আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দুনিয়াতে আল্লাহকে কোনো আকৃতিতে দেখা সম্ভব কিনা ???

অতএব কষ্টের সাথ সফলতা রয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে সফলতা রয়েছে, অতএব যখনই সময় পাও কঠোর পরিশ্রম কর। {আল-ইনশিরাহঃ৫-৭} আল্লাহ তা’লা কুরআনের ৬নং সূরা আন’আম এর ১০৩ নং আয়াতে এরশাদ করেন, "তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তার অধিগত”" অর্থাৎ চক্ষু আল্লাহকে দেখতে পারেনা বলে এরশাদ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের ৪২ নং সূরা আশ শূরা এর ৫১ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, "কোনো মানুষের জন্যই সম্ভব নয় যে, আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে বা পর্দার আড়াল থেকে ছাড়া তার সাথে কথা বলবেন" এছারাও কুরআনের ৭ নং সূরা আল আরাফ এর ১৪৩ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, "অতপর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলো এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন তখন সে আকূল আবেদন জানালো, হে প্রভু! আমাকে দর্শনের শক্তি দাও, আমি তোমাকে দেখবো৷তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে দেখতে পারো না৷ হাঁ সামনের পাহাড়ের দিকে তাকাও ৷ সেটি যদি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তাহলে অবশ্যি তুমি আমাকে দেখতে পাবে৷ কাজেই তার রব যখন পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন তখন তা তাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিল এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলো" অতএব কুরআন কারীমের এ সকল সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে মুসলিম উম্মাহ একমত যে, পৃথিবীতে কেউ আল্লাহকে দেখতে পারবেনা। রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ (সাঃ) কি আল্লাহর দর্শন লাভ করেছিলেন ??? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে একটি সহীহ হাদীসও বর্ণিত হয়নি, “যাতে তিনি বলেছেন যে, আমি জাগ্রত অবস্থায় পৃথিবীতে বা মি’রাজে চর্ম চক্ষে বা অন্তরের চক্ষে আল্লাহকে দেখেছি। “রাসুলুল্লাহ (সাঃ)আল্লাহকে দেখেছিলেন কিনা সে বিষয়ে তার স্ত্রী আয়েশা (রা) কে '‘মাসরুক্ব'’ নামে একজন তাবেঈ (তাবেঈ মানে অনুসারী, তবে ইসলামের পরিভাষায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের ছাত্রদের বুঝানো হয়) জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, “ তোমার কথা শুনে আমার শরীরের পশম কাঁটা দিয়ে খারা হয়ে গেছে! যে একথা বলে যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহকে দেখেছে সে মিথ্যা বলেছে”।

[ সহীহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদীস নং ৩৩৭ ও ৩৩৯] আবূ যর (রা) বলেন আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করেছি, "“আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তিনি আল্লাহ (নূর), তা আমি কি রূপে দেখব?”" [ সহীহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদীস নং ৩৪১] এ ব্যাপারে ইবনু মাসাউদ (রা) ও অন্যান্য সাহাবীগণ একমত। "পক্ষান্তরে ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মি’রাজের রাত্রিতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে আল্লাহকে দেখেছিলেন। আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে দর্শনের মুজিজা দান করেছিলেন”" [ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ২/৪৭৭-৫৬৩] এখানে আলিমগণ একমত যে, এই দর্শন হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্য একটি বিশেষ মুজিজা, যা আর কারো জন্য নয় এবং এই দর্শন হৃদয়ের অনুভব, যেখানে কোনো আকৃতির উল্লেখ নেই। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহকে কোনো আকৃতিতে দেখেছেন অথবা তিনি ছাড়া কোনো ছাহাবী আল্লাহকে দেখেছেন বলে যা কিছু বর্ণিত সবই জাল ও মিথ্যা। মিরাজের রাত্রিতে বা আরাফার দিনে, বা মিনার দিনে বা অন্য কোনো সময়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার মহান প্রভুর মহিমাময় আল্লাহকে বিশেষ কোনো আকৃতিতে দেখছেন অর্থে সকল হাদীস বানোয়াট।

"যেমন যুবক অবস্থায় দেখেছেন, তাজ পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন, উটের পিঠে বা খচ্চরের পিঠে দেখেছেন... এগুলো সবই বানোয়াট”" [ইবনু ইরাক, তানযীহুশ শরিয়াহ] এছারাও আরেকটি ভিত্তিহীন বাক্য হলো, “"আমি আমার প্রভুকে (আল্লাহকে) একজন দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি এমন যুবক রূপে দেখছি”" [ইবনুল জাওয়ী, আল মাওযূ’আত ১/৮০-৮১; সুয়ূতী, লা-লাআলী ১/২৮-৩১; মুল্লা আল কারী, আল আসরার, ১২৬ পৃ] অনুরূপভাবে উমার (রা) নামে জালিয়াতগণ বানিয়েছেঃ "“আমার প্রভুর নূর দ্বারা আমার অন্তর আমার প্রভুকে দেখেছে”" আলী (রা) নামে জালিয়াতগণ বানিয়েছেঃ “ "যে প্রভুকে আমি দেখিনা সেই প্রভুর আমি ইবাদত করিনা”" [সিররুল আসরার পৃ ৫৭-৫৮] তাই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পূর্ববর্তী নবীদের মতই ইহলৌকিক জীবনে আল্লাহর দর্শন লাভ করার সুযোগ লাভ করেন নি। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।