আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঢাকার দুঃখ তিতাস..........................................

আমার বয়স যখন চার কি পাঁচ, তখন থেকে শীতকাল হলেই চুলকানি বাড়ত। মাঝেমধ্যে চুলকানি এমন অবস্থাই পৌঁছাত যে, চুলকাতে চুলকাতে আমার ত্বকের মাঝে ছোট খাটো গর্ত হয়ে যেতো। পরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার শীতকালের সমস্যা কাটতে থাকে। ডাক্তার বলেছিল, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। তাইই হয়েছিলো ।

এতদিনে ওই কষ্টের দিনের কথা ভুলেই গেছিলাম। কিন্তু অনেকদিন পর তিতাস আমাকে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এই জন্য তিতাসের কাছে আমি কৃতজ্ঞ । তবে তিতাসের সাথে আমার এক জায়গাই অমিল আছে, ওর চুলকানি বাড়ে বর্ষাকালে। তার চুলকানি এমন অবস্থাই পৌঁছাই যে,লাজের মাথা খেয়ে, কাপড় চোপড় খুলে রাস্তাই নেমে আসে।

তার লজ্জা না থাকতে পারে, রাস্তার আর মানুষের তো লজ্জা আছে, নাকি? আবার সে গলাই পিঠে সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে রাখে , " গনসাধারনের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত"। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমার চুলকানি সেরে গিয়েছিলো। তিতাসের বয়স কি বাড়ছে না? সে যে গলাই পিঠে সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে ঘুরে " গনসাধারনের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত"; অসুবিধা কি শুধুই সাময়িক? যে সময় সে চুলকাই তখন তো অসুবিধা হয়ই, কিন্তু তারপর যে গর্ত গুলো রয়ে যাই সেগুলো পূরণ করবে কে ? শুধু কি গর্তই রয়ে যাই? তা থেকে কতো বাচ্চা গর্তের সৃষ্টি হয়, তার কি ঠিক আছে?সেই বাচ্চা গুলো সারাবছর ধরে যন্ত্রণা দিতেই থাকে,দিতেই থাকে। হুয়াংহো চীনকে প্রতিবছর প্লাবিত করে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে। প্রতিবছর চীনের দুঃখ বয়ে নিয়ে আসে।

তাই হুয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হয়। তিতাস হুয়াংহো নদীর মতোই ঢাকাবাসীর জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে। বৈশাখে বৃষ্টির জন্য কতো হা হুতাস করা হয়, তিতাস কে কিছুই বলা লাগেনা, সে আপনা থেকে চলে আসে। বরশা আসলেই তিতাসের চুলকানি শুধু বাড়তেই থাকে, শুধু বাড়তেই থাকে। আর সে শুধু চুলকাই আর চুলকাই, গর্ত খুড়তেই থাকে, গর্ত খুড়তেই থাকে।

আর বাড়াই কষ্ট, যন্ত্রণা............ঢাকা এই তিতাস...............। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।