যাঁদের থেকে আল্লাহ রিজস্কে (সমস্ত রকমের অপবিত্রতা) দূরে রেখেছেন এবং এমনভাবে পবিত্র রেখেছেন, যতটুকু পবিত্রতার হক আছে। কামবাসী : তারা হল মোয়াবিয়া এবং আবি সুফিয়ানের বংশধর। উপস্থিত সকলে এই কথার প্রতি অবাক হলেন।

কিন্তু ইমাম হাসান (আ.) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “আমি হলাম সেই আলী ইবনে আবি তালিবের সস্তান হাসান, যিনি রাসুলের চাচাতো ভাই। আমার মাতা হলেন হযরত ফাতেমা যাহরা সৈয়্যেদাতু নিসায়িল আলামীন। আমার নানা হলেন সৈয়্যেদুল আম্বিয়া ও মুরসালীন, আমার চাচা হলেন সৈয়্যেদুশ শুহাদা হযরত হামযা ও জাফর তৈয়ার। আল্লাহ আমাদেরকে পুতঃপবিত্র রেখেছেন এবং সকল মুসলমানের প্রতি আমাদের হুজ্জাতকে ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ আমাদের প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন এবং মুসলমানগণকে আমাদের প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করার হুকুম দিয়েছেন।

আমি ও আমার ভাই হুসাইন হল জান্নাতে যুবকদের সরদার”। এছাড়াও ইমাম হাসান, আহলে বাইতের আরো কিছু শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করলেন এবং তার বাস্তবা সম্পর্কে জ্ঞাত করালেন তখন শামবাসী তাঁর ভক্ত হয়েগেল এবং কান্না জুড়ে দিল। তারপর ইমাম হাসানের পবিত্র হাতে চুমু দিল এবং নিজের কথার জন্য লজ্জিত হয়ে বললো, “কসম সেই আল্লাহর যার ব্যতীত অন্য কেউ মাবুদ নেই! আমি যখন মদীনাতে প্রবেশ করেছিলাম তখন আপনি আমার নিকট এই জমিনের সবচাইতে ঘৃনিত ব্যক্তি ছিলেন। আর এখন যখন মদীনা থেকে প্রত্যাগমন করছি তখন আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আমার জন্য আর কেউ নাই। এখন আমি আপনার ভালবাসা ও আনুগত্য এবং আপনার শত্রুদের থেকে দূরত্ব অবলম্বনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করব”।

ইমাম হাসান তাঁর সাহাবীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বললেন, “তোমরা একে হত্যা করতে চেয়েছিলে, আর এখন সে জীবন পেল, কারণ সে হককে চিনতে পেরেছে। এর প্রতি শত্রুতা পোষণ করা উচিৎ নয়, আর শাম নগরীতে এধরণেরই অনেক আছে, তারা যদি হক চিনতে পারতো তাহলে তা অনুসরণ করতো”। তারপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন, “ইন্নামা তুনযিরু মানিত তাবায়ায যিকরা ওয়া খাশিয়ার রাহমানা বিল গায়বি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতাঁও ওয়া আজরিন কারীম” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত-১১] অর্থাৎ “আপনি তো কেবল যিকিরের (কোরআনের) আনুগত্যকারী এবং অদৃশ্য আল্লাহকে ভয়কারীদেরকেই ভয় প্রদর্শন করতে পারেন। অতএব তাঁদেরকেই মাগফিরাত এবং মহান প্রতিদানের সুসংবাদ দিয়ে দিন”। জি হ্যাঁ, এই বাস্তবা থেকে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞাত আছে।

আফসোস যে একটি বয়স পর্যন্ত অনেক মানুষ হকের সাথে শত্রুতা ও বিরোধিতা করে থাকে। কিন্তু যখন তারা জানতে পারে যে, আমরা ভুলের উপর আছি তখন তাৎক্ষণিকভাবে তারা তাওবাহ ও ইস্তিগফারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর ইহা তো প্রত্যেক মানুষের উপর ওয়াজিব, যেমন কথিতও আছে যে, “হকের দিকে অগ্রসর হওয়াতে ফজিলাত (শ্রেষ্ঠত্ব) আছে”। আফসোস তো তাদের জন্য, যারা স্বচক্ষে হককে দেখে, অনুভব করে, কিন্তু তারপরও নিজেদের পার্থিব লক্ষ্য ও গোপন ঈর্ষার কারণে হকের সাথে যুদ্ধ (বিরোধিতা) করতে থাকে। এমন ধরণের মানুষের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইরশাদ হচ্ছে, “তুমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন কর আর নাই কর, তারা তো ঈমান আনয়ন করবে না” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত-১০]। তাদের সাথে সময় নষ্ট করে এবং তাদের অবস্থার প্রতি আফসোস করে কোন লাভ নেই।

আমাদের প্রতি কেবল এতটুকুই ওয়াজিব যে, আমরা যেন সেই সমস্ত ন্যায়বান ও বিবেকবান মানুষের জন্য প্রত্যেক বিষয়কে স্পষ্ট করে দেই যারা হকের সন্ধানে আছেন এবং হক পর্যন্ত পৌছানোর জন্য চেষ্টা করে থাকেন। এমন ধরণের মানুষের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইরশাদ হচ্ছে, “তুমি তো কেবল সেই ব্যক্তিকেই ভয় প্রদর্শন করতে পার যে উপদেশ গ্রহণ করে এবং অদেখা আল্লাহকে ভয় করে। সুতরাং তুমিও তাকে মাগফিরাত ও মহান প্রতিদানের সুসংবাদ দিয়ে দাও”। সূত্র ??? [সূরা পৃথিবীর সকল উজ্জ্বল চিন্তা-চেতনাধারী আহলে বাইতের অনুসারীদের প্রতি ওয়াজিব, তারা যেন জাতির যুবকদেরকে হক চিনিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নিজেদের সময় ও ধন-সম্পদ ব্যয় করে। কেননা আইম্মায়ে আহলে বাইতগণ কেবল তাদেরই সম্পদ নন, বরং তাঁরা সকল মুসলমানদের জন্যই আইম্মায়ে হুদা (হিদায়েতের ইমাম) এবং অন্ধকার দূরীভূতকারী প্রদীপ।

যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মুসলমানরাই ইমামগণকে চিনবে না, বিশেষ করে আহলে সুন্নাতের উজ্জ্বল চিন্তা-চেতনার যুবকরা তাঁদের বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আহলে বাইতের অনুসারীরা আল্লাহর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে (জবাব দিহি করতে হবে)। অনুরূপভাবে যতক্ষণ মানুষ কাফের ও বেদ্বীন আছে এবং আল্লাহর সেই দ্বীন থেকে অজ্ঞ আছে যেটাকে সৈয়্যেদুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এনে ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সকল মুসলমান আল্লাহর কাছে প্রশ্নবিব্ধ (জবাব দিহি করতে হবে)। চলবে........................ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।